ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর সত্যি হলো না। গতকাল শনিবার গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে লাল সবুজের মেয়েদের।এ নিয়ে সাফে ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।

বাংলাদেশ দলে ইনজুরি, কোন্দল আর গ্রুপিংই এই স্বপ্নভঙ্গের কারন। ইনজুরির জন্য নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি মনিকা চাকমা। নিষ্প্রভ ছিলেন এশিয়ান কাপের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর সাফল্য ঈর্ষান্বিত করে তোলে অন্যদের। ফলে শৈল্পিকতা ছিল না তাদের খেলায়। যা আগে কখনো দেখা যায়নি। গোয়ায় এ যেন অন্য এক বাংলাদেশকেই দেখলেন দর্শকরা।

ফাইনাল ম্যাচকে সামনে রেখে একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনেছিলেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলা দল থেকে দুটি পরিবর্তন আনেন। সুরভী আকন্দ প্রীতি ও উমহেলা মারমার জায়গায় সুযোগ দেওয়া হয় অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং তহুরা খাতুনকে। এ ছাড়া গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে না থাকা আফঈদা খন্দকারকে ফাইনালে প্রথম একাদশে রাখেন কোচ। টুর্নামেন্টের প্রত্যেক ম্যাচের মতো ফাইনালেও একাদশে পরিবর্তন কৌশল সাজান বাটলার।

গোল করে এগিয়ে থাকার কৌশল অবলম্বন করেই মাঠে নামে দুই দল। সেই কৌশলে প্রথমেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে পেয়ারি শাশাকে আটকাতে ব্যর্থ হন সুরভী। ফলে পরাস্ত হন গোলরক্ষক মিলি আক্তার (১-০)। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঋতপর্ণার অসাধারন এক গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে তার কোনাকুনি শট ভারতীয় গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায় (১-১)। তবে প্রথমার্ধে তুলনামূলক আক্রমন বাংলাদেশই করেছে বেশি। যেমন ১২ মিনিটে তহুরার ক্রস, শামসুন্নাহারের মিস। বারের কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও বলে পা ছোঁয়তে ব্যর্থ হন শামসুন্নাহার। মিনিট দুই পরে সেই তহুরা গোলকিপারকে ওয়ান টু ওয়ানে পেয়েও মিস করেন। ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের বিপদ সীমানায় ফের আঘাত স্বাগতিকদের। সানফিদা নংরুমের শট শুয়ে পড়ে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। কিন্তু বৃথা যায় তার চেষ্টা। মিলির হাত লেগে বারে ধাক্কা খেয়ে বল জালে প্রবেশ করে (২-১)।

৫৬ মিনিটে মারিয়ার শট গোলবার থেকে ফিরিয়ে দেন ভারতের এক ডিফেন্ডার। নইলে ফের সমতায় ফিরতে পারত বাংলাদেশ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণের ধারও বাড়াতে থাকে স্বাগতিকরা। ৬৪ ও ৬৫ মিনিটে দুই দুই শট বার ঘেষে বাইরে না গেলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত ভারতের। শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে ৭০ মিনিটের পর থেকেই অবশ্য রক্ষণাত্মক খেলতে থাকে ভারত। ৮৩ মিনিটে লিন্ড কম সার্তোরের গোলে জয়কে সময়ের ব্যাপার করে তোলে ভারত (৩-১)। শেষে এই ব্যবধানে হেরে শিরোপা খুঁইয়ে মাঠ ছাড়েন মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণার চাকমা, আফঈদা খন্দকাররা। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছিল ২০১৬ সালে। ভারতের শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে হারতে হয়েছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। এরপরের আসরে ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।