ইরানকে মনে রাখবে সবাই

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবলের ইতিহাস সব সময় শুধু বিজয়ীদের মনে রাখে না, কিছু বিদায় এমন হয় যা ট্রফির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত আর শ্রদ্ধা রেখে যায়। এবারের বিশ্বকাপে তেমনই এক বুকভাঙা কাব্যের নাম ইরান। কোনো ম্যাচ না হেরেও, বুক চিতিয়ে লড়াই করেও বিদায়ের নির্মম ট্র্যাজেডি সঙ্গী করে তেহরানের বিমান ধরতে হয়েছে তাদের। অথচ সমান পয়েন্ট নিয়ে যখন অন্য দলগুলো উল্লাসে মেতেছে, তখন ইরানকে বিদায় নিতে হয়েছে কেবল ভাগ্যের এক অদ্ভুত খেয়ালে। ফুটবল আসলেই নিষ্ঠুর, কখনো তা কয়েক সেকেন্ডে স্বপ্ন আকাশছোঁয়া করে, আবার কখনো এক মুহূর্তে সব দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেয়।

শেষ ম্যাচের আগে সমীকরণটা কিন্তু খুব জটিল ছিল না ইরানের জন্য। তাদের সামনে টিকে থাকার অনেকগুলো পথ খোলা ছিল। কিন্তু নিয়তি যেন সেদিন অলক্ষ্যে বসে অন্য এক চিত্রনাট্য লিখছিল। উজবেকিস্তান এগিয়ে গিয়েও ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয় হাতছাড়া করল, ক্রোয়েশিয়াও হারল না। আর অন্য মাঠে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচটি রূপ নিল চরম এক নাটকে। ইরান যেসব সমীকরণের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিল, তার একটিও তাদের পক্ষে এলো না।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এলো আলজেরিয়া আর অস্ট্রিয়ার সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ থেকে। ম্যাচের ২৮ মিনিটে মার্কো আর্নাউটোভিচ অস্ট্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পর প্রথমার্ধেই সমতা ফেরান রফিক বেলগালি। ৫৫ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের আত্মঘাতী গোলে অস্ট্রিয়া আবারও লিড নিলে ইরানি শিবিরে শঙ্কার মেঘ জমে। কিন্তু নিজের ভুল শুধরে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মাহরেজ গোল করে সমতা আনেন।

আসল ট্র্যাজেডি তখনো বাকি ছিল

যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সেই মাহরেজ। গ্যালারিতে তখন ইরানি সমর্থকদের চোখে আনন্দের জল, নকআউটের স্বপ্ন তখন হাতছোঁয়া দূরত্বে। কিন্তু ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্য কিছু চেয়েছিলেন। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে এক অবিশ্বাস্য হেডে সমতা ফেরায় অস্ট্রিয়া।