বাংলাদেশের হাতেই ম্যাচের নাটাই

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

টেস্ট ক্রিকেটে এমন পরিপক্ব বাংলাদেশকে আগে কবে দেখা গিয়েছে, তা জানতে হয়তো ঘাটাঘাটি করতে হবে। ঢাকা টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্তদের অনেক পরিকল্পিতই মনে হয়েছে। যার ফলও মিলেছে। সিলেট টেস্টেও ঠিক পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছে স্বাগতিকরা। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে লিটন দাসের অভাবনীয় সেঞ্চুরি সুবাদে এবং বোলারদের পারফরম্যান্সে ম্যাচের নাটাইটা এখনও নিজেদের হাতেই রেখেছে বাংলাদেশ। তবে দিনের শেষ ওভারে মুমিনুল হক আউট না হলে শান্তদের মুখের হাসিটা আরও চওড়া হতো। তা না হওয়ায় একটু আক্ষেপ থাকতেই পারে। দিনের খেলা তখন শেষ হওয়ার অপেক্ষা। বাকি স্রেফ তিনটি ডেলিভারি। কিন্তু মুমিনুল পারলেন না পার করতে। খুররাম শাহজাদের লেংথ থেকে লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে ধরা পড়লেন তিনি উইকেটের পেছনে। পাকিস্তানিরা মেতে উঠলেন উল্লাসে। মুমিনুল মাথা নিচু করে হাঁটা দিলেন ড্রেসিং রুমের পথে। তার সঙ্গী তখন নাজমুল হোসেন শান্তও। এই আউটের সঙ্গে দিনের খেলাও শেষ!

তবে এই দৃশ্যটায় ফুটে উঠছে না গোটা দিনের ছবি। শেষবেলায় উইকেট হারানোর অস্বস্তি থাকলেও দিনটি ছিল বাংলাদেশেরই। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের চেয়ে রানে ১৫৮ রানে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। উইকেট আছে ৭টি। আগের দিন লিটন কুমার দাসের অসাধারণ শতরানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ২৭৮ রান। পাকিস্তান রোববার গুটিয়ে যায় ২৩২ রানে। চোট কাটিয়ে ফেরা বাবর আজমের ব্যাট থেকে আসে ফিফটি। বাবরের উইকেটসহ তিনটি শিকার ধরেন নাহিদ রানা। তিন উইকেট নেন তাইজুল ইসলামও, দুটি করে তাসকিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে। ফিফটি করে আউট হন মাহমুদুল হাসান জয়।

প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেছিলেন, দ্বিতীয় সকালে আকাশ যদি একটু মেঘলা থাকে এবং প্রথম ১০ ওভারে যদি দুটি উইকেট নেওয়া যায়, তাহলে লিড নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে দলের। তার সেই চাওয়ার সঙ্গে পাওয়া মিলে গেছে দারুণভাবে। সকালে পাকিস্তানের দুই ওপেনারকে দ্রুতই ফেরান তাসকিন আহমেদ। বাকি বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ধরা দেয় লিড। কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান নিয়ে দিন শুরু করে পাকিস্তান। আকাশ ছিল কিছুটা মেঘলা, উইকেটে ছিল প্রাণ। সেখানে পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যানকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দেন শরিফুল ইসলাম, আরেক প্রান্তে নিজের প্রথম দুই ওভারে দুটি উইকেট নেন তাসকিন। আগের টেস্টে জোড়া ফিফটি করা আব্দুল্লাহ ফাজাল (৯) আউট হন উইকেটের পেছনে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে। আগের টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস ব্যাটে-প্যাড ক্যাচে বিদায় নেন ১৩ রানে। তাসকিন তৃতীয় ওভারটি করতে এসেই হাঁপাচ্ছিলেন। তার বদলে বোলিংয়ে এসে নাহিদ রানাও একটু ছিলেন এলামেলো। এই সুযোগে বাবর আজম ও শান মাসুদ দ্রুত কিছু বাউন্ডারি আদায় করে নেন। স্পিন আক্রমণে আনতেই ভাঙে এই জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজের দ্বিতীয় বলেই শান মাসুদ (২৬ বলে ২১) ধরা পড়েন শর্ট কাভারে। পরের ব্যাটসম্যান সাউদ শাকিলকে একদম ক্রিজে আটকে রেখেছিলেন মিরাজ। সেই শেকল ভাঙার চেষ্টায় সুইপ শট ডেকে আনে তার পতন (২৮ বলে ৮)।

৪ উইকেট নিয়ে তখন দারুণ উজ্জীবিত বাংলাদেশ। তবে বাবর শুরু থেকেই ছিলেন সাবলিল। তাকে যথেষ্ট ভালো বোলিং করতেও পারছিলেন না পেসাররা। দৃষ্টিনন্দন কিছু বাউন্ডারি আসে তার ব্যাট থেকে। সালমান আলি আগার সঙ্গে ভালো জুটিও গড়ে ওঠে। লাঞ্চের পর বাবর ফিফটিতে পা রাখেন ৬৩ বলে। জুটি ভাঙতে নাহিদকে আক্রমণে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ফল পেয়ে যান হাতেনাতেই। দারুণ খেলতে থাকা বাবর আলতো ফ্লিকে বল তুলে দেন মিড অনে মুশফিকের হাতে। এরপর উইকেট ধরা দিতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে। তাইজুল ইসলামকে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন সালমান (২১)। এই বাঁহাতি স্পিনারের দারুণ ড্রিফট বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে যান মোহাম্মাদ রিজওয়ান (১৩)। তাইজুলকে ওড়াতে গিয়েই থমকে যান হাসান আলি (১৮)। বাংলাদেশ তখন ৭০-৮০ রানের লিড পাবে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে ১৮৪ রানে অষ্টম উইকেট হারানো পাকিস্তান শেষ দুই জুটিতে যোগ করে ৪৮ রান। খুররাম শাহজাদ একটি ছক্কা ও চার মারার পর আউট হয়ে যান নাহিদ রানার বাউন্সারে। সাজিদ খান এরপর ব্যবধান কমান তাইজুলকে টানা তিনটি ছক্কা মেরে। চার ছক্কায় ২৮ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি নাহিদের বলেই তানজিদ হাসানের দারুণ ক্যাচে।