টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক
টেস্ট ক্রিকেটে ২৬ বছরের পথচলায় বর্তমান দলটিই কি বাংলাদেশের সেরা? পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি সিরিজ জয়ের পর প্রশ্নটি উঠতে শুরু করেছে। এই দাবির পক্ষে জোরাল স্বাক্ষ্য হয়ে এলো আইসিসি র্যাংকিং। র্যাংকিংয়ে নিজেদের সেরা অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে জয়ের পর দুই ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ এখন জায়গা করে নিয়েছে সাত নম্বরে। এই প্রথম টেস্ট র্যাংকিংয়ে আট নম্বরের ওপরে উঠতে পারল তারা। সিলেটে পরাজয়ের পর ছয় নম্বর থেকে পাকিস্তান নেমে গেছে আটে।
গতকাল বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজকের সাফল্য যেন শুধু একটি টেস্ট ম্যাচ জয়ের আনন্দে সীমাবদ্ধ থাকেনি! পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৮ রানের জয় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আইসিসি প্রকাশ করেছে হালনাগাদ টেস্ট র্যাংকিং, যেখানে দুই ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে দীর্ঘ পথচলায় এই প্রথম এত ওপরে উঠল টাইগাররা! এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন ছিল ২০১৮ সালে অষ্টম স্থানে ওঠা। প্রায় আট বছর পর সেই সীমাও ভেঙে গেল। শুধু র্যাংকিংয়ের অঙ্কে নয়, সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতির প্রতিচ্ছবিও যেন ফুটে উঠেছে এই অবস্থানে।
এই উত্থানের সবচেয়ে বড় মূল্য চুকাতে হয়েছে পাকিস্তানকে। সিরিজ শুরুর আগে যারা ছিল ছয়ে, তারা এখন নেমে গেছে আট নম্বরে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজও এক ধাপ পিছিয়ে নবম স্থানে চলে গেছে। বাংলাদেশের ওপরে এখন শুধু শ্রীলঙ্কা, যাদের রেটিং পয়েন্ট ৮৬। আর বাংলাদেশের বর্তমান রেটিং ৭৮। সংখ্যার হিসাবটাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের রেটিং ছিল ৬৭, পাকিস্তানের ৮৯। দুই ম্যাচের ব্যবধানে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়েছে ১১, বিপরীতে পাকিস্তান হারিয়েছে ১৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ মাঠের দুই টেস্ট শুধু সিরিজের ফলই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে দুই দলের অবস্থানও। বিশ্ব টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে আগের মতোই আছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ১৩১। এরপর রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে তলানিতে থাকা জিম্বাবুয়ের রেটিং মাত্র ১০। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৬৮ হলেও সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় তারা পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশের নিচে। র্যাংকিংয়ের এই তালিকায় জায়গা পায়নি আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড।
