টি-টোয়েন্টিতেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

অল্পের জন্য হোয়াইটওয়াশের স্বাদ না পেলেও প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই জয়ে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। এবার সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অজিদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে দলের মানসিকতা, স্কোয়াড নির্বাচন, পেস আক্রমণ, স্পিন পরিকল্পনা এবং বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। তিনি জানান, ওয়ানডে সিরিজ জয় আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে তাদের। লিটন বলেন ‘শুধুমাত্র সিরিজ জিতেছি না, তিন ম্যাচেই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। এটা বাড়তি পাওয়া। অবশ্যই সংস্করণ ভিন্ন, আমাদের দল ভিন্ন এবং ওদের দলও ভিন্ন। একটা ভালো দিক, আমাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ওয়ানডে ক্রিকেট খেলেছে। সবার ওই (সিরিজ জয়ের) আত্মবিশ্বাস আছে। নির্দিষ্ট দিনে খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এবারই প্রথম সিরিজ হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে টি-টোয়েন্টিতে এই তেতো স্বাদ পেয়েছে আগেই, ২০২১ সালে। সেবার অবশ?্য মিরপুরে স্পিন মঞ্চ সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই পথে হাঁটছেন না লিটনরা। টি-টোয়েন্টিতেও স্পোর্টিং উইকেটে সফরকারীদের হারাতে চান তারা। সতীর্থদের লিটন মনে করিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়া বড় দল আর খেলা হবে ভিন্ন সংস্করণে। তাতে দলকে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই সতীর্থদের সেভাবেই প্রস্তুত হতে বললেন অধিনায়ক। ‘এই সংস্করণটাই কঠিন। সীমিত ওভারের সংস্করণের খেলায় যে কোনো দলই আক্রমণাত্মক মনোভাবে থাকে। আসলে যে কোনো দলই যখন ব্যাটিং-বোলিং করে, ওই মানসিকতা নিয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়া অবশ্যই বড় নাম। তারা তাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলার চেষ্টা করবে। অবশ্যই আমরাও আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলার চেষ্টা করব। আমি আবারও বলছি, অবশ্যই যে কোনো দলের বিপক্ষে জিততে গেলে নির্দিষ্ট দিনে খুবই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’ এই ভালো ফলের জন্য লোয়ার মিডল অর্ডারের কাছে একটু ‘বাড়তি’ আশা করছেন লিটন। সবশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও একই সুর ছিল তার কথায়। ওই সিরিজে খানিকটা প্রতিদানও দিয়েছে লোয়ার মিডল অর্ডার। নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলের মূল পেসারদের বিশ্রামে রেখে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফেরানো হয়েছে মূল পেসারদের। তারা থাকায় লিটন বললেন, সেরা দল নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি। ‘একটা জিনিস ভালো, পেস ইউনিট অনেক শক্তিশালী। যে কোনো খেলোয়াড়কেই খেলাতে পারবেন সেরা একাদশে। এটা ভালো প্রতিযোগিতা। একই সময়ে বাংলাদেশ দলের জন্য ভালো, বেঞ্চ অনেক শক্তিশালী হচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, তাসকিন বড় নাম। তাদের যে অভিজ্ঞতা। সবশেষ সিরিজে তাদেরকে (পেসারদের) বিশ্রামের কারণে খেলানো হয়নি। এই সিরিজে তারা এসেছে। পূর্ণশক্তি নিয়ে আমরা যাচ্ছি ভালো ক্রিকেট খেলার জন্য।’

এদিকে টি-টোয়েন্টি দলে দীর্ঘদিন পর সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকারের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন লিটন।

তিনি জানান, নিজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা এবং ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের অসুস্থতার কারণে বাড়তি বিকল্প হিসেবে সৌম্যকে দলে নেওয়া হয়েছে। ‘আমি নিজেই ফিফটি-ফিফটি অবস্থায় ছিলাম। ইমনেরও কিছুটা অসুস্থতা আছে। তাই আমরা ঝুঁকি নিতে চাইনি। সেই কারণেই সৌম্যকে নেওয়া হয়েছে,’ বলেন অধিনায়ক।

স্পিন বিভাগ নিয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন লিটন। রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও সাকলাইন সজীবের মধ্যে কাকে খেলানো হবে, তা নির্ভর করবে উইকেট ও ম্যাচ পরিস্থিতির ওপর। সাকলাইনের খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে অবশ্য এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। অনুশীলনের পর উইকেট পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পেসার শরিফুল ইসলামকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, শরিফুল কখনোই দ্বিতীয় সারির পেসার নন। বরং বাংলাদেশের পেস আক্রমণে এত বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে যে সবাইকে একসঙ্গে খেলানো সম্ভব হয় না। ‘আমার মনে হয় না শরিফুল নিজেকে ফার্স্ট চয়েজের বাইরে ভাবে। সেও ফার্স্ট চয়েজ। কিন্তু তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এত পেসার আছে যে কাউকে কাউকে রোটেশনে যেতে হয়,’ বলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করেন টাইগাররা। অনুশীলনে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করতে দেখা যায় দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের। প্রথমে ওয়ার্মআপ ও ফিটনেস ড্রিলের মাধ্যমে অনুশীলন শুরু হয়। এরপর ব্যাটাররা নেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেন। ওপেনার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের ম্যাচ পরিস্থিতি মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের শট অনুশীলন করতে দেখা যায়। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে এবং ডেথ ওভারে ব্যাটিং পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন কোচরা। পেসার ও স্পিনাররা আলাদা গ্রুপে নিজেদের দক্ষতা শানিয়ে নেন।