নারী ক্রিকেট দলে পেসার সংকট
বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ দল ঘোষণা
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঘনিয়ে আসছে আরেকটি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১২ জুন ইংল্যান্ডে বসছে মেয়েদের কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের এই শ্রেষ্ঠত্বের আসর। বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের আগে খুব একটা স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ নারী দল। টানা পাঁচটি টি-টোয়েন্টি সিরিজেই হেরেছে তারা। সর্বশেষ গেল এপ্রিলে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হয়েছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ইংল্যান্ডে মাঠে সাধারণত প্রেস বোল কার্যকর হয়। কিন্তু পেসবান্ধব কন্ডিশনে বৈশ্বিক আসরে স্কোয়াডে আছেন মাত্র দুই পেসার। তারা হলেন-মারুফা আক্তার ও ফারিহা ইসলাম। নারী ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন স্বীকার করেছেন, তাদের পাইপলাইনে দলে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পেসারই নেই। দল ঘোষণা উপলক্ষে গতকাল রোববার মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে একাদশে একজন পেসার খেলানোর চিন্তা আছে তাদের। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা আছে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে যদি বল বেশি ঘুরে তাহলে দুই পেস বোলার খেলানোর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমি যা দেখছি ইংল্যান্ডে গ্রীষ্মে বল ওরকম মুভ করে না। উপমহাদেশের মতোই উইকেট হয়ে গেছে।’এই চিন্তা থেকে পরিকল্পনায়ও বদল এসেছে বাংলাদেশের।
সাজ্জাদ বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হয়তো ওরকমই থাকবে, এক পেস বোলার আর স্পিনারদের নিয়ে খেলার। যদি বল বেশি ঘুরে, এই সম্ভাবনা আছে। ম্যাচের মাঝখানে অনেক বিরতি আছে, আমাদের রিকভারির সুযোগ থাকবে।’ ঘোষিত দলের পুরোনোদের মধ্যে আছেন ২০১৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা ছিলেন ফাহিমা খাতুন। যদিও সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপেই দলের সঙ্গী ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সপ্তম বিশ্বকাপে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার। এছাড়া দলে তেমন কোনো চমক নেই। সবশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দল থেকে পরিবর্তন আছে একটি। বাদ পড়েছেন শারমিন সুলতানা, তার বদলে ফিরেছেন তাজ নেহার। তাজ ছিলেন গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলেও। ঘরোয়া ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটার হিসেবে পরিচিতি থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও তেমন কিছুই দেখাতে পারেননি তিনি। ৮টি টি-টোয়েন্টি খেলে রান করেছেন ৬.২৮ গড়ে মোট ৪৪।
তবু তাকে কেন দলে ফেরানো হয়েছে, ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ। ‘তাজ নেহার ভার্সেটাইল ব্যাটার, যিনি ১ থেকে ৬ নম্বর পজিশনের যেকোনো জায়গায় ব্যাটিং করতে পারে। বিশেষ করে, ইনিংসের শেষ ৫ ওভারে রান তোলার যে সমস্যা দলে রয়েছে, তাজ নেহার সেটি সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’ এবারের বিশ্বকাপ হবে ইংল্যান্ডে, যেখানে কন্ডিশন সবসময়ই থাকে কম-বেশি পেস সহায়ক। তবে বাংলাদেশ দলে বিশেষজ্ঞ পেসার মোটে দুজন। মূল স্ট্রাইক বোলার মারুফা আক্তারের সঙ্গে আছেন বাঁহাতি স্লো মিডিয়াম পেসার ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা। এছাড়া আছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিতু মনি।
তৃষ্ণা ও রিতুর বোলিংয়ের যে ধরন, সেটি বিবেচনায় রাখলে সত্যিকার অর্থে বিবেচনায় নেওয়ার মতো পেসার শুধু মারুফাই। প্রধান নির্বাচকের মতে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন এখন বদলে গেছে। পাশাপাশি তিনি বললেন পেসার সংকটের কথাও। ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভালো পেসারের পাইপলাইন বেশ সংকীর্ণ এবং অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা ইনজুরিতে পড়ে। যদিও ইংল্যান্ডের কন্ডিশন পেস সহায়ক হওয়ার কথা, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে উইকেট অনেকটা উপমহাদেশের মতো আচরণ করছে, যেখানে বল স্পিন করে। তাই কন্ডিশন বিবেচনা করে এবং স্পিনারদের ওপর ভরসা রেখে দল সাজানো হয়েছে।’ প্রশ্ন উঠল অধিনায়ক নিগার সুলতানার ফর্ম ও ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে তিন ম্যাচে রান করেছেন তিনি ২০। প্রায় ১১ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১১৯টি ম্যাচ খেললেও তার ব্যাটিং এই সময়ের সময়ে বেমানান হয়ে ওঠে প্রায়ই।
প্রধান নির্বাচক বললেন, চোট বয়ে নিয়ে খেলে যাচ্ছেন বলেই পরের ধাপে যেতে পারছেন না নিগার। ‘জ্যোতির (নিগার) বিশ্বমানের হয়ে ওঠার সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু সে দীর্ঘ সময় ধরে ইনজুরি নিয়ে খেলছে। এই ইনজুরি না থাকলে সে হয়তো আরও উচ্চপর্যায়ে যেতে পারত।। ইনজুরি নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া তার ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণও এবং এর একমাত্র সমাধান হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।’ বিশ্বকাপে এবার ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রধান নির্বাচক বললেন, অন্তত তিনটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য তাদের। ‘পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে আমাদের আশা আছে, তিনটি ম্যাচে আমরা জিতব। আমাদের টার্গেট হলো নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই তিনটা ম্যাচ আমাদের জেতা উচিত বলে আমি মনে করি।’
এবারের বিশ্বকাপ শুরু ১২ জুন। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর ১৭ জুন লিডসে খেলা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে, ২০ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে, একই মাঠে পরের ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে, ২৮ জুন লর্ডসে লড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলবে বাংলাদেশ। দেশ ছাড়বেন তারা আগামী ২৫ মে।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দল : নিগার সুলতানা (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস, তাজ নেহার।
