বিসিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মুশফিক

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

মুশফিকুর রহিম এখনও বাংলাদেশের টেস্ট দলের অন্যতম ভরসা। ব্যাট হাতে লড়াই করছেন, উইকেটের পেছনেও প্রয়োজনমতো দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অধ্যায় তাই এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ বাঁকটা যে খুব দূরে নয়, সেটাও জানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই অবসরের অপেক্ষায় না থেকে এখন থেকেই মুশফিকের পরের ইনিংস নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বোর্ড! বিসিবির পরিকল্পনা, ক্রিকেটকে বিদায় বলার পর মুশফিক যদি আগ্রহী হন, তাহলে তাকে কোচিং কাঠামোয় যুক্ত করা হবে। বোর্ড মনে করছে, প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারেন দেশের অন্যতম সফল এই ব্যাটার।

এমন ভাবনার পেছনে অবশ্য একটি উদাহরণও আছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এখনও পেশাদার ক্রিকেট খেলছেন। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ যুব দল ও ‘এ’ দলের সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। বিসিবি চায়, সময় এলে মুশফিকও একইভাবে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুন। ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিসিবির সহসভাপতি ফাহিম সিনহা বলেছেন, ‘মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক- যারা আমাদের দেশের হয়ে এত দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছে, তাদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব।’ অবশ্য বোর্ডের এই পরিকল্পনার বড় শর্ত মুশফিকের সম্মতি। তিনি কোচিং বা ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্বে আগ্রহী হলেই কেবল সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে ফাহিমের কথায় পরিষ্কার, এমন একজন ক্রিকেটারকে বোর্ডের বাইরে রেখে দিতে চায় না বিসিবি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, যদি মুশফিক কোচিংয়ে আগ্রহী হন কিংবা ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করতে চান, তাহলে আমরা অবশ্যই তাকে যুক্ত করতে চাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত বছরের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক ক্রিকেটকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ- এসব আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক মূল্যবান। তাকে যদি আমরা বিসিবির সঙ্গে যুক্ত করতে না পারি, সেটি আমাদের ব্যর্থতা হবে।’ মুশফিককে নিয়ে এই পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশের কোচিং ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে চায় বিসিবি। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কোচদের মূল্যায়নের জন্য গঠন করা হচ্ছে তিন সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটি। মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, মিজানুর রহমান বাবুল ও সোহেল ইসলাম থাকবেন সেই কমিটিতে।

কোচদের জন্য চালু করা হবে কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই)। এর ভিত্তিতেই মূল্যায়ন হবে তাদের কাজ। পাশাপাশি জেলা কোচদের বেতনও বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন গ্রেডিং পদ্ধতির মাধ্যমে জেলা, বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয়-সব পর্যায়ের কোচদের মূল্যায়ন ও পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হবে। মুশফিক এখনও মাঠের ক্রিকেটার। তবে বিসিবির চোখে তিনি শুধু বর্তমানের ব্যাটার নন, ভবিষ্যতের একজন সম্ভাব্য কোচও। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদান যেন অবসরের সঙ্গে শেষ না হয়, বোর্ডের পরিকল্পনাটা মূলত সেই লক্ষ্যেই।