শেষ দিনে রোমাঞ্চের অপেক্ষা
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিরপুর টেস্টে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে খেলছে বৃষ্টি। চতুর্থ দিনেও বাগড়া দিল বৃষ্টি। প্রবল বর্ষণে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের অবস্থা প্রায় ডুবুডুবু। খেলা বন্ধ থাকল ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট, হিসেবে পুরো এক সেশনের বেশি সময়। এমন পরিস্থিতি দিনের খেলা আবার শুরু হতে পারে, এটা ভাবাই কঠিন ছিল। তবে বৃষ্টি থেমে রোদ উঠায় এবং দুর্দান্ত পানিনিষ্কাশন-ব্যবস্থার সুবাদে মাঠও প্রস্তুত হয়ে ফের মাঠে গড়াল খেলা। তাতে অবশ্য বর্ধিত সময় পর্যন্ত দিনের বাকি খেলা হয়নি। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে চতুর্থ দিনে খেলা হলো মোটে ৪৮.৪ ওভারে। যে ওভারগুলো ভেসে গেল বৃষ্টিতে, সেখানে মুছে গেল হয়তো অনেক আশা ও সম্ভাবনার ছবিও। তার পরও অবশ্য জয়ের ছবি আঁকছে বাংলাদেশ। শেষ দিনে কীভাবে জিততে পারে দল, সেটির সম্ভাব্য একটি ছবি মেলে ধরলেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। ফলে পঞ্চম ও শেষ দিনে রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে।
গতকাল সোমবার শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা এগিয়ে গেছে ১৭৯ রানে। আগের ইনিংসে অনবদ্য সেঞ্চুরি হাঁকানো নাজমুল হোসেন শান্ত অপরাজিত আছেন ৫৮ বলে। ১০৫ বল মোকাবিলায় ছয়টি চার মেরেছেন তিনি। তার সঙ্গী মুশফিকুর রহিম খেলছেন ১৬ রানে। তার ৩১ বলের ইনিংসে চার তিনটি। আজ সকালে তারা পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করবেন।
এর আগে ১১ ওভারের মধ্যে আউট হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া পেসার মোহাম্মদ আব্বাস এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মাহমুদুল হাসান জয়কে। রিভিউ নিলেও কাজ হয়নি। আম্পায়ার্স কল হওয়ায় ৫ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম পরাস্ত হন হাসান আলীর বাড়তি বাউন্সে। ১০ রান করে গালিতে সউদ শাকিলের তালুবন্দি হন তিনি। ২৩ রানে ২ উইকেট পড়ার চাপ সামলে নেন শান্ত ও মুমিনুল। প্রথম ইনিংসে ১৭০ রানের রেকর্ড জুটি গড়া দুই ব্যাটার ফের ভোগান পাকিস্তানের বোলারদের। শান্ত এগোতে থাকেন সাবলীল কায়দায়, মুমিনুলের মেলে ভাগ্যের ছোঁয়া। একে একে দুজনই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি।
এই ইনিংস খেলার পথে দারুণ একটি মাইলফলকও স্পর্শ করেন মুমিনুল। টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তিনি পৌঁছে যান ৫ হাজার রানের ঠিকানায়। এতদিন এই কীর্তি ছিল কেবল মুশফিক ও তামিম ইকবালের। ৫ হাজার রান হতে মুমিনুলের দরকার ছিল ঠিক ৫০ রান। নোমান আলির বলে সুইপ করে সিঙ্গেল নিয়ে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পা রাখেন তিনি।
শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে স্টাম্পের বাইরে খোঁচা মেরে থামেন তিন দফা জীবন পাওয়া মুমিনুল। প্রথম ইনিংসেও ফিফটির স্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার টানা পঞ্চম ফিফটি। ১২০ বলে চারটি চারের সাহায্যে তিনি করেন ৫৬ রান। তার বিদায়ে ভাঙে ১৯৩ বলে ১০৫ রানের জুটি। মুমিনুল ও শান্ত প্রথম সেশনের বাকিটা নির্বিঘ্নে পার করার পর দ্বিতীয় সেশন ভেসে যায় বৃষ্টিতে। তৃতীয় সেশনে ফের খেলা চালু হওয়ার পর মুমিনুলকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি শান্ত ও মুশফিক। আজ কতদূর যায় তাদের ব্যাট সেটাই দেখার। ম?্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে শান্তর। এবার কী হবে?
চতুর্থ দিন পর্যন্ত যা চিত্র, তাতে তিনটি ফলাফল সম্ভব এখনও। তবে বাস্তব সম্ভাবনা বেশি ড্রয়ের। বাংলাদেশ যদি পরাজয়কে সমীকরণের বাইরে ঠেলে দিতে নিরাপদ অবস্থানে যেতে চায়, তাহলে হয়তো গোটা প্রায় প্রথম সেশনই ব্যাট করতে হবে তাদেরকে। সেক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনাও মিইয়ে আসবে অনেকটা। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠল, বাংলাদেশ আরও দ্রুতগতিতে রান তুলতে পারত কি না। ওভারপ্রতি রান তুলেছে তারা তিন করে। তবে আশরাফুল একমত হলেন না এই ভাবনার সঙ্গে। ‘ধীরগতিতে তো খেলেনি। টেস্ট ক্রিকেট যেভাবে আসলে খেলতে হয়, আমি মনে করি যে আমরা ওভাবেই খেলছি। বৃষ্টিটা তো আমাদের কন্ট্রোলের মধ্যে নাই। নিয়ন্ত্রণের বাইরের ব্যাপার। আমি বলব, এখনও উইকেটে যে সহায়তা আছে, আমরা যদি আরেকটু কালকে সকালে একটু ভালো ব্যাটিং করে, এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।’
শেষ দিনে খেলা শুরু হবে আগে। পুরো দিন খেলা ৯৮ ওভার পাওয়া যাবে। এখানেই আশার আলো দেখছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা জেতার জন্য খেলছি এবং আমাদের যে বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে আমাদের স্পিন আক্রমণ এবং ফাস্ট বোলিং আক্রমণ, আমরা যদি ৭০-৭৫ ওভার বল করতে পারি, কালকে যদি বৃষ্টি না হয়, ৯৮ ওভার খেলার সুযোগ থাকবে। ৭৫ ওভার বোলিং করতে পারলে আমি মনে করি যে আমরা জেতার সম্ভাবনা থাকবে। আমার মনে হয় যে ৭৫ ওভার যদি আমরা বল করতে পারি এবং ২৬০ বা এই ধরনের একটা রান যদি আমরা করতে পারি, আমার মনে হয় ওই রানে জেতা সম্ভব হবে।’ আশরাফুলের কথা তাত্ত্বিকভাবে ঠিক আছে বটে। তবে বাস্তবতা হলো, টেস্টের প্রথম চার দিনের কোনো দিনই পুরো ৯০ ওভারও খেলা হতে পারেনি আলোকস্বল্পতার কারণে। শেষ দিনে ৯৮ ওভার পুরো হওয়ার সম্ভাবনাও তাই ক্ষীণ। ম্যাচ জিততে হলে প্রথম সেশনে দারুণ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পরে অসাধারণ বোলিংও করতে হবে বাংলাদেশকে। আপাতত একটি আশার খবর, শেষ দিনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির শঙ্কা তেমন একটা নেই।
