এবার ক্রীড়া কার্ড পেলেন মোরসালিন-ঋতুপর্ণারা

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশের ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘদিনের অবহেলা, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও চিকিৎসার আক্ষেপ দূর করতে চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই বৈপ্লবিক স্লোগান বাস্তবে রূপ দিতে গত ৩০ মার্চ প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন কৃতী খেলোয়াড়ের হাতে বহুল প্রতীক্ষিত ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফায় ১৭১ জনের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। পল্টনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে শেখ মোরসালিন, ঋতুপর্ণা চাকম ও রোমান সরকারদের হাতে এই কার্ড তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ নিয়ে সব মিলিয়ে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

প্রতি মাসে খেলোয়াড়রা ১ লাখ টাকা করে সরকারের কাছ থেকে অর্থ পাবেন। ক্রিকেট, ফুটবলের বাইরে অন্য সকল খেলোয়াড়রা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় থাকেন। ক্রীড়া কার্ড পেয়ে সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। ক্রীড়া কার্ড হাতে নিয়ে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, দেশের জন্য সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার উৎসাহ অনুভব করছেন তিনি। ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা তাদের এই শক্তিশালী উদ্যোগের জন্য, যা আমাদের দেশের অ্যাথলেটদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন করছে। এই উদ্যোগ আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যেতে, কঠোর লড়াই করতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে; দেশের জন্য আমাদের সেরাটা উজাড় করে দিতে উৎসাহিত করবে।’

নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ ক্রীড়াবিদদের জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়ায়। এটি আমাদের ফুটবলারদেরসহ সকল খেলোয়াড়দের জন্যই অনেক উপকারে আসবে।’ গতকাল ১৮ জন নারী ফুটবলার ক্রীড়া ভাতার আওতায় এসেছে। অধিনায়ক এই সংখ্যা সামনে আরও বাড়ানোর দাবি জানান, ‘আমাদের নারী ফুটবলে আরো অনেকে রয়েছে। তাই সামনে সংখ্যাটা আরো বাড়ানোর অনুরোধ করছি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে। পাশাপাশি আমাদের একটি ভালো ফুটবল মাঠের ব্যবস্থা করারও অনুরোধ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াপ্রেমী। তার একমাত্র কন্যা জাইমা রহমানও ফুটবল ভালোবাসেন। তাই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের মাধ্যমে তাদেরকে বাফুফে ভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আফিদা খন্দকার, ‘আপনার মাধ্যমে জেনেছি জাইমা রহমান একজন ফুটবলার। প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানকে বাফুফেতে আমন্ত্রণ জানাই।’

আফিদা খন্দকারের পর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সিফাত উল্লাহ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাডমিন্টন খেলে কী পাই বা কী করব? এমন অনেক প্রশ্নই শুনতে হতো আগে। এখন এই ভাতা পাওয়ার পর ব্যাডমিন্টনে অনেকেই আগ্রহী হবে এবং কী পাই বা কী করব এটার উত্তর দেয়া যাবে।’ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে মাসিক ভাতা পাওয়ায় তাই অনেকটা স্বস্তিতে হকির তারকা আশরাফুল ইসলাম, ‘হকি একটা সম্ভাবনাময় খেলা। আমাদের ঘরোয়া লিগ অনিয়মিত ফলে খেলোয়াড়দের আয়ের উৎস সীমিত। সরকারের এই ভাতা পাওয়ায় আমরা এখন নিজেরা খেলার প্রতি আরও সচেতন হতে পারব। অন্যরাও জাতীয় দলে খেলার জন্য তীব্র চেষ্টা করবে।’

জাতীয় টেবিল টেনিসে ততোধিকবারের চ্যাম্পিয়ন সোনাম সুলতানা সোমা। ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তে এসে সরকারের এমন সুবিধা পাওয়ায় বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি, ‘খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই প্রয়োজন ছিল। অবশেষে এটি হয়েছে। এখন খেলোয়াড়রা প্রকৃত অর্থেই পেশাদার হয়ে খেলায় পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারবে, অন্য কিছু ভাবতে বা করতে হবে না।’ এবারের ১৭১ জনের তালিকায় সবথেকে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ফুটবল ও হকি। পুরুষ ও নারী ফুটবল দল থেকে ৩৬ জন এবং জাতীয় হকি দল (পুরুষ ও নারী) থেকে ৩৬ জন এই কার্ড পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো গঠিত হওয়া জাতীয় নারী হকি দলও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই স্বীকৃতি নারী হকি দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ভলিবল (১৪ জন), দাবা (১১), আর্চারি (১১), ভারোত্তোলন (১০), হ্যান্ডবল (১০), জিমন্যাস্টিকস (৯) সহ মোট ১৮টি ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। শুধু জাতীয় দল নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বয়ে আনা জুনিয়র অ্যাথলেটদেরও মূল্যায়ন করছে সরকার। সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণজয়ী সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামকে বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও এক লাখ টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনা হবে। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়। প্রতি চার মাস পর পর ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে এবং তার ভিত্তিতে ভাতার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। অর্থাৎ, পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলেই কেবল খেলোয়াড়রা এই মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা এবং কার্ডের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। দ্বিতীয় দফায় ক্রীড়া ভাতায় কোন খেলার কতজন: ফুটবল (পুরুষ ও নারী): ৩৬, হকি (পুরুষ ও নারী): ৩৬, ভলিবল: ১৪, দাবা: ১১, ?আর্চারি: ১১, ভারোত্তোলন: ১০, হ্যান্ডবল: ১০, জিমন্যাস্টিকস: ৯, সাঁতার: ৬, টেবিল টেনিস: ৫, শুটিং স্পোর্ট: ৫, সাইক্লিং: ৪, উশু: ৪, জুডো: ৩, কিকবক্সিং: ২, টেনিস: ২, বডি বিল্ডিং: ২ ও ট্রায়াথলন: ১।