ব্রাজিলের নতুন রাজা ভিনিসিয়ুস

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

কেউ কেউ তারকা হয়ে জন্মায়, আর কেউ কেউ প্রবল ঝড়ের বিপরীতে বুক চিতিয়ে লড়াই করে নিজের রাজত্ব ছিনিয়ে নেয়। যখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারি থেকে বর্ণবাদের কুৎসিত স্লোগান ধেয়ে আসছিল, তখন কে জানত ফ্ল্যামেঙ্গোর সেই রোগা ছেলেটিই একদিন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ত্রাস হয়ে উঠবে? ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আজ যেখানে পা রাখলেন, তার নাম ‘কিংবদন্তিদের গ্যালাক্সি’।

আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কেবল একজন উইঙ্গার নন; ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের এক জীবন্ত ধাঁধা। বল পায়ে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ডেডলি বা ধ্বংসাত্মক ফরোয়ার্ডদের একজন তিনি। বাঁ-প্রান্ত থেকে তাঁর সেই অতিমানবীয় গতি, মুহূর্তেই দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা, আর ডিফেন্ডারদের চোখের পলকে ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলের প্রধান চালিকাশক্তি। কাতার বিশ্বকাপে যা ছিল কেবলই প্রতিভার ঝলক, ২০২৬-এর আমেরিকায় তা রূপ নিয়েছে এক নির্মম দক্ষতায়। বক্সে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া আর ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করার চতুরতা ভিনিকে এনে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতা।

রোমারিও, রিভালদো, রোনালদোর পাশে ভিনিসিয়ুস

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে গোল করা মানে ফুটবলের অমরত্ব পাওয়া। কেননা যেবারই এমন ঘটনা ঘটেছে, সেবারই বিশ্বকাপ জিতেছে সেলেসাওরা। মরক্কোকে দিয়ে শুরু, এরপর হাইতির বিপক্ষে সেই চোখধাঁধানো নাটমেগ গোল, আর সবশেষে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের রক্ষণব্যূহ ভেঙে জোড়া গোল! তিন ম্যাচে ৪ গোল করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজেকে নিয়ে গেছেন এমন এক উচ্চতায়, যেখানে বসার যোগ্যতা হয়েছিল কেবল ব্রাজিলের সোনালী প্রজন্মের জাদুকরদের।

১৯৯৪-এ রোমারিও, ১৯৯৮ ও ২০০২-এ রিভালদো, আর ২০০২-এর সেই অতিমানবীয় রোনালদো নাজারিও।