নাহিদের গতি তানজিদের ঝড়ে সমতায় বাংলাদেশ
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

তৃতীয় সারির দল নিয়ে এবার বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। খর্বশক্তির এই দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে হোঁচট খেয়েছে স্বাগতিকরা। সিরিজ বাঁচাতে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে। এমন সমীকরণের ম্যাচে জ্বলে উঠলেন পেসার নাহিদ রানা। অসাধারণ ফাস্ট বোলিংয়ের প্রদর্শনীতে নাহিদ ভেঙে দিলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। রান তাড়ায় ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিলেন তানজিদ হাসান। ৬ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে কিউইরা গুটিয়ে যায় ১৯৮ রানে। জবাবে ১৯৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ৩৫.৩ ওভার লেগেছে টাইগারদের। ৫৮ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে দলের ব্যাটিং হিরো তানজিদ। অবশ্য সহজ জয়ের রাস্তা আগেই করে রেখেছিলেন নাহিদ রানা। প্রচণ্ড গরমে গতির ঝড়ে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা পারফর্মার তিনি। ১০ ওভার বোলিংয়ে নাহিদেরর স্রেফ একটি স্লোয়ার ডেলিভারির গতি ছিল ১১২ কিলোমিটার, বাকি সব ডেলিভারি ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে।
গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষেও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ওয়ানডেতে ২ দফায় ৫ উইকেট নিতে পেরেছেন বাংলাদেশের আর কেবল মুস্তাফিজুর রহমান। রান তাড়ায় বাংলাদেশ জিতে যায় ৮৭ বল বাকি রেখেই। আগের ম্যাচে ব্যর্থ তানজিদ এবার ৫৮ বলে করেন ৭৬। বাউন্ডারি থেকেই আসে ৬৪ রান (১০ চার ও ৪ ছক্কা)। ১৩ ইনিংসের খরা কাটিয়ে ফিফটি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭১ বলে ৫০ রান করে তিনি মাঠ ছাড়েন ক্র্যাম্প করায়।
টস ভাগ্য এ দিনও পাশে পায়নি বাংলাদেশ। তবে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডকে শুরুতে চেপে ধরেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। প্রথম চার ওভারে রান আসে তিন। পরের তিন ওভারে ২২ রান নিয়ে যখন কিছুটা ডানা মেলার চেষ্টায় কিউইরা, নাহিদ রানা আক্রমণে এসেই ছেঁটে দেন তা। প্রথম বলেই প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার গতির দারুণ ডেলিভারিতে বিদায় করেন তিনি হেনরি নিকোলসকে (১৩)। তার পরের ওভারের প্রথম বলে ১৪৬.৮ কিলোমিটার গতির বাড়তি বাউন্স সামলাতে পারেননি উইল ইয়াং (২)। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে নিউজিল্যান্ড তোলে ২৮ রান। অভিজ্ঞ টম ল্যাথাম পারেননি দলকে টেনে তুলতে। একাদশে ফেরা সৌম্য সরকারের ফিরিয়ে দেন ক্?িউই অধিনায়ককে। অষ্টাদশ ওভারে কিউইদের রান তখন ৩ উইকেটে ৫২। ওপেনার নিক কেলি তখনও একটা প্রান্ত আঁকড়ে ছিলেন। শুরুতে ৩০ বলে রান ছিল তার ১০। পরে কিছুটা খোলস থেকে বের হতে পারেন তিনি। চতুর্থ অর্ধশত রানের জুটি গড়ে তোলেন মুহাম্মাদ আব্বাসকে নিয়ে।
জুটি ভাঙতেই নাহিদকে দ্বিতীয় স্পেলে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক। আবারও প্রথম ওভারেই হাসি ফোটান তিনি অধিনায়কের মুখে। ১৪৬.১ কিলোমিটারের বাউন্সারে পুল করার চেষ্টায় গড়বড় করেন আব্বাস (১৯), অনেকটা দৌড়ে গিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস। মন্থর শুরুটাকে অনেকটাই পুষিয়ে দিয়ে ৬৬ বলে ফিফটি করেন কেলি। আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তিনি ডিন ফক্সক্রফটকে নিয়ে। সেই জুটি ৩৭ রানে থামান শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি পেসারের শর্ট বলে থেমে যায় কেলির ১৪ চারে কেলির ৮৩ রানের (১১৪ বলে) ইনিংস। এরপর আর বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি নিউ জিল্যান্ড। বলা ভালো, গড়তে দেননি নাহিদ। কিউইদের আগের ম্যাচের নায়ক ফক্সক্রফট এবার করতে পারেন ৩৫ বল খেলে মাত্র ১৫ রান। নতুন স্পেলে ফিরে প্রথম বলে তাকে বিদায় করেন নাহিদ। এর আগেই রিশাদ হোসেনের টার্ন ও বাউন্সে পয়েন্টে ক্যাচ দেন জশ ক্লার্কসন। নিজের শেষ ওভারে জেডন লেনক্সকে দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড করে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ। সঙ্গে শরিফুল ও তাসকিনরা মিলে দুইশর নিচে আটকায় নিউ জিল্যান্ডকে। রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম তিন বলেই ন্যাথান স্মিথে দুটি বাউন্ডারিতে শুরু করেন সাইফ হাসান। ওভারেই শেষ বলেই তিনি বোল্ড হয়ে যান, তা পা ছিল ক্রিজে আটকে। একাদশে ফেরা সৌম্য সরকার ক্রিজে যাওয়ার পরপর চোখ ধাঁধানো এক শট ছক্কা মারলেও ওই ওভারেই স্লিপে ধরা পড়েন প্রিয় পেরিস্কোপ শটে। ছোট লক্ষ্য তাড়ায়ও শঙ্কায় বাংলাদেশ। তবে তানজিদের স্ট্রোকের ছটায় দ্রুতই কেটে যায় শঙ্কার আঁধার। স্মিথকে দুটি ছক্কা মারেন তিনি দুর্দান্ত দুটি শটে। নতুন ব্যাটসম্যান শান্তও দুটি চার আদায় করেন দ্রুতই। দলের রান বাড়তে থাকে তরতরিয়ে। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারিতে ছুটতে থাকেন তানজিদ। ফক্সক্রফটের বলে ছক্কায় ফিফটি করে ফেলেন ৩৩ বলেই। শান্তর সঙ্গে তার জুটি পেরিয়ে যায় শতরান। জুটি শেষ পর্যন্ত থামে ১১০ বলে ১২০ রান করে। লেনক্সের বলে ছক্কা মারার পরের বলেই পুনরাবৃত্তির চেষ্টায় উইকেট হারান তানজিদ। দলের জয় ততক্ষণে অনেকটাই নিশ্চিত। শততম ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ছাপ রাখার সুযোগ হারান লিটন বাজে শটে। ফিফটির পর ক্র্যাম্প করায় ক্রিজ ছাড়েন শান্ত। মিরাজকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন তাওহিদ হৃদয়।
