বিশ্বকাপ টিকিট বিতর্কে নতুন হাওয়া

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা, যেখানে ফুটবল সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ, সেখানে কিনা বিশ্বকাপের ম্যাচে স্টেডিয়ামে ফাঁকা ছিল প্রচুর আসন! দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। ফাঁকা আসনের ছড়াছড়ি বিশ্বকাপ টিকেটের মূল্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার সকালের ম্যাচে সাপোপানে চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া। ফিফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন। তবে গ্যালারির বিভিন্ন অংশে অনেক ফাঁকা আসন দেখা গেছে।

আসতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল গ্যালারি। ৮০ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন মাঠে। সেখানে গুয়াদালাহারার ৪৬ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে আসন খালি ছিল চোখে পড়ার মতো। এমন দৃশ্য ফিফার বাণিজ্যিক কৌশলের দিকে আঙুল তুলছে। ৪৮ দলের প্রথম এই বিশ্বকাপ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

স্টেডিয়ামে আসা কিছু সমর্থক এই ফাঁকা আসনের জন্য টিকেটের আকাশচুম্বী মূল্যকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, ফিফার বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির কারণে অনেক সাধারণ দর্শকের পক্ষে ম্যাচ দেখতে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বকাপের শুরুর আগের দিন বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য টিকেটের ‘চড়া’ মূল্যের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। টিকেটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার যে অভিযোগ সমর্থকদের, তা নাকচ করে দিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, টিকেটের মূল্য অন্যান্য বড় বড় ক্রীড়া ইভেন্টের সমপর্যায়েই রাখা হয়েছে।

ফিফা ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের ৬০ লাখেরও বেশি টিকেট বিক্রি করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে পুরো আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রবল আগ্রহের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, টিকেটের চাহিদা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে ‘১০ গুণের বেশি’ ছিল। তবে ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপের (এফএসই) মতো সমর্থক গোষ্ঠীগুলো আগেই সতর্ক করেছিল যে, টিকেটের এমন ‘অতিরিক্ত ও গলাকাটা’ দাম সাধারণ সমর্থকদের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। এফএসই-এর মতে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের টুর্নামেন্টে টিকেটের দাম প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।