বিশ্বকে মুগ্ধ করেই যাচ্ছে কেপ ভার্দে

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই জন্ম নেয় কিছু অবিশ্বাস্য গল্প! ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত রূপকথার নাম কেপ ভার্দে। আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি অভিষেক বিশ্বকাপেই এমন ফুটবল খেলছে, যা মুগ্ধ করেছে বিশ্বকে। এবার তাদের সামনে হাতছানি দিচ্ছে শেষ বত্রিশের ইতিহাস! বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তারা চমকে দিয়েছিল সবাইকে। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের চেয়ে ৬৫ ধাপ এগিয়ে থাকা স্পেনকে রুখে দিয়েছিল ড্র করে। অনেকে সেটিকে এক দিনের বিস্ময় ভেবেছিলেন। কিন্তু গতকাল সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষেও ২-২ গোলে ড্র করে কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে, তারা কাকতালীয় কোনো দল নয়। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটি আক্রমণাত্মক, আত্মবিশ্বাসী ও উপভোগ্য ফুটবল উপহার দিচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। উরুগুয়ের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছে তারা। ম্যাচের এক পর্যায়ে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলটিকেই চাপে ফেলে দেয় কেপ ভার্দে।

ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত আসে কেভিন পিনার পা থেকে। প্রায় ৩০ গজ দূরের ফ্রি-কিক থেকে তার নেওয়া শট উরুগুয়ের রক্ষণপ্রাচীর ভেদ করে জালে জড়ায়। রাজধানী প্রাইয়াসহ পুরো দেশে তখন শুরু হয় উৎসব। পরে হেলিও ভারেলা দুর্দান্ত দক্ষতায় সমতা ফেরান। গোলরক্ষককে কাটিয়ে শান্ত মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। এরপর রক্ষণে দৃঢ়তা দেখানোর পাশাপাশি জয়ের গোলের খোঁজেও আক্রমণ চালিয়ে যায় কেপ ভার্দে।

দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপ ‘এইচ’-এ উরুগুয়ের সমান দুই পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কেপ ভার্দে। নতুন ফরম্যাটের বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ বত্রিশে উঠবে। ফলে শেষ ম্যাচে সৌদি আরবকে হারাতে পারলেই ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হবে কেপ ভার্দের। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে অপরাজিত থাকা দল হিসেবে ২০০২ সালের সেনেগালের পর প্রথম অভিষিক্ত দলও এখন কেপ ভার্দে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৩তম স্থানে থাকা এই দলটি যদি শেষ বত্রিশে পৌঁছে যায়, তাহলে নাইজেরিয়া ও রাশিয়ার পর সবচেয়ে নিচের অবস্থান থেকে নকআউটে ওঠা দলগুলোর একটি হয়ে যাবে।

ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দ কোচ বুবিস্তা বললেন, তারা কেবল নিজেদের ফুটবল নয়, জীবনের অন্য দিকও বিশ্বকাপ দিয়ে সামনে আনতে চান। যখন আপনি মাঠে নামবেন তখন অনেক কিছু সমান হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ যত বড়ই হোক বিশ্ব মঞ্চে বেশিরভাগ দল সমান হয়ে যায়। আমরা কেবল ফুটবল নয় এটা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেখাতে চেয়েছিলাম। দেখাতে চাই যে, আপনার চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক বা অন্য যাই হোক আপনি অসাধারণ কিছু অর্জন করতে পারেন, যদি আপনার কোনো স্বপ্ন থাকে এবং সেটা পূরণ করার চেষ্টা থাকে।’

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ৪৮ দলের বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এ খেলার স্বপ্ন বুনছেন কেপ ভার্দ কোচ। সেরা তৃতীয় হওয়ার পথও খোলা রয়েছে তাদের জন্য। ‘দুটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দলের বিপক্ষে আমরা যা করেছি, সেটা বিবেচনায় নিয়ে আমি মনে করি, আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত নক আউট পর্বে যাওয়ার দিকে। তবে আমরা জানি, এই দলগুলোর সবার সামনেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ফুটবলারদের পা মাটিতে রেখে সৌদি আরবের বিপক্ষে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দিলেন কেপ ভার্দ কোচ। তাদের পা অবশ্যই মাটিতে রাখতে হবে। আমরা জানি, সেটাও একটা চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ হবে। সৌদি আরবের সামনেও পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অবশ্যই এই ম্যাচগুলো খুব চ্যালেঞ্জিং হবে, তবে অবশ্যই আমাদের জেতার চেষ্টা করতে হবে।’