অভিষেকেই বাজিমাত সূর্যবংশীর

একাই জিতলেন পাঁচটি পুরস্কার

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

আইপিএলের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মানেই সাধারণত একেকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে ট্রফি ভাগাভাগি হওয়ার দৃশ্য। কেউ পান সেরা ব্যাটারের পুরস্কার, কেউ পান সেরা বোলারের ট্রফি। তবে ২০২৬ আইপিএলের চিত্রনাট্যটা ছিল একেবারেই আলাদা। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বৈভব সূর্যবংশী একাই উঠলেন পাঁচবার। পকেটে পুরলেন মোট ৫৫ লাখ রুপির প্রাইজমানি, সঙ্গে পেলেন একটি টাটা সিয়েরা গাড়ি। মজার কথা হলো সেই গাড়িটা এখনো চালানোর বয়সই হয়নি তার। তার জেতা পাঁচটি পুরস্কারের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’। এই মৌসুমে ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করেছেন সূর্যবংশী। বাঘা বাঘা ব্যাটারদের ভিড়ে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কিশোর বয়সে থাকা বাঁহাতি।

প্রতি ম্যাচেই প্রথম ওভার থেকেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন। পাওয়ার প্লে-র সুবিধা কাজে লাগিয়ে বোলারদের লাইন-লেন্থ যেভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, তার কোনো জবাব ছিল না প্রতিপক্ষ অধিনায়কদের কাছে। অরেঞ্জ ক্যাপের সঙ্গে পাওয়া ১০ লাখ রুপি ছিল মূলত তার এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়েরই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় বা ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) হয়ে তিনি পেয়েছেন আরও ১৫ লাখ রুপি। ৪৩৬.৫ পয়েন্ট নিয়ে এই তালিকায় সবার ওপরে ছিলেন সূর্যবংশী। রান করার পাশাপাশি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ায় তার প্রভাব কতটা ছিল, এই পয়েন্টের ব্যবধানই তা প্রমাণ করে।

আইপিএলের ইতিহাসে একেকটি আইকনিক মৌসুম একেকজন ক্রিকেটারের একক কোনো দক্ষতার জন্য মনে রাখা হয়। যেমন-২০১৬ সালে বিরাট কোহলির অবিশ্বাস্য রানবন্যা, ক্রিস গেইলের সেই বিধ্বংসী রূপ কিংবা ডেভিড ওয়ার্নারের টানা রান করে যাওয়ার ক্ষমতা। তারা সবাই নির্দিষ্ট কোনো এক দিক থেকে টুর্নামেন্ট শাসন করেছিলেন। কিন্তু বৈভব সূর্যবংশী যেন এই সব কটি গুণ একসঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত স্ট্রাইক রেট বজায় রাখায় তিনি পেয়েছেন ‘সুপার স্ট্রাইকার’ পুরস্কার (১০ লাখ রুপি ও একটি টাটা সিয়েরা গাড়ি)। আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে পুরো মৌসুম জুড়ে ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেট ধরে রাখা কোনো ভাগ্যের খেলা নয়, এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের ধারণাই বদলে দিয়েছে।

ছক্কা মারার ক্ষেত্রেও ক্রিস গেইলের এক মৌসুমের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেছেন বৈভব। পুরো টুর্নামেন্টে ৭২টি ছক্কা মেরে তিনি জিতেছেন ‘সুপার সিক্সেস’ পুরস্কার (১০ লাখ রুপি)। এর মাঝে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে এক ইনিংসেই মেরেছেন ১২টি ছক্কা। এর মাধ্যমে ২০১০ সালের পর প্রথম কোনো ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েন তিনি। ১০ লাখ রুপির ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ বা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারটিও গেছে তার ঝুলিতে। সাধারণত তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে বৈভব অন্য পুরস্কারগুলো যেভাবে নিজের করে নিয়েছেন, তাতে টুর্নামেন্ট শেষে তাকে শুধু ‘উদীয়মান’ ভাবাটা কঠিন ছিল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেন বৈভব, যা আইপিএলের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম। আবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে সবচেয়ে কম বল খেলে আইপিএলে ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

বিহারের ১৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি কিশোর মাত্র দুই মাসের মধ্যে ওপেনিং ব্যাটিংয়ের চিরচেনা ব্যাকরণটাই পালটে দিয়েছেন।