এবার বাংলাদেশের সামনে টি-টোয়েন্টি ‘পরীক্ষা’
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

পিছিয়ে পড়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বাংলাদেশ দল। আত্মবিশ্বাসী টাইগারদের সামনে এবার টি-টোয়েন্টি পরীক্ষা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আগামীকাল রোববার কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে লিটন দাসের দল। ওয়ানডে সিরিজ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে ভালো করবে এমনটাই বিশ্বাস দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের। গতকাল শনিবার অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন মুশতাক। দলের অবস্থা জানাতে গিয়ে মুশতাক বলেছেন, ‘জয় সবসময়ই ভালো অনুভূতি দেয়। ড্রেসিং রুম এখন খুবই আনন্দময়।’ তবে উন্নতির সুযোগ আছে জানিয়ে মুশতাক যোগ করেন, ‘কোচ হিসেবে আমরা সব সময় উন্নতির জায়গা খুঁজি। জিতলেও অন্তত ১ শতাংশ উন্নতির সুযোগ থাকে। টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর। টি-টোয়েন্টি তরুণদের জন্য এটা নিজেদের প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ। একই সঙ্গে আমরা বেঞ্চ স্ট্রেংথ শক্ত করতে চাই। বিশ্বকাপের আগে সবাই যেন পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলে প্রস্তুত থাকে। জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।’
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে নামছে গত বছরের ডিসেম্বরের পর। মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থাকলেও সরকারের অনুমতি না থাকা যেতে পারেননি। ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ। লম্বা এই সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে দুই ফরম্যাটেই ভালো করতে মুখিয়ে মুশতাক, ‘লক্ষ্য খুব পরিষ্কার, সাদা বলের ক্রিকেটকে শক্তিশালী করা। টি-টোয়েন্টি তরুণদের আত্মবিশ্বাস দেয়। সাকলায়েন, রিপনদের মতো নতুনরা আসছে। এই ফরম্যাটে ভালো করলে তারা ওয়ানডেতেও সুযোগ পাবে। তাই টি-টোয়েন্টি এখন দল গড়ার এবং বেঞ্চ স্ট্রেংথ শক্ত করার বড় প্ল্যাটফর্ম।’
মুশতাকের মূল কাজ স্পিনারদের নিয়ে। টি-টোয়েন্টি দলে নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান যোগ দিয়েছেন। আগের থেকেই আছেন রিশাদ হোসেন। স্পিনারদের নিয়ে মুশতাক বলেছেন, ‘তারা দারুণ করছে। স্পিনাররা খুব ভালো বল করছে, যদিও পেসাররাও উইকেট পাচ্ছে। উইকেটে কিছুটা টার্ন আছে। এই ধরনের পিচে বল ঘোরাতে হলে ভালো রেভস দরকার। গত ম্যাচেও দেখেছেন, উভয় দলের স্পিনাররাই বল ঘোরাতে পেরেছে।’ স্কোয়াডে একাধিক স্পিনার থাকায় দল বাছাই করা একটু কঠিনই। তবে কঠিন কাজটা কোচ, অধিনায়ক ও নির্বাচকদের কোর্টে ঠেলে দিলেন মুশতাক, ‘একাদশ ঠিক করা কোচ, অধিনায়ক ও নির্বাচকদের কাজ। তবে আমার কাজ হলো সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা।’
সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে আলাপকালে মুশতাককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি রিশাদ কীভাবে সামলাচ্ছেন। মুশতাক বলেন, ‘এটি তার উন্নতিরই একটি অংশ। মাঝেমধ্যে যখন আপনি দলের বাইরে থাকেন, তখন আপনার মানসিকতা কেমন থাকে? তার মনকে শক্ত করা কোচ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পুরোটাই টেম্পারামেন্টের বিষয়। অন্য সবকিছুর চেয়ে এটি আসলে একটি মানসিক খেলা। কারণ স্কিল আপনাকে এখানে নিয়ে আসতে পারে, কিন্তু এখানে টিকে থাকার জন্য মানসিকতার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকে থাকতে হলে আপনাকে শক্ত মানসিকতার অধিকারী হতে হবে।’
তিনি আরও মনে করেন যে, প্রথম দুই ওয়ানডেতে রিশাদ ভালো বোলিং করেছেন, ‘আমি মনে করি রিশাদের সঙ্গে কোচ হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব, তাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করা। তাকে মূলত বাদ দেওয়া হয়নি। শেষ ওয়ানডেতে সে খুব ভালো বোলিং করেছে, কিন্তু আমরা শুধু স্পিন আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করতে চেয়েছিলাম। তাই আমরা সব স্পিনারকে কিছু ম্যাচ খেলাতে চাই। সুতরাং হ্যাঁ, আমাদের দায়িত্ব হলো যখন কেউ খেলছে না, তারা যেন মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকে তা নিশ্চিত করা।’
এদিকে ইশ সোধি তার ক্যারিয়ারে ১৪০টি টি-টোয়েন্টি খেললেও বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি খেলার অপেক্ষায় আছেন। রিশাদের সঙ্গে তার সাদৃশ্য এবং বাংলাদেশের এই লেগ-স্পিনারকে তিনি অনুসরণ করছেন কি না, তা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। রিশাদ সম্পর্কে সোধি বলেন, ’আমি মনে করি অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে গিয়ে এত ভালো বোলিং করা প্রমাণ করে যে সে সত্যিই একজন বৈচিত্র্যময় স্পিন বোলার। কখনও কখনও আপনি দেখবেন এশিয়ান লেগ-স্পিনাররা কিছুটা নিচু এবং স্কিডি বোলিং করেন। কিন্তু সে বেশ প্রথাগত; সে বলের ওপর জোর দিয়ে বাউন্স আদায় করে নিতে পারে। সম্ভবত এই অঞ্চলের বোলারদের মধ্যে এমন ধরন অনেক দিন দেখা যায়নি।’
নিউজিল্যান্ডের এই তারকা জানান যে, রিশাদের সঙ্গে তার বার্তা আদান-প্রদানও হয় এবং তিনি আশা করেন এই লেগ-স্পিনার টেস্ট ক্রিকেটে সুযোগ পাবেন, ‘সে একজন দারুণ সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় এবং বলে প্রচুর রেভস (ঘূর্ণন) দিতে পারে। মাঝেমধ্যে ইনস্টাগ্রামে তার সঙ্গে আমার কথা হয়। এখানে এমন একটি যোগাযোগ থাকা বেশ দারুণ এবং আমি মনে করি তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। আশা করি সে টেস্ট ক্রিকেটেও জায়গা করে নেবে। লেগ-স্পিনকে আবার টেস্ট ক্রিকেটে দেখাটা সত্যিই দারুণ হবে, যা আজকাল বেশ বিরল, তাই না? তবে সেটি করার মতো দক্ষতা অবশ্যই তার আছে।’
