শিরোপা দৌড়ে কিংসের পাশে আবাহনী
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

রেফারির খেলা শুরুর বাঁশি বাজতে না বাজতেই ফর্টিজের জালে আবাহনীর গোল। প্রাণপন লড়াইয়ে সেই গোলের লিড ধরে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে মারুফুল হকের দল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা দৌড়ে ফর্টিজকে টপকে এগিয়ে গেছে ধানমন্ডির ক্লাবটি। গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার ভাষা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফর্টিজকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনী। এই জয়ে ফর্টিসকে লিগ শিরোপা লড়াইয়ে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের ওপর চাপ বাড়াল মারুফুল হকের দল। ২৮ করে পয়েন্ট কিংস ও আবাহনীর, তবে কিংস ম্যাচ খেলেছে একটি কম। চতুর্দশ রাউন্ডে এই হারে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ফর্টিস। শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করার হাতছানিতে মাঠে নেমে শুরুতে ওই সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে যায় আবাহনী।
পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে নিতে আবাহনীর রক্ষণে চাপ দিতে থাকে ফর্টিস এফসি। সেরা সুযোগটি তারা তৈরি করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪২তম মিনিটে বাইলাইনের একটু ওপর থেকে ডাওয়া তিসেরিংয়ের আড়াআড়ি ক্রসের নাগাল পাননি মিতুল মারমা, বল চলে যায় গোলমুখে ফাঁকা থাকা ইসা জালোর কাছে; কিন্তু অভাবনীয়ভাবে হেডে ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন গাম্বিয়ান এই মিডফিল্ডার। পরের মিনিটে আবারও সুযোগ হাতছাড়া হয় ফর্টিসের। এবার বক্সের ভেতর থেকে নিজে শট না নিয়ে ইসা জালো বাড়ান বাম দিকে ফাঁকায় থাকা ওনিয়েকাচি ওকাফোরকে; কিন্তু নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ডের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের খেলায় গতি কমে। আবাহনী গোল আগলে রাখার দিকে ছিল মনোযোগী। ৬৬তম মিনিটে ইসা জালোর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়াল পেরুলেও, আটকে দেন মিতুল।
৭৯তম মিনিটে কর্নার আটকাতে মিতুল লাফিয়ে উঠেছিলেন, সেসময় পেছন থেকে ইসা জালো শট নিতে পা চালালে মিতুলের পিঠে লাগে। মাঠে পড়ে যান তিনি। তবে চোট গুরুতর না হওয়ায় কিছুটা সময় চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যান মিতুল। শেষ দিকে আরও চাপ বাড়ায় ফর্টিস। যোগ করা সময়ে ওকাফোরের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যাওয়ার পরপরই বাজে শেষের বাঁশি। দলের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দিতে মাঠে ঢুকে পড়েন আবাহনী সমর্থকরা।
দিনের আরেক ম্যাচে মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জকে ১-০ গোলে হারায় আরামবাগ। এই জয়ে রেলিগেশন জোন থেকে বেরিয়ে গেল মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। ১৪ খেলায় তিন জয় চার ড্র এবং এবং সাত হারে ১৩ পয়েন্ট শেখ জাহিদুর রহমানের দলের। তারা অবস্থান করছে তালিকার আটে। এক ম্যাচ কম খেলা এবং অবনমন অঞ্চলে থাকা পিডব্লুডির পয়েণ্টও সমান ১৩। তবে গোলগড়ে এগিয়ে রয়েছে আরামবাগ। ১৯ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের চারে পুরান ঢাকার ক্লাব রহমতগঞ্জ।
