তানজিদকে টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে মুশফিকের প্রত্যাশা

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

মনে প্রাণে যা চেয়েছিলেন ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। এমন একজন তাকে ক্যাপটা পরিয়ে দিয়েছেন যিনি এই ক্যাপের মূল্যটা সবচেয়ে বেশি বুঝেছেন। সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেন। ২০০৫ সালে লর্ডসে যে ক্যাপ তার মাথায় উঠেছিল, সেটা ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত আগলে রেখেছেন। রংচটা ক্যাপে বাংলাদেশের সাদা পোশাকের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন মুশফিকুর রহিম। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই মুশফিকুর রহিমের হাত ধরেই এই অঙ্গনে পথ চলা শুরু হলো তানজিদ হাসান তামিমের। মুশফিকুর রহিমের হাত থেকে ক্যাপ নেওয়ার আগে দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল বলেন, ‘সাদা বলের ক্রিকেটের দুই সংস্করণে তুমি দেশকে গর্ব এনে দিয়েছো। তবে দিজ ইস দা আল্টিমেট ওয়ান.. দা লিগ্যাসি অব ক্রিকেট আবারও অভিনন্দন। আমি জানি যে, তুমি চাও মুশফিকের রহিমের কাছ থেকে ক্যাপ নিতে, যে নিজে একজন কিংবদন্তি, তোমার শহরেরও।’

এরপর মুশফিকুর এগিয়ে এসে তানজিদকে ক্যাপ দেন। এরপর বলেন, ‘প্রথমত, নাফিস ভাই যেটা বললেন, তুমি আমাদের দেশকে গর্ব এনে দিয়েছো। আশার করব যে, লাল বলের খেলায়ও তুমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে এবং যেহেতু তুমি বগুড়ার ছেলে খুবই স্পেশাল আমার জন্য এই মুহূর্ত আশা করব, ১০-১৫ বছর তুমি বাংলাদেশ দলকে শীর্ষ পর্যায়ে সার্ভিস দেবে।’ বাংলাদেশের ১০৯তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হলো তানজিদের। ২০২৩ সালে তার ওয়ানডেতে এবং ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল। ২৫ বছর বয়সী তানজিদ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন ২৫টি। ৫টি সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফ সেঞ্চুরিতে ৪০.৭২ গড়ে ১৭৯২ রান করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে শুরুতে দ্রুত রান তুলবে, প্রতিপক্ষকে নাড়িয়ে দেবে এমন মানিসকতার খেলোয়াড়কে দীর্ঘদিন ধরে চাইছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তানজিদকে সেই পরিকল্পনায় নেওয়া হয়েছে। শুরুটা আশা মতোই হয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম বল ড্রাইভ করে পেয়ে যান ৩ রান। আব্বাসকে দারুণ ড্রাইভে প্রথম চার পান। আবার তাকেই ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন। এরপর একটি চার পেয়ে যান ব্যাটের কানায় লেগে। শুরুর ওই আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ২২ গজে তানজিদ দারুণ কিছুই করবেন। কিন্তু বাড়তি কিছু করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন। আব্বাসকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলার চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পুল করতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন। ওখানেই থেমে যায় তার ৩৪ বলে ২২ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংস রাঙানোর সুযোগ আছে তার। দেখার বিষয়, তানজিদ নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন কিনা।