বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া ‘পরীক্ষা’ আজ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আজ বেলা ১১টায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। একটা সময় ছিল, যখন অস্ট্রেলিয়ার নাম শুনলেই ক্রিকেট বিশ্বের বেশিরভাগ দলের ভেতরে বাড়তি চাপ কাজ করে! বিশ্ব ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের আধিপত্য, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং জয়ের সংস্কৃতি দলটিকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া নতুন ওয়ানডে সিরিজের আগে বাংলাদেশ শিবিরে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক আবহ। প্রতিপক্ষকে সম্মান করলেও ভয় নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর আস্থা রেখেই মাঠে নামতে প্রস্তুত মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ঈদের ছুটির পর দেশের ক্রিকেট আবারও ফিরছে প্রতিযোগিতার উত্তাপে। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের মাটিতে সাদা বলের সিরিজ খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। তাই মাঠের লড়াইয়ের পাসাপাসি এই সিরিজ ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহও তুঙ্গে!

সিরিজ শুরুর আগে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ তুলে ধরেছেন দলের মানসিকতা, প্রস্তুতি এবং লক্ষ্য। তার কথায় স্পষ্ট, প্রতিপক্ষ যত বড়ই হোক, নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্ভব। আজ অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘চেষ্টা করব সর্বোচ্চ ভালো ক্রিকেট খেলতে। আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী (দল নিয়ে), সবাই ভালো ফর্মে আছে এবং ব্যাটার-বোলাররা খুব ভালো টাচে আছে, ডিপিএলেও খুব ভালো খেলেছে সবাই। আমাদের জন্য এটা একটা বিরাট সুযোগ, যেহেতু অস্ট্রেলিয়া আমাদের সঙ্গে অনেক বছর পরে সিরিজ খেলছে, আর আমাদের যেহেতু ঘরের মাঠ সুযোগটা আমরা নিতে পারলে খুবই ভালো হবে।’

এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। দেশের ক্রিকেটারদের অনেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো ছন্দে ছিলেন। ব্যাটার ও বোলারদের ফর্মও বাংলাদেশ দলকে বাড়তি সাহস জোগাচ্ছে। আর ঘরের মাঠের কন্ডিশন তো বরাবরই টাইগারদের অন্যতম বড় শক্তি। অবশ্য সিরিজ শুরুর আগেই অস্ট্রেলিয়া দল কিছুটা বদলে গেছে। ওয়ানডে অধিনায়ক মিচেল মার্শ ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না। ব্যক্তিগত কারণে সফরে আসেননি ট্রাভিস হেডও। পাকিস্তান সফরে চোট পাওয়া লেগ স্পিনার তানভীর সাংঘাও ছিটকে গেছেন দল থেকে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য এটি বাড়তি সুবিধা হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু মিরাজ সেই সমীকরণে বিশ্বাসী নন। তার দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষের অনুপস্থিত খেলোয়াড় নয়, মাঠে নামা খেলোয়াড়দের সামর্থ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মিরাজ আমরা এর আগেই শুনেছিলাম দুজনের না আসার বিষয়টা, কিন্তু কালকে নিশ্চিত হয়েছি। তবুও আমরা দল হিসেবে চিন্তা করছি। ওরা যে দলটা এসেছে, অবশ্যই ওরা অনেক ভালো দল এবং অনেক শক্তিশালী। আমরা আমাদের ভূমিকা পালনের চেষ্টা করব। ওদেরকে নিয়ে বেশি চিন্তা না করে আমাদের জায়গা থেকে পারফর্ম করার চেষ্টা করব।’ বাংলাদেশ অধিনায়কের বক্তব্যে পরিষ্কার, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নয়, নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগানোই তাদের মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যকে এক বাক্যে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আমাদের একটাই প্ল্যান, ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, ম্যাচ জিততে হবে।’ সিরিজের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আরেকটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে পেস বোলিং কোচ শন টেইটের বিদায়। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গতিতারকা শেষ মুহূর্তে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় অনেকেই মনে করেছিলেন, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানদের জন্য এটি একটি ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে নিজ দেশের ক্রিকেটারদের সম্পর্কে টেইটের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারত।

তবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন মিরাজ। তার মতে, স্থানীয় কোচদের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার এটি বড় সুযোগ। তিনি বলেন, ‘ও শেষ মুহূর্তে বলেছে। এটা ক্রিকেট বোর্ড ডিসকাশন করে তার সঙ্গে কথা বলেছে। আমার কাছে মনে হয়, লোকাল যে কোচেরা আছে তাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ এবং আমার কাছে মনে হয় লোকাল যারাই আছে, তারাও অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন এবং তারা যদি সুযোগটা নিতে পারে, তাদের জন্য অনেক ভালো।’ অন্যদিকে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলও প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাকায়। ট্রাভিস হেড ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছেন, আর মিচেল মার্শের গোড়ালির চোট এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আশা করছে, টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগেই মার্শ দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন। মার্শ ও হেডের অনুপস্থিতিতে জশ ইংলিসই নেতৃত্ব দেবেন অস্ট্রেলিয়াকে। একই সঙ্গে স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছেন ম্যাট শর্ট, অলি পিক এবং অফস্পিনার টড মারফি।

এই সফরের মাধ্যমে ১৫ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০১১ সালে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফর করেছিল তারা। সেই সিরিজে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল অজিরা। তবে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি খুব সুখকর নয়। ২০২১ সালে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে। সেটি ছিল বাংলাদেশের অন্যতম স্মরণীয় সিরিজ জয়।