গতির ঝড় তুলে ফের ৫ উইকেট শিকার নাহিদের
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রথম সারির খেলোয়াড়দের ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের ২৬ রানে হারিয়েছে খর্বশক্তির কিউই দল। সে ম্যাচে নিজের জাত চেনাতে পারেননি লাল সবুজ দলের পেসার নাহিদ রানা। ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে উইকেট পেয়েছিলেন মাত্র ১টি। তবে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নাহিদ রানার ভিন্ন রুপ দেখল নিউজিল্যান্ড। মন্থর, অসমান বাউন্সে গতির ঝড় তুললেন বাংলাদেশের এই স্পিড স্টার। পেস আর বাউন্সে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের নাকাল করে ছাড়লেন। প্রচণ্ড গরমেও একজন ফাস্ট বোলার এমন গতির ঝড় তুলছেন, নিজের শেষ ওভারেও সেই গতি ধরে রাখছেন, অতিমানবীয় বললেও যেন কম বলা হয়। বৈশাখের খরতাপে প্রকৃতি যেন ঝলছে যাচ্ছে এখন। তবে এর চেয়েও বেশি তেজ যেন নাহিদ রানার বোলিংয়ে। সেই আগুনে পুড়ে খাক নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩২ রানে তার শিকার ৫ উইকেট। এটিও অবশ্য তার সেরা বোলিং নয়। গত মাসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এই মিরপুরেই। ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ওয়ানডেতেই একাধিকবার ৫ উইকেটের কীর্তি আছে বাংলাদেশের আর কেবল মোস্তাফিজুর রহমানের। তবে স্রেফ উইকেট সংখ্যা বা দারুণ অর্জনের কথা বললেও বলা হয় না কিছুই। বাংলাদেশের একজন ফাস্ট বোলার ব্যাটসম্যানদের গতিতে কাঁপিয়ে দিচ্ছেন, বাউন্সারে নাড়িয়ে দিচ্ছেন, ইয়র্কারে নুইয়ে দিচ্ছেন, এ দেশের ক্রিকেট অনুসারীদের জন্য কী আনন্দময় দৃশ্য!
নাহিদ অবশ্য এরকম কিছু আগেও দেখিয়েছেন। এবারের পারফরম্যান্স তবু স্পেশাল কন্ডিশনের কারণে। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় শুরু ম্যাচে প্রচণ্ড রোদে পরিবেশ একরকম অসহনীয়। ফাস্ট বোলারদের তো শরীরের ওপর ধকল যায় আরও বেশি। কিন্তু নাহিদকে যেন স্পর্শ করতে পারেনি কিছ্?ু। ক্লান্তি-শ্রান্তি তাকে কাবু করতে পারেনি। প্রতিটি ডেলিভারিতেই ঢেলে দিয়েছেন নিজের সবটুকু। ফাস্ট বোলারদের জন্য এমনিতে নতুন স্পেলে ছন্দ পেতে শুরুতে কিছুটা সময় লাগে। অথচ নাহিদ এ দিন প্রতিটি স্পেলেই প্রথম ওভারে নিয়েছেন উইকেট। ১টি ওয়াইডসহ যে ৬১টি ডেলিভারি তিনি করেছেন এই ম্যাচে, অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, স্রেফ একটি স্লোয়ার ডেলিভারি (১১২ কিলোমিটার) ছাড়া বাকি সব ডেলিভারি ছিল ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির। এই কন্ডিশনে স্রেফ অবিশ্বাস্য।
সেই গতি স্রেফ গতিময়তার জন্যই নয়, দারুণ কার্যকরও ছিল।
