ক্রিকেট শ্রীলঙ্কার সভাপতিসহ নির্বাহী কমিটির পদত্যাগ

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সভাপতি শাম্মি সিলভার ওপর চাপ বাড়ছিল। সরকারের পক্ষ থেকেও এসেছিল দায়িত্ব ছাড়ার অনুরোধ। সেই প্রক্রিয়ায় এবার পদত্যাগ করেছেন এসএলসি প্রধান। গতকাল বুধবার সিলভার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও। গত মঙ্গলবার বিশেষ এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গণমাধ্যমের খবর, জনরোষের মুখে থাকা সিলভাকে পদত্যাগ করার অনুরোধ করেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। গত শুক্রবার দুই পক্ষের বৈঠকে একটি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ বিদায়’ নিয়ে আলোচনা হয়। সেটার প্রতিফলন দেখা গেল এবার।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দেশটির সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থা হলেও গত কয়েক বছর ধরে এর প্রশাসন নিয়ে নানা বিতর্ক চলছিল। এমনকি বোর্ড পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৩-২৪ মৌসুমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ দুই মাসের জন্য স্থগিতও করেছিল। দেশটির যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আজ থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে।’ ক্রিকেটের বর্তমান সংকট নিরসন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য দ্রুতই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে বলেও মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, এখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি নিয়োগ দেবে সরকার। যেখানে প্রধানের ভূমিকায় থাকতে পারেন দেশটির সাবেক সংসদ সদস্য এরান উইক্রামারাত্নে।

সাবেক দুই ক্রিকেটার সিদাথ ওয়েত্তিমুনি ও রোশান মহানামাকেও রাখা হতে পারে কমিটিতে। এসএলসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার থেকে সিলভার পদত্যাগ কার্যকর হচ্ছে। বোর্ড সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুনিল কুমারা গামাগেকে জানানো হয়েছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে থিলাঙ্গা সুমাথিপালার স্থলাভিষিক্ত হন সিলভা। সুমাথিপালাও দুর্নীতির নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সিলভা নিজের অবস্থান মজবুত করেন এবং টানা চারবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে তিনবারই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সিলভার সাত বছরের দায়িত্বকালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই ছিল বেশি। তার সময়ে দেশটির পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে। কিন্তু বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের অভাব ছিল প্রকট। বিশেষ করে, ছেলেরা র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নবম স্থানে থেকে বিদায় নেয় লঙ্কানরা। এছাড়া ২০২৪ এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স করে দলটি। চলতি মাসের শুরুতে গ্যারি কার্স্টেনকে পুরুষ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় শ্রীলঙ্কা। তাতেও অবশ্য লাভ হয়নি। বোর্ডের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জোরাল দাবি দমানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত ভেঙেই গেল সিলভার নেতৃত্বাধীন বোর্ড।