শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল, বিদায় ক্রোয়েশিয়ার

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব বত্রিশে রুদ্ধশ্বাস, নাটকীয় মহাকাব্যিক থ্রিলারের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। শেষ বাঁশি বাজার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পরতে পরতে উত্তাপ ছড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। অন্যদিকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ। বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার সকালে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে পর্তুগিজরা।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পর্তুগালের হাতেই। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি রবার্তো মার্তিনেজের দল। বিরতির পর ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়লেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি ও যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পর্তুগাল। এদিন ম্যাচের শুরু থেকে দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করে পর্তুগাল। চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের ক্রস থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পরপর দুটি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দোমিনিক লিভাকোভিচ। পরে হ্যান্ডবলের আবেদন জানালেও সাড়া দেননি রেফারি। এরপরও বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় পর্তুগাল। রোনালদোর ফ্রি-কিক, রেনাতো ভেইগার হেড এবং ব্রুনো ফার্নান্দেসের কঠিন কোণের শট; সবই প্রতিহত করেন লিভাকোভিচ। প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়া নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে থেকে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকলেও গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যেতে সক্ষম হয়। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা। এক মিনিট পর নিকোলা ভ্লাসিচও ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। ৫৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে নিকোলা ভ্লাসিচ বল দেন ওভারল্যাপ করা যোসিপ স্তানিশিচকে। মাতানোভিচ ও রুবেন দিয়াসের লড়াইয়ে বল দুজনের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেলে স্তানিশিচ তা নিয়ন্ত্রণে এনে জোরালো শট নেন। বলের গতিপথে থাকা ইভান পেরিসিচ স্পর্শ করে জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

তিন মিনিট পরই আবারও বল জালে জড়ায় ক্রোয়েশিয়া। তবে ভ্লাসিচ অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। ৫৮ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েও ভাগ্য সহায় হয়নি পর্তুগালের। বক্সের বাইরে থেকে রাফায়েল লিয়াওয়ের শক্তিশালী শট লিভাকোভিচকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটেই পেতার সুচিচের শট পায়ে ঠেকিয়ে কর্নারের বিনিময়ে দলকে বাঁচান দিয়োগো কস্তা। ৬০ মিনিটে একসঙ্গে চার পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন রবার্তো মার্তিনেজ। তার ফলও আসে দ্রুত। ৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে রেনাতো ভেইগাকে ধরে ফেলার ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। ৬৮ মিনিটে স্পটকিক থেকে সমতা ফেরান রোনালদো। লিভাকোভিচ একদিকে ঝাঁপ দিলেও ঠান্ডা মাথায় বল বিপরীত কোণে পাঠিয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা আনেন পর্তুগাল অধিনায়ক। এটি বিশ্বকাপের নকআউটে তার প্রথম গোল। চলতি আসরে তৃতীয় আর সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে ১১তম গোল। এরপর ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন দিয়োগো কস্তা।