‘আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে’
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ টস করতে যাওয়ার সময়েও একাদশে ছিলেন না শরিফুল। এরপর মোস্তাফিজের চোটে আচমকা একাদশে জায়গা হয় শরিফুল ইসলামের। ১৬ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে দুর্দান্ত বোলিং করেন এই বাঁহাতি পেসার। তবে বাংলাদেশ ২৫ রানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে গেছে। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ফেরার লড়াই টাইগারদের। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসেন প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার শরিফুল ইসলাম। তিনি ভালো বোলিং করলেও ২৬ রানে ম্যাচটা হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
কখন জানতে পারলেন একাদশে আছেন, প্রশ্নে শরিফুল বলেন, ‘টস হওয়ার হয়তো দুই এক সেকেন্ড আগে আমাকে বলল যে আমি খেলব।’ আচমকা এমন সুযোগ পেয়ে সতীর্থদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন তিনি, সেখানে রিশাদ বলছিলেন রিজিকে ছিল তাই হয়েছে। শরিফুল বলেন, ‘রিশাদ বলছিল হয়তো তোমার রিজিকে আছে। আমি ওভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি তারপর রানআপ মেপেছি, ওয়ার্মআপ বোলিং করেছি। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ রিজিকে রেখেছিল ।’
দ্বিতীয় ম্যাচটা তাই শরিফুলদের জন্য হয়ে গেছে সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। বাঁহাতি পেসার মিরপুরে শোনালেন আশার কথাই, ‘এখনও আমাদের হাতে দুইটা ম্যাচ আছে। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্য আছে। একটা ম্যাচে হয়তো আমরা ভুল করেছি। তারা অবশ্যই ভালো দল, আমরাও ভালো দল। পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াব।’
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়ানডে খেলেছিলেন শরিফুল। এই সময়ে নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত রেখেছেন প্রশ্নে শরিফুলের উত্তর, ‘শেষবার ওয়ানডে খেলেছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তারপর একটা গ্যাপ ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দলের বাইরে ছিলাম। কিন্তু আমি সবসময় বেসিক কাজগুলা করার চেষ্টা করি আর সুযোগ আসলে ভালো করার চেষ্টা করি। নিজের সঙ্গে লড়াই করেছি সুযোগ আসলে আলহামদুলিল্লাহ ভালো করার চেষ্টা করছি।’ তবে নিজে ভালো করলেও দল না জেতায় আক্ষেপ আছে শরিফুলের, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমি ব্যক্তিগতভাবে মোটামুটি একটা বোলিং করছি কিন্তু দিন শেষে আমরা ম্যাচটা হেরেছি সেক্ষেত্রে অবশ্যই খারাপ লাগার একটা বিষয় আছে। উইকেট কন্ডিশন বা ওয়েদার কন্ডিশন যেটা বলেন সেটা তো আমাদের হাতে নাই যেভাবে আমাদেরকে দিবে সেভাবেই খেলতে হবে সো এই প্রিপারেশন নিয়েই আছি।’
মোস্তাফিজের চোটের কারণে সুযোগ পেয়ে ভালো করলেও পরের ম্যাচে শরিফুল খেলবেন না কিনা নিশ্চিত না। দলে পেসারদের এমন সুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে এই বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমরা যে ১৫ জন স্কোয়াডে আছি সবাই প্রস্তুত থাকি ম্যাচ খেলার জন্য। এখন কোচ সিদ্ধান্ত নেবে (কে খেলবে আর কে খেলবে না)। আমরা সবাই প্রস্তুত আছি আর এটা তো আমার হাতে নেই (নিজের খেলা)। উনারা যে টিম দিবে সেই টিম নিয়েই আমরা মাঠে নামবো।’
দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যাটসম্যানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ২২১ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। তাদের ওপর অবশ্য কোনো দায় দিতে রাজি নন শরিফুল। ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে শরিফুল আর কী বলবেন, শুধু বললেন, ‘হেরে গেলে আমাদেরও খারাপ লাগে ব্যাটসম্যানদেরও খারাপ লাগে।’ বরং ব্যাটসম্যানদের দায় কমাতেই হয়তো আরও ভালো বোলিং করার তাগিদ অনুভব করছেন, ‘আমরা যদি আরেকটু ভালো বোলিং করতাম, হয়তো তাদের জন্য সহজ হতো। পরের ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো করবে, আমাদের সমর্থন দেবে। আমরাও তাদের সাপোর্ট দেব দলগতভাবে আমরা ম্যাচ জিতব।
ক্রিকেট খেলায় এ রকম আসেই এক বিভাগ ভালো করে, অন্য বিভাগ ব্যর্থ হয়। এটা নিয়ে আমরা আশাবাদী যে পরের ম্যাচে ভালো করব।’
