এম্পাওয়ার ফিল্ডে মেসির জাদু দেখলেন ৭৬ হাজার দর্শক

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

কলোরাডো র‌্যাপিডসের ঘরের মাঠের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ১৮ হাজারের একটু বেশি। অস্থায়ী চেয়ার বসিয়ে যা সাড়ে ১৯ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো যায়। লিওনেল মেসিকে চোখের সামনে দেখার আগ্রহ তো কয়েক গুণ বেশি মানুষের! ম্যাচটি তাই সরিয়ে নেওয়া হলো ডেনভারের এম্পাওয়ার ফিল্ডে, দর্শক ধারণ ক্ষমতা যেখানে ৭৬ হাজারের একটু বেশি। প্রায় পরিপূর্ণ সেই গ্যালারির দর্শকদের জন্য মেসি মেলে ধরলেন তার জাদুর প্রদর্শনী। ম্যাচের শুরুর দিকে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন মেসি, শেষ দিকে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া দুর্দান্ত গোলটিও তার। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে কলোরাডা র‌্যাপিডসকে ৩-২ গোলে হারায় ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের অফিসিয়াল দর্শক উপস্থিতি ৭৫ হাজার ৮২৪ জন। মেজর লিগ সকারের এক ম্যাচে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতি। ঘরের দলকে হারতে দেখলেও মেসির নৈপুণ্যে নিশ্চয়ই মন ভরেছে এই দর্শকদের।

৮২ হাজার ১১০ দর্শকের রেকর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সি ও লস অ্যাঞ্জেলস এফসির ম্যাচে। মায়ামির ম্যাচে আগের রেকর্ড ছিল গত ফেব্রুয়ারিতেই লস অ্যাঞ্জেলস এফসির বিপক্ষে ম্যাচে ৭৫ হাজার ৬৭৩ জন। মেজর লিগ সকারের দর্শক উপস্থিতির তালিকায় শীর্ষ দশের তিনটিই হয়েছে এ বছর। গত মাসেই ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে মেসিদের ম্যাচে দর্শক ছিল ৭২ হাজার ২৬ জন। কাকে দেখার জন্য দর্শকের এমন ঢল, তা নিশ্চয়ই আলাদা করে বলে দিতে হবে না! মেসির কারণে ঘরের মাঠ ছেড়ে অন্য কোনো বড় মাঠ বেছে নেওয়ার ঘটনাও এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে।

র‌্যাপিডসের বিপক্ষে এ দিন ১৮তম মিনিটে পেনাল্টিতে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান এই মৌসুমেই দলে যোগ দিয়ে দারুণ খেলতে থাকা হার্মান বের্তেরামে। ৫৮ ও ৬২তম মিনিটে গোল করে মায়ামিকে স্তম্ভিত করে দেয় র‌্যাপিডস। কিন্তু সেই স্কোরলাইন তারা ধরে রাখতে পারেনি, কারণ প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন একজন মেসি। ৭৯তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের কাছ থেকে বল পান তিনি মাঝমাঠের একটু ওপরে। সেখান থেকে বিনা বাধায় বাঁ পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়েন বক্সে। সামনে ছিল তিন ডিফেন্ডার। তাদেরকে কিছু বুঝতে না দিয়ে আচমকা তাদের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। ৮৭তম মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মায়ামির ইতালিয়ান মিডফিল্ডার ইয়ানিক ব্রাইট। যোগ করা সময়সহ পরের ১০ মিনিটে ১০ জন নিয়ে খেলেও বিপদে পড়েনি মায়ামি।

মায়ামির ম্যাচের সাধারণ বলের নিয়ন্ত্রণে বেশির ভাগ সময় এগিয়ে থাকে তারাই। এই ম্যাচে ছিল ব্যতিক্রম। ম্যাচের ৬০ শতাংশ সময় বল ছিল র‌্যাপিডসের কাছে। গোলে ১০টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখে তারা ৪টি। মায়ামি গোলে শট নেয় ৫টি।। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৩টি, কাজে লাগায় তারা প্রতিটিই। কোচের দায়িত্ব থেকে হাভিয়ের মাসচেরানোর আচমকা বিদায়ের পর এটিই ছিল মায়ামির প্রথম ম্যাচ। ভারপ্রাপ্ত কোচ গিয়ের্মো ওশো শুরু করলেন জয় দিয়ে। বার্সেলোনার একাডেমির কোচ থাকার সময় তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন ও গড়ে তুলেছিলেন কিশোর মেসিকে। এত বছর পর সেই মেসির প্রতিই আবার মুগ্ধতা জানালেন তিনি এই জয়ের পর। ‘আমাদের ১০ নম্বর (জার্সির) ফুটবলারকে যে জাদু দিয়েছেন ঈশ্বর, সেটিই আমাদের শক্তি। ম্যাচে ২-২ সমতার পর আমাদের খেলার কৌশল বদলাতে হয়েছিল এবং দল দারুণভাবে সাড়া দেয়। আবারও বলছি, (আলাদিনের) চেরাগটি ঘষা হয়েছিল, আর সেখান থেকেই সেই গোলটি বেরিয়ে আসে, যা শুধু সে-ই (মেসি) করতে পারে। তার মতো একজনে পাওয়া বিরাট এক আশীর্বাদ।’