অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

এই সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়া মানেই হার অবধারিত ছিল। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতোমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ার পর এবার টাইগারদের সামনে নতুন লক্ষ্য-অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা! সেই মিশনে আজ মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের আগে গতকাল শনিবার দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সৌম্য সরকার। জানালেন- সিরিজ জয় যেমন বড় অর্জন, তেমনি ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে পারলে সেটি হবে আরও স্মরণীয় সাফল্য।

সৌম্য বলেন, ‘হোয়াইটওয়াশ অবশ্যই অনেক বড় অর্জন হবে। যখন সিরিজ জিতেছি, এটাই অনেক বড় অর্জন। এটাই অনেক বড়ভাবে উদযাপন করা উচিৎ ছিল। ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে আরও বড় অর্জন হবে। আমাদের সবার লক্ষ্যও থাকবে এটা। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। যারা তিন বিভাগেই ভালো করবে, তারাই জিতবে।’ দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের একাদশে সুযোগ পাওয়া সৌম্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হঠাৎ করে ফিরে আসার চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, এটি কেবল তার জন্য নয়, যেকোনো ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জিং। সৌম্যে বলছিলেন, ‘শুধু আমার জন্য না, যেকোনো ক্রিকেটার যখন হুট করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যায় চাপ থাকে। শুধু আমার জন্য না। আমরা ক্রিকেটার, খেলতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে হবে।’

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া বা বাদ পড়ার বিষয়ে এখন আগের তুলনায় বেশি স্বচ্ছতা রয়েছে বলেও জানান এই বাঁহাতি ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘এখন অনেক ভালো। এখন অনেক ক্লিয়ার থাকে সবাই। জানানো বা বোঝানোর চেষ্টা করে কী কারণে হচ্ছে। দলেরও লক্ষ্য আছে, সেটার মধ্য দিয়েই সবাই যাচ্ছে।’ তবে সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ফাস্ট বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সৌম্য তাদের বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার দেখা যেটা, অন্যতম সেরা পেস বোলিং ইউনিট আমাদের যেকোনো কন্ডিশনে, যেকোনো দেশে। যেকোনো দল আমাদের সঙ্গে খেলতে গেলে অবশ্যই চিন্তা করবে। আমাদের যে অ্যাটাক আছে তাদের নিয়ে। বাইরে খেলতে গেলেও চিন্তা করবে ফাস্ট বোলিংবান্ধব পিচ বানাব কি না। খুব ভালো সময় যাচ্ছে পেসারদের, এত ভালো করছে।’

পেসারদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সৌম্য বলেন, ‘উইনিং রেশিওতে আগে স্পিন অনেক সহায়তা করত, এখন যেটা ফাস্ট বোলাররা করছে। তাদের অনেক যত্ন করা উচিৎ যেন লম্বা সময় দলকে ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং তাদের দেখে পরবর্তীরা ভালো করতে পারে, নিজেকে তৈরি করে পাইপলাইনে এসে যারা আছে ওদের নক করতে পারে। তাহলে ভালো প্রতিযোগিতাও হবে, ভবিষ্যতেও ঘাটতি হবে না।’

এদিকে তৃতীয় ওয়ানডের আগে বাংলাদেশ দলে যুক্ত হয়েছেন অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলের সঙ্গে থাকলেও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ম্যাচ খেলার সক্ষমতা নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বিসিবি জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা ম্যাচের দিন আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মূল্যায়ন করা হবে। আজ সকাল ১১টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

শুরু হওয়া ম্যাচে জয় পেলে শুধু সিরিজ নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশের কীর্তিও গড়বে বাংলাদেশ!

তবে শেষটা ভালো করে অন্তত হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পেতে চায় অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজের আগে ২১ বছরে বাংলাদেশের কাছে কোনো ওয়ানডে হারেনি অস্ট্রেলিয়া। এবার শুধু একটি ম্যাচ নয়, সিরিজও হেরে গেছে প্রথম দুই ম্যাচেই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য এই হার হজম করা কঠিনই। সেই হতাশা লুকালেন না মার্নাস লাবুশেন। ম্যাচের আগের দিন দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে মার্নাস লাবুশেন বললেন, সিরিজ হেরে গেলেও শেষ ম্যাচ থেকে পাওয়ার অনেক কিছু আছে তাদের। ‘অবশ্যই যে কোনো ম্যাচ হারা হতাশাজনক। আমরা সব সময় ম্যাচ জিততে চাই। এজন্যই আমরা মাঠে নামি এবং পছন্দের খেলা খেলতে পারার জন্যই ঘর ছেড়ে এত সময় বাইরে থাকি। কাজেই আজ (রোববার) মাঠে নেমে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে চাই। ব্যবধান ৩-০ হোক বা ২-১, দিনশেষে সিরিজটা হেরে গেছি। এই ব্যাপারটি কষ্টদায়ক। তার পরও আমরা নিশ্চিত করতে চাই, আগামীকাল যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামতে পারি।’

বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে যেতে এবং উত্তরসূরীদের জন্যও শেষ ম্যাচের জয়টি জরুরি মনে করছেন গত ম্যাচে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান। ‘পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, সিরিজটি আমাদের জন্য আদর্শ ছিল না। তবে প্রত্যেকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচই একেকটা সুযোগ। আমরা যা-ই করছি, এটি পরবর্তী প্রজন্ম ও বিশ্বকাপের জন্য ভিত তৈরি করছে। প্রত্যেকটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ এবং নিশ্চিত করতে চাই, সিরিজ ২-১ ব্যবধানে যেন শেষ করতে পারি।” শেষ ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতিও খুব আদর্শ হয়নি। দুপুরে তারা যখ অনুশীলনের জন্য মাঠে প্রবেশ করেন, তখনই মিরপুরে ছিল ঝুম বৃষ্টি।

অনুশীলনে বৃষ্টি এভাবে বাগড়া দেওয়ায় খানিকটা হতাশ লাবুশেন। অসহায়ত্বই ফুটে উঠল তার কণ্ঠে। ‘মাঠে এসে অনুশীলন করার সুযোগ না পেলে সবসময় হতাশা কাজ করে। তবে এটা খেলার অংশ। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেন আগামীকালের (রোববার) ম্যাচে পুরোপুরি মনযোগী ও প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামতে পারেন। আবহাওয়া বেশ কিছুদিন ধরেই টানা এমন আচরণ করছে। আগামীকালের ম্যাচেও যদি কিছুটা বৃষ্টি হয়, সেটা মোটেও আশ্চর্যজনক হবে না।’