ভারতে লক্ষ্য পূরণে আশাবাদী আফঈদা

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

আগের দুটি শিরোপা জয়ের গল্প বাংলাদেশ লিখেছে নেপালের মাটিতে। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসর হবে প্রতিযোগিতাটির রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের আঙিনায়। কাঠমা-ুর মতো সমর্থন যে গোয়ায় জুটবে না, জানেন আফঈদা খন্দকার। তবে প্রতিকূলতার স্রোত পেরিয়ে, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা অধিনায়কের। বললেন, খেলা যে দেশেই হোক, লক্ষ্য তাদের স্রেফ জয়। এবারের আসর মাঠে গড়াবে আগামী ২৫ মে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী ভারত ও মালদ্বীপ। ২৯ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করবে বাংলাদেশ। ৩১ মে তারা মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারতের।

এ প্রতিযোগিতা উপলক্ষে চট্টগ্রামে কোরিয়ান ইপিজেডে ১০ দিনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি আরও শাণিয়ে নিতে আজ থাইল্যান্ডে রওনা দিবে দল। সেখানে ১৫ দিনের ক্যাম্প করে ২১ মে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেবে তারা। গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে আফঈদা মেলে ধরলেন, এবারের আসর নিয়ে তার প্রত্যাশা।

‘সাফে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল তিনটি দলই অনেক শক্তিশালী। ভারত পাঁচবার ট্রফি জিতেছে, আর আমরা গত দুইবার জিতেছি। এবার আমাদের সামনে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ। ভারত অবশ্যই চাইবে না আমরা হ্যাটট্রিক করি। কিন্তু আমরাও সেই প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছি যেন, তাদের হারাতে পারি। নেপালের মাটিতেও আমরা ফাইনাল জিতেছি, তাই যেকোনো দেশের মাটিতেই হোক না কেন, আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে জেতার চেষ্টা করব। প্রত্যাশার চাপৃওরকম কিছু না। আমরা যখন মাঠে নামি, তখন আমাদের মাথায় থাকে না যে হ্যাটট্রিক করতে হবে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামি। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।’ গত মার্চে অস্ট্রেলিয়াতে হওয়া উইমেন’স এশিয়ান কাপে প্রত্যাশিত আলো ছড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

তিন ম্যাচের সবগুলো হেরে বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। ওই প্রতিযোগিতা থেকে শেখা অনেক কিছু এবারের সাফে মাঠে করে দেখাতে চান অধিনায়ক। ‘হার-জিত খেলার অংশ। ছোট-ছোট ভুল থেকেই আমরা শিখব। আমরা এবারই প্রথম এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছি। দেশের মানুষ একটু বেশি প্রত্যাশা করে ফেলে, তবে আমরা সেখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সাফের পর এখন এশিয়ান লেভেলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি, এটি আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। আমরা শিখেছি যে, এই পর্যায়ে খেলতে হলে একাগ্রতা ধরে রাখা খুব জরুরি।’

কোচ পিটার জেমস বাটলারের ভাষায় ‘বাজে পারফরম্যান্স’-এর কারণে দলে জায়গা পাননি স্বপ্না রানী ও মুনকি আক্তার।

চোটে ছিটকে গেছেন সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণে নির্ভরতা দেওয়া নবীরণ খাতুন। ২৩ জনের দলে প্রথমবারের মতো সিনিয়র সাফে খেলতে যাচ্ছেন হালিমা খাতুন, সুরমা জান্নাত, সুরভি আক্তার আরফিন, উন্নতি খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, মোমিতা খাতুন, উমহেলা মারমা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি। আফঈদা দলে ‘নতুন’ কাউকে দেখছেন না। বাফুফের ক্যাম্পে লম্বা সময় একসঙ্গে থাকার কারণে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ায় কমতি দেখছেন না অধিনায়ক।

সাম্প্রতিক সময়ে নিজের পারফম্যান্সের মলিনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নেও এই ডিফেন্ডার অনুরোধ রাখলেন, দুঃসময়ে সবাই যেন পাশে থাকে তার ও দলের। ‘নতুন (খেলোয়াড়) বলতে কিছু নেই। কারণ, আমরা অনেকদিন ধরে একসাথে অনুশীলন করছি। দলের সবার মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো। আশা করি, সবাই মিলে ভালো কিছুই করতে পারব। আসলে একজন খেলোয়াড়ের সবসময় ভালো সময় যায় না। আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাকে অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা করা হয়। আমি মানুষের এই চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে চাই, যাতে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা হয়।’