তপুর জোড়া গোলে ইউরোপে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথমবার ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলতে নেমে শুরুটা দারুণ করল বাংলাদেশ। যদিও রক্ষণের দুর্বলতায় প্রথমার্ধেই গোল হজম করল তারা। তবে, শেষ দিকে আবার জালে বল পাঠালেন তপু বর্মন। সান ম্যারিনোকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল টমাস ডুলির দল। গত শুক্রবার মধ্যরাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। ফিফা র?্যাংকিংয়ের একদম তলানির দল সান ম্যারিনো, অবস্থান ২১১তম। তাদের চেয়ে ৩০ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে, প্রথমবার ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলা। এছাড়া, দুই সপ্তাহ আগেই দায়িত্ব পেয়েছেন কোচ ডুলি। গত মার্চের দুটি ম্যাচেই জুটেছিল হারের তেতো স্বাদ।

সবকিছু মিলিয়ে, সময়টা ভালো কাটছিল না হামজা-জামালদের। তবে, সব প্রতিকূলতা সামলে দারুণ এক জয়ের আনন্দে ভাসল তারা। বাংলাদেশের ডাগআউটে ডুলির শুরুটাও হলো দুর্দান্ত। মাঝমাঠের বড় ভরসা শমিত সোমকে বাইরে রেখে বাংলাদেশ কোচের শুরুর একাদশ সাজানোর সিদ্ধান্ত ছিল বেশ অবাক করার।

ম্যাচ শুরু হতেই একবার আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। যদিও প্রতিপক্ষ রক্ষণের তেমন পরীক্ষা নিতে পারেনি তারা। ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমণে মনোযোগ দেয় বাংলাদেশ।

ষোড়শ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় বাংলাদেশ, ডি-বক্সে থেকে তাদের সেই প্রচেষ্টা রক্ষণে প্রতিহত হয়। এর একটু পরই এগিয়ে যায় তারা। গোলটির উৎস হামজা চৌধুরির ফ্রি কিক। সতীর্থদের পা ঘুরে ডি-বক্সের ডান দিকে বল পেয়ে দূরের পোস্টে দারুণ ক্রস বাড়ান শেখ মোরসালিন, আর অরক্ষিত তপু বর্মন নিখুঁত হেডে দলকে এগিয়ে নেন। রক্ষণের দুর্বলতায় ৩১তম গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা বেরার্দিকে বাইলাইনের কাছে আটকাতে স্লাইড করেন তপু, কিন্তু প্রতিপক্ষের ধারেকাছেও যেতে পারেননি তিনি। বিনা বাধায় বেরার্দি ডি-বক্সে নিকোলাস গাকোপেত্তিকে খুঁজে নেন। সেখানেও এই ফরোয়ার্ডকে চ্যালেঞ্জ জানায়নি কেউ, প্লেসিং শটে গোলটি করেন তিনি, গোলরক্ষক মিতুল মারমারও দায় আছে কিছুটা।

পাঁচ মিনিট পর আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ, ডি-বক্সে বল পায়ে ঢুকে পড়েন সাদ, সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু উড়িয়ে মেরে হতাশ করেন বাংলাদেশ ডিফেন্ডার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ; মাঠে নামেন শমিত, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা। মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যে গোল পেতে পারতেন সোহেল। কিন্তু গোলমুখে সতীর্থের পাস পেয়েও প্রয়োজনীয় টোকা দিতে পারেননি তিনি। চার মিনিট পর দুর্ভাগ্য তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শট দূরের পোস্টে বাধা পায়।

৬১তম মিনিটে দারুণ এক সেভ করে দলকে সমতায় রাখেন মিতুল। কাপিচিয়োনির দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে এক হাত বল বাইরে পাঠান বাংলাদেশ গোলরক্ষক। প্রীতি ম্যাচ হলেও, শেষ দিকে দুই দলই যেন কিছুটা মরিয়া হয়ে ওঠে।

বারবার ঘটতে থাকে ফাউল, কয়েক জনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। অবশেষে ৮৬তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় বাংলাদেশ এবং এই গোলেরও উৎস হামজার আরেকটি ফ্রি কিক। ডান দিক থেকে বক্সে বল বাড়ান ইংল্যান্ড প্রবাসী মিডফিল্ডার। সেখানে শট নেন বিশ্বনাথ ঘোষ, বল লক্ষ্যেই ছিল, তবে হেড করে একটু দিক পাল্টে দেন তপু, বল চলে যায় জালে। শেষ সময়ে সোজাসুজি এক শট ঠেকাতে গিয়ে গড়মিল করেন মিতুল, তার হাত থেকে ছুটে যায় বল। তবে ভাগ্য ভালো তার, বল পুরোপুরি গোললাইন পার হয়নি। চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে দুই দলের খেলোয়াড়রা বিতণ্ডায় জড়ায়। রেফারি ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। এর একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি, জয়ের আনন্দে মাতে বাংলাদেশ দল।