উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

বছর গড়িয়ে মাস, মাস পেরিয়ে সপ্তাহ। দিনের শেষে ঘন্টা, অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা এক দিক থেকে করা কঠিন, অন্য দিক থেকে করা বেশ সহজ। যেদিক থেকে সহজ সেটি হচ্ছে, স্বাগতিক ও তুলনামূলক শক্তিশালী দল হিসেবে মেক্সিকোর জেতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

র?্যাংকিংয়ে তারা অনেক উপরে। সাম্প্রতিক ফর্ম, স্কোয়াড এবং ঘরের মাঠের সুবিধা তাদের এগিয়ে রেখেছে। গ্যালারির ৮০ হাজারেরও বেশি উন্মাতাল দর্শকই মেক্সিকোর শক্তির উৎস হবে না। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকো সিটির আকাশছোঁয়া উচ্চতা এবং পাতলা বাতাসই হতে পারে এই ম্যাচে স্বাগতিকদের সবচেয়ে বড় গোপন অস্ত্র।

খেলাটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুপুরের কড়া রোদ দুই দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক সহনশীলতার চরম পরীক্ষা নেবে। তবে সব ছাপিয়ে মূল আলোচনায় উঠে এসেছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ ফুটেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এস্তাদিও আসতেকার ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্ব ফুটবলের খুব কম স্টেডিয়ামই এমন চরম উচ্চতায় অবস্থিত। এই ধরনের পরিবেশে অভ্যস্ত না হলে ফুটবলাররা খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক বেড়ে যায় এবং আধুনিক ফুটবলের গতিময়তা ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই চেনা পরিবেশকে নিজেদের জন্য দারুণ এক প্লাস পয়েন্ট বলে মনে করছেন মেক্সিকান ফুটবল কমিশনার মিকেল আররিওলা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছিলেন যে, নিজেদের মাঠ, ঘরের দর্শক এবং এই উচ্চতা মেক্সিকোকে এক বিশাল সুবিধা এনে দেবে। ইতিহাসও মেক্সিকোর এই বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলে। ঘরের মাঠে মেক্সিকোর আগের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সগুলো ছিল দুর্দান্ত, যার মধ্যে ১৯৮৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্মৃতি অন্যতম।

ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মানবদেহের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন, যাতে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পায় এবং অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। এই সময়ের অভাবে খেলোয়াড়রা মাঠে দ্রুত দম হারিয়ে ফেলেন। আর এই চ্যালেঞ্জকে বেশ গুরুত্বের সাথেই নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকো সিটির প্রতিকূলতার জবাব দিতে তারা তাদের অনুশীলন ক্যাম্প গেড়েছে মেক্সিকোরই আরেক শহর পাচুকাতে, যার উচ্চতা মেক্সিকো সিটির চেয়েও বেশি, প্রায় ৮ হাজার ফুট। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাই নয়, গ্রুপ পর্বের অন্যান্য দল যেমন দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটিতে উচ্চতাণ্ডপ্রস্তুতি সেরেছে। অন্যদিকে কলম্বিয়াও নিজেদের ম্যাচগুলোর আগে বোগোতার পাহাড়ি অঞ্চলেই অবস্থান করছে। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কুবেক স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপের মতো ঠাসা সূচিতে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় তাদের হাতে নেই। প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মেক্সিকোর এই প্রাকৃতিক সুবিধা কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

এছাড়াও মেক্সিকোর রয়েছে আক্রমণভাগে রয়েছেন রাউল হিমেনেসের মতো অভিজ্ঞ এবং গিলবার্তো মোরার মতো বিষ্ময়বালক। রয়েছেন ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়তে যাওয়া গিয়ের্মো ওচোয়া। গোলবার আগলে রাখতে যার জুড়ি মেলা ভার। সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুরু থেকেই চাপের মুখে রাখতে বেগ পেতে হবে না।

অন্যদিকে, ২০১০ বিশ্বকাপের ঠিক বিপরীত চিত্রে খেলা শুরু করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালে ঘরের মাঠে তারা ১-১ গোলে ড্র করেছিল মেক্সিকোর সঙ্গে। ঠিক ১৬ বছর পর এই দল দুটি মুখোমুখি হবে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে। এই বছরের সহ-আয়োজকরা ফিরতি ম্যাচের চেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য চেষ্টা করবে। হাভিয়ের আগুইরের দল ধারাবাহিক ম্যাচগুলোতে ছয়টি জয় পেয়েছে ও দুটি ড্র করেছে। গত সপ্তাহান্তে সার্বিয়ার বিপক্ষে ৫-১ গোলের এক দুর্দান্ত জয় পেয়েছে, যা তাদের উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য আশার পরিবেশ তৈরি করেছে। এই বিশ্বআসরর যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের ভিসা সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। তবে, অবশেষে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেয়। ২০১০ সালের সেই উদ্বোধনী ম্যাচের স্মৃতি মনে রেখে আয়োজকদের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করার চেষ্টায় মরিয়া থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকা অতীতেও কিছু বড় অঘটন ঘটিয়েছে, যে কারণে এটি অসম্ভব কিছু নয়।

মেক্সিকোর সম্ভাব্য একাদশ : রাঙ্গেল, সানচেস, মন্তেস, ভাসকেস, গায়ার্দো, লিরা, গুতিয়েরেজ, আলভারাদো, ফিদালগো, কুইনোনস, হিমেনেস।

দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য একাদশ : উইলিয়ামস, মুডাউ, ওকোন, এমবোকাজি, মোদিবা, মোকোয়েনা, অ্যাডামস, অ্যাপোলিস, জোয়ানে, মোরেমি, ফস্টার।