ঢাকা সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল পাকিস্তান

রাওয়ালপিন্ডির শুকনো উইকেটে স্পিনের জাদু দেখিয়ে পাকিস্তান পেল স্মরণীয় এক জয়। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন এক নবাগত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট শিকার করে ইতিহাস গড়লেন আরাফাত মিনহাস। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের ওপর ভর করে অজিদের পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের কোনো বোলার ওয়ানডে অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন মিনহাস। তিনি ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে প্রায় একাই ধসিয়ে দেন। তার নেতৃত্বে পাকিস্তানের স্পিনাররা মিলে অস্ট্রেলিয়ার আটটি উইকেট শিকার করেন, ফলে সফরকারীরা ৪৪.১ ওভারে অলআউট হয়ে যায় মাত্র ২০০ রানে।

সফরকারীদের ১০ উইকেটের প্রথম আটটিই নেন পাকিস্তানের স্পিনাররা। ১০ ওভারে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী মিনহাস। ওয়ানডে অভিষেকে পাঁচ উইকেট শিকারি পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার তিনি।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় পঞ্চাশের আগে দুই ওপেনারকে হারালেও, বাবর ও ঘোরির শতরানের জুটির নৈপুণ্যে ৪৫ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৯৪ বলে ৬৯ রান করেন বাবর। গত মার্চে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে অভিষিক্ত কিপার-ব্যাটসম্যান ঘোরি দ্বিতীয় ম্যাচে আট চারে ৯২ বলে করেন ৬৫। বোলিংয়ে স্বপ্নময় দিন কাটানো মিনহাস ব্যাট হাতে ১৭ বলে ১৮ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন। ম্যাচ সেরার লড়াইয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ ছিল না। এ দিন তৃতীয় দল হিসেবে হাজারতম ওয়ানডে খেলার কীর্তি গড়ে পাকিস্তান। চার স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজায় স্বাগতিকরা।

গত শনিবার রাতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নতুন উদ্বোধনী জুটির শর্ট ও অ্যালেক্স কেয়ারির ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। দ্বিতীয় ওভারে হারিস রউফকে পরপর দুটি চার মারেন শর্ট। শুরুতে সাবধানী ছিলেন কেয়ারি। পরে তিনিও দুটি চার মারেন আফ্রিদিকে।

প্রথম ছয় ওভারে আসে বিনা উইকেটে ৩৩ রান। এরপর দুই প্রান্তে স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই পাল্টে যায় চিত্র। লেগ স্পিনার আবরার আহমেদের প্রথম ওভারে দারুণ ডেলিভারিতে স্লিপে ধরা পড়েন কেয়ারি (২৪ বলে ১৯)। নিজের চতুর্থ ওভারে তিন বলের মধ্যে জশ ইংলিস ও মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করেন মিনহাস। তার পরের ওভারে চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হন ক্যামেরন গ্রিন।

৬৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন শর্ট ও ম্যাট রেনশ। শর্ট ফিফটি করেন ৫৬ বলে। এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে শর্টকে (৭৬ বলে ৫৫) ফিরিয়ে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন মিনহাস।

অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে অভিষিক্ত অলিভার পিকের শুরুটা হয় ভুলে যাওয়ার মতো। ১৬ বলে ৭ রান করে ফেরেন তিনি। তাকে ফিরিয়ে একমাত্র উইকেট নেন সালমান আলি আগা। ৫২ বলে ফিফটি করে অস্ট্রেলিয়াকে টানছিলেন রেনশ। নিজের শেষ ওভারে তাকে (৬৩ বলে ৬১) বোল্ড করে দেন আবরার। মিনহাস তার শেষ ওভারে ন্যাথান এলিসকে বোল্ড করে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। পরের দুই ওভারে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুটি উইকেট নেন দুই পেসার আফ্রিদি ও রউফ। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাদাব খানই ছিলেন শুধু ব্যতিক্রম।

২০২৩ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা অলরাউন্ডার আট ওভারে ৫৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না তেমন। ১৪ বলে ৮ রান করে ফেরেন মাজ সাদাকাত। ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান (৩৩ বলে ২৮)।

ওই দুটি উইকেট নেন দুই স্পিনার কুনেমান ও স্যাঙ্ঘা। আঁটসাঁট বোলিং করেন দুজন। তবে বড় জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন বাবর ও ঘোরি। ৭১ বলে ফিফটি করেন বাবর। এরপর একবার জীবন পান তিনি। পঞ্চাশ ছুঁতে ঘোরির লাগে ৭৭ বল। এলিসের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বাবর বোল্ড হলে ভাঙে ১২৩ রানের জুটি। এলিসের পরের ওভারে বিদায় নেন ঘোরিও। জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে আউট হন সালমান। এক বল পরই লাবুশেনকে ছক্কায় উড়িয়ে ম্যাচের ইতি টানেন মিনহাস। এটি তো তার ম্যাচই!

তিন ম্যাচের সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লাহোরে। দ্বিতীয় ম্যাচ মঙ্গলবার এবং তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার মাঠে গড়াবে। পাকিস্তান এখন সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত