কিংসের ত্রাতা দোরিয়েলতন মোহামেডানের বড় জয়
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

পয়েন্ট টেবিলে পিছু ধাওয়া করছে ঢাকা আবাহনী। তাই নিজেদের জায়গা সুসংহত করতে জয় প্রয়োজন ছিল বসুন্ধরা কিংসের। কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ত্রাতা হিসেবে অবিভূত হলেন দোরিয়েলতন। এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের একমাত্র গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়েছে কিংস। দিনের অন্য ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ৩-১ গোলে পিডাব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবকে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল শনিবার বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের কিংস অ্যারেনায় ১-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। এই জয়ে আবাহনীর সঙ্গে ৩ পয়েন্টের ব্যবধান ফিরিয়ে আনল তারা। ১৪ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কিংস। আবাহনী ২৮ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে।
ব্রাদার্স শুরু থেকে খেলতে থাকে রক্ষণ জমাট রেখে। প্রথম লেগের দেখায় ৫-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া গোপীবাগের দলটিকে সপ্তদশ মিনিটে প্রথম পরীক্ষা নেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শট নেন ফাহিম, ফিস্ট করে প্রতিহত করেন ইসহাক আকন্দ। ২২তম মিনিটে এগিয়ে যায় কিংস। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা রাকিব হোসেনের শট ইসহাক ফেরানোর পরই বক্সের বাইরে তালগোল পাকান ব্রাদার্সের দুই ডিফেন্ডার সিফাত ও মুনির। বল নিয়ন্ত্রণ কে নেবেন-দুজনের এই দোটানার মধ্যেই সাদ উদ্দিন মাঝ দিয়ে বল নিয়ে বেরিয়ে যান। তার ক্রস থেকে প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন দোরিয়েলতন।
চলতি লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আগে থেকেই শীর্ষে দোরিয়েলতন। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের গোল হলো ১৪টি। ৯ গোল নিয়ে তার পরে আছেন আবাহনীর ফরোয়ার্ড সুলেমানে দিয়াবাতে। সাত মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে মুনিরের লং পাস আটকাতে বক্সের বাইরে এসে হাত দিয়ে ধরে বসেন অভিজ্ঞ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। অমন কাণ্ড ঘটিয়ে নিজেরই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না জিকোর।
বক্সের ঠিক ওপর থেকে জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়ালে লেগে কর্নার হয়। সেই কর্নার ক্লিয়ার করেন দোরিয়েলতন। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের আক্রমণে তেমন ধার ছিল না। একমাত্র গোলটি আগলে রাখাতেই মনোযোগী ছিল কিংস।
দিনের অন্য ম্যাচে তীব্র গরম সইয়ে দুর্দান্ত লড়াই করল মোহামেডান ও পিডাব্লিউডির খেলোয়াড়রা। মোহামেডান শিবিরে শেষ দিকে উঁকি দিল পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা। তবে সব আশঙ্কা উড়িয়ে প্রত্যাশিত জয় পেল সাদাকালো জার্সিধারীরা। গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে লিগের চতুর্দশ রাউন্ডে ৩-১ গোলে জিতেছে মোহামেডান। জুয়েল মিয়া দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর শেষ দিকে সমতা ফেরান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এরপর, মোজাফ্ফর মোজাফ্ফর ও রাফায়েল টুডুর গোলে জয় নিশ্চিত হয় মোহামেডানের। বিবর্ণতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার মরিয়া চেষ্টা করছে মোহামেডান। কোচ আলফাজ আহমেদের বিদায়ের পর, আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর হাত ধরে লিগে টানা দুই জয় পাওয়া দলটি ১৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে পঞ্চম স্থানে। মোহামেডানের শুরুটা হয় আশা জাগানিয়া। পঞ্চদশ মিনিটে ডান দিক থেকে আরিফ হোসেনের বাড়ানো ক্রসে দারুণ হেডে কাছের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন জুয়েল। গোলকিপার রাহুল হোসেন প্রতিরোধের কোনো সুযোগই পাননি।
পিছিয়ে পড়ার পর মরিয়া হয়ে ওঠে পিডাব্লিউডি। ১৯তম মিনিটে পিডাব্লিউডির আলি উজাইরের জোরাল ফ্রি কিক ফিরিয়ে মোহামেডানকে স্বস্তিতে রাখেন গোলকিপার মাহিন হোসেন। ৩৮তম মিনিটে বাম দিকের পোস্টের খুব কাছাকাছি থেকে জোনাথন সান্তানা লাফিয়ে উঠে বলের সঙ্গে সংযোগ করতে পারেননি। একটু পর বক্সের ঠিক ওপরে মোহামেডানের মিনহাজুর আবেদিন রাকিবের হাতে বল লাগে। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার জোনাথনের ফ্রি কিক প্রতিহত হয় রক্ষণ দেয়ালে লেগে। সমতায় ফেরার সেরা সুযোগ পিডাব্লিউডি নষ্ট করে ৪১তম মিনিটে। রক্ষণের দুর্বলতায় বক্সে বল পেয়ে যান মোহাম্মদ শরীফ, মাহিনকে একা পেয়েও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই মিডফিল্ডার। তার শটে বেরিয়ে যাওয়া বলের পেছনে ছুটলেও পাকিস্তানের মিডফিল্ডার আলি উজাইর পারেননি দরকারি টোকা দিতে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জুয়েলের পাস ধরে সৌরভ দেওয়ান শরীর পুরোটা ঘুরিয়ে শট নেন, কোনোমতে বল আটকে দিলেও গ্লাভসে জমাতে পারেননি রাহুল।
দ্বিতীয়ার্ধেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ দেওয়া পিডাব্লিউডি সমতায় ফিরে ৮৫তম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বল তারেক মারাত ব্যাক-হিল ফ্লিকে বের করে দেওয়ার পর, পেয়ে যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। নিখুঁত কোনাকুনি প্লেসিং শটে গোলকিপারের পাশ দিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা জাগে মোহামেডানের। ৮৭তম মিনিটে বক্সে সৌরভ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার মোজাফ্ফর মোজাফ্ফরভ গোলকিপারকে বিপরীত দিকে ছিটকে দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের শুরুর দিকে রাফায়েল টুডুর একক প্রচেষ্টার দর্শণীয় গোলে মোহামেডানের জয় নিশ্চিত হয়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে, বক্সে ঢুকে আরেক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে গোলকিপারের পাশ দিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। মোহামেডান মাঠ ছাড়ে আসরে চতুর্থ জয় নিয়ে।
