ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ফেভারিট স্পেনের সামনে নবাগত কেপ ভার্দে

ফেভারিট স্পেনের সামনে নবাগত কেপ ভার্দে

বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান পরাশক্তি এবং ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন সোমবার আটলান্টায় তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। ‘এইচ’ গ্রুপের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রাখ নবাগতা কেপ ভার্দে। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব জয়ের পর গত তিনটি আসরে স্পেন চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিলেও, এবার নতুন প্রজন্মের তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটিতে লা রোজাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ।

২০২৪ সালের ইউরো জয়ের পর তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভি এবং ফেরান তোরেসদের হাত ধরে স্প্যানিশ ফুটবলে এক নতুন স্বর্ণালী যুগের সূচনা হয়েছে। গত মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে হারের পর থেকে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকা দলটি এখন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। ওপ্টার সুপার কম্পিউটারের তথ্যমতে, ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে স্পেন এবার শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। যদিও এপ্রিল মাসে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়া ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসের খেলা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কোচ দে লা ফুয়েন্তে তাদের ঝুঁকি না নিয়ে বেঞ্চে রাখার পরিকল্পনা করতে পারেন।

অন্যদিকে, রূপকথার মতো বাছাইপর্ব পার করে আসা কেপ ভার্দের জন্য এবারের বিশ্বকাপ এক বিশাল মাইলফলক। মাত্র ৬ লাখের কম জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি আইসল্যান্ড এবং কুরাসাওয়ের পর তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছে। পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরে এমন অর্জন তাদের জন্য বাড়তি আবেগ বয়ে আনছে। ২০১৩ সালে আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়া দলটি।

কেপ ভার্দের এই সাফল্যের পেছনে তিনটি কারণ। এক, প্রবাসী খেলোয়াড়। দলের ৯০ শতাংশ খেলোয়াড় পর্তুগাল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া প্রবাসী। তাঁরা ইউরোপের বিভিন্ন একাডেমিতে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। দুই, কোচ পেদ্রো লেইতাও। তিনি জমাট রক্ষণ আর প্রতি-আক্রমণে কারিশমা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তিন, খেলোয়াড়দের মানসিকতা। হারানোর কিছু নেই বলে তাঁরা খেলে ভয়ডরহীনভাবে, উপভোগ করার মানসিকতা নিয়ে। আর ফুটবলে অঘটন ঘটানোর জন্য এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র।

১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করে দেশটি। শুরুতে আফ্রিকান ফুটবলের প্রেক্ষাপটে তারা আড়ালেই পড়ে ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছে তারা। দেশের বাইরেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভার্দিয়ান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ জাতীয় দলকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

গত কয়েক বছরে কেপ ভার্দে নিজেদের এমন এক দলে পরিণত করেছে, তাদের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ নয়। রক্ষণভাগে দৃঢ়তা, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা তাদের আলাদা পরিচয় করে দিয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সেই সামর্থ্যরেই প্রমাণ দিয়েছে ব্লু শার্কসরা। পাঁচ ম্যাচে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে তারা। আরও অবাক করার মতো বিষয়, পুরো বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষ কোনো গোলই করতে পারেনি তাদের বিপক্ষে। ক্যামেরুন ও অ্যাঙ্গুলার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ গ্রুপে থাকা সত্ত্বেও গ্রুপসেরা হয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা।

কেপ ভার্দের বর্তমান দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস, গোলরক্ষক ভোজিনহা, ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেস, মিডফিল্ডার জামিরো মন্টেইরো ও ফরোয়ার্ড গ্যারি রদ্রিগেসের মতো ফুটবলাররা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউরোপের বিভিন্ন লীগে খেলা তাদের আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলেছে। কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম স্থপতি জাতীয় দলের প্রধান কোচ পেড্রো লেইতাও বিট্রো। ফুটবল বিশ্বে তিনি ‘বুবিস্তা’ নামে পরিচিত। খেলোয়াড়ি জীবনে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামা এই সাবেক ডিফেন্ডার পরবর্তী সময়ে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দলকে নিয়ে যান নতুন উচ্চতায়।

বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব। কাগজে-কলমে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না দলটি বরং প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের চেনানোর সুযোগ হিসেবেই দেখছে তারা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬৭তম অবস্থানে থাকা দেশটির জন্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই একটি ঐতিহাসিক অর্জন। তবে কেপ ভার্দে শুধু ইতিহাস গড়েই থেমে থাকতে চায় না। বিশ্বকাপের আলোয় নিজেদের ফুটবল দর্শন তুলে ধরে চমক দেখানোর স্বপ্নও দেখছে তারা। ছোট্ট একটি দ্বীপরাষ্ট্রের এই যাত্রা ইতিমধ্যে আফ্রিকান ফুটবলের অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়ে পরিণত।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত