দেশের ফুটবল জাগিয়ে ত্রিমুকুট জিতলেন হামজা চৌধুরী

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না হামজা চৌধুরী; কিন্তু পুরস্কারের তালিকাজুড়ে থাকলেন তিনিই। বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডে তিন বিভাগে সেরা হয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বসেছিল তারার মেলা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ ঘিরে দেখা গেল বিভিন্ন অঙ্গনের সেরা ক্রীড়াবিদ, কোচ, সংগঠক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের। তাদের সম্মাননা জানাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেন ফুটবলার হামজা চৌধুরী।

পুরো আসরের আলো নিজের দিকে টেনে নিয়ে বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের সর্বোচ্চ সম্মান জিতেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ক্রীড়ামোদীদের ভোটে পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ডও উঠেছে তার হাতে। ফুটবলে বছরজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও। এক আসরে তিনটি বড় পুরস্কার জিতে কার্যত ত্রিমুকুট অর্জন করেছেন এই তারকা ফুটবলার। বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের লড়াইয়ে হামজা পেছনে ফেলেছেন নারী ফুটবলের উজ্জ্বল মুখ ঋতুপর্ণা চাকমা এবং হকির আমিরুল ইসলামকে। তবে রানার-আপ হয়েও আলোচনায় ছিলেন তারা দুজনই। বিশেষ করে নারী ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে ঋতুপর্ণা আবারও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। পুরস্কার জয়ের পর ভিডিও বার্তায় হামজা চৌধুরী বলেন, এই সম্মান তাকে গর্বিত করেছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী এ পুরস্কার অর্জনকে বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে পরিবার, কোচ, সতীর্থ, বন্ধু এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় দলের পাশে থাকার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদও জানান হামজা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, খেলোয়াড় জীবনেও এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর এখন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন। তার মতে, বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অর্জনের প্রতীক।

গেস্ট অব অনার হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাইদ। জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘কুল’-এর মাধ্যমে টানা একাদশবারের মতো এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, দেশের প্রাচীন ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠন বিএসপিএর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব বলেন, দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা এখন বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছালেও আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যেই ভবিষ্যতে একটি স্পোর্টস জার্নালিস্ট ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ১৯৬৪ সালে দেশে প্রথম ক্রীড়া পুরস্কার প্রবর্তন করে বিএসপিএ। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার ১৬টি বিভাগে মোট ১৫ জন বর্তমান ও সাবেক ক্রীড়াবিদ, কোচ, সংগঠক ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটে বর্ষসেরা হয়েছেন রিশাদ হোসেন, হকিতে আমিরুল ইসলাম এবং আর্চারিতে আব্দুর রহমান আলিফ। উদীয়মান ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন ক্রিকেটার রিপন মন্ডল। নারী ফুটবলে অবদানের জন্য বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন পিটার বাটলার।

কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ বিজয়ীরা

বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ : হামজা চৌধুরী (চ্যাম্পিয়ন), ঋতুপর্ণা চাকমা (রানার-আপ), আমিরুল ইসলাম (রানার-আপ)। পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড: হামজা চৌধুরী। বর্ষসেরা ক্রিকেটার: রিশাদ হোসেন। বর্ষসেরা ফুটবলার: হামজা চৌধুরী ও ঋতুপর্ণা চাকমা। বর্ষসেরা হকি খেলোয়াড়: আমিরুল ইসলাম। বর্ষসেরা আর্চার: আব্দুর রহমান আলিফ। বর্ষসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়: খই খই সাই মারমা।

বর্ষসেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়: আল আমিন জুমার। উদীয়মান ক্রীড়াবিদ: রিপন মন্ডল (ক্রিকেট)। বর্ষসেরা কোচ: পিটার বাটলার (নারী ফুটবল)। বর্ষসেরা আম্পায়ার: সেলিম লাকী (হকি)। বর্ষসেরা সংগঠক: কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল (আর্চারি)। তৃণমূলের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব: আলমগীর কবীর (ক্রিকেট কোচ)। বিশেষ সম্মাননা: শাহনাজ পারভীন মালেকা (কাবাডি কোচ)। সেরা পৃষ্ঠপোষক: প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। সক্রিয় ফেডারেশন: বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন।