এবার আর্জেন্টিনা-মিশর লড়াই
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলো থেকেই। নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়েছে সেলেসাওদের। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নামছে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর। দুই দলেরই নকআউট পর্বের শুরুটা হয়েছে কঠিন পরীক্ষা দিয়ে। জয়ের হাসি হাসতে, লড়তে হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে কিংবা টাইব্রেকার পর্যন্ত। রিকভারির জন্য মেলেনি পর্যাপ্ত সময়। তাই কিছুটা ক্লান্তি নিয়ে এবার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। অনুমিতভাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এগিয়ে। তবে, প্রস্তুত উজ্জীবিত মিশরও।
শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে শুক্রবার কেইপ ভার্ড বাধা আর্জেন্টিনা পার হয় ৩-২ গোলে জিতে। তবে, ম্যাচটি লিওনেল স্কালোনির দলকে খেলতে হয়েছে ১২০ মিনিট। মিশরের সময় লাগে আরও বেশি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা সমতায় শেষের পর, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জেতে তারা। রিকভারির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া দুই দল, আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১০টায় মুখোমুখি হবে। কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের আগে অবশ্য আর্জেন্টিনা কিছুটা অস্বস্তিতে; নবাগত কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ওই দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে। গ্রুপ পর্ব আর্জেন্টিনা পার হয়েছিল, অনেকটা অনায়াসে। কিন্তু নকআউট পর্বের শুরুতে, কেইপ ভার্ড পরীক্ষায় নেয় স্কালোনির দলের। প্রতিপক্ষের প্রতিরোধের মুখে তাদের দুর্বলতাগুলো প্রকাশ পেয়ে যায়। ফলে, প্রশ্নও উঠতে শুরু করে, ওই ম্যাচের ভুলগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি আসলেই সেগুলো সত্যি। সত্যি হলে, মিশর সেটা কাজে লাগাতে চাইবে। ইএসপিএনের সাথে আলাপচারিতায়, আর্জেন্টিনার সাবেক স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরোর মনে হচ্ছে, কেইপ ভার্ডের চেয়ে মিশর আরও বেশি চ্যালেঞ্জ জানাবে মেসি-মার্তিনেসদের। “যে বিষয়টি এখন আমার চিন্তার কারণ, সেটি হচ্ছে, বিশ্রাম ও ভ্রমণের জন্য মাত্র চার দিন সময় আছে। অনেক খেলোয়াড়ের ক্র্যাম্প আছে এবং এখন আপনাকে মিশরের মুখোমুখি হতে হবে, যারা শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী। আমার মনে হয়, আক্রমণভাগে কেইপ ভার্ডের চেয়ে তাদের মান একটু বেশিই।”
কেইপ ভার্ড ম্যাচের পর মেসিও স্বীকার করেছিলেন, ক্লান্তির কথা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে আর্জেন্টিনা জোর চাপ দিতে না পারা নিয়েও হতাশা জানিয়েছিলেন অধিনায়ক। বলার অপেক্ষা রাখে না, ওই ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেইপ ভার্ডের পারফরম্যান্স অনুপ্রেরণার উপলক্ষ্য হবে মিশরের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে, রক্ষণে ভীষণ দৃঢ়তা দেখানো মিশর, নির্ভর করেছিল মোহামেদ সালাহ ও ওমার মার্মুশদের পাল্টা আক্রমণের উপর। একই কৌশল আফ্রিকান দলটি নিতে পারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও। ৭ গোল করা মেসি যেমন আর্জেন্টিনার জন্য, তেমনি মিশরের জন্য, শতভাগ ফিট সালাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট দুর্ভাবনা নিয়ে। ১২০ মিনিটের ওই ক্লান্তিকর ম্যাচে, অনেক সময় তাকে খুব একটা পুরো দমে ছুটতে আগ্রহী হতে দেখা যায়নি। আর্জেন্টিনা অবশ্য পুরো শক্তির মিশরকে ভাবনায় রেখে ছক কষছে। দলটির মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস যেমন সতীর্থদের সতর্ক করে দিলেন, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলে।
“এটা খুবই কঠিন একটা ম্যাচ হবে। আমরা ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে আছি এবং সব জাতীয় দলই খুবই ভালো এবং শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী।”
দলের পরিকল্পনা ও কৌশলের দিক থেকে মিশরের জন্য ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তারা এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর পেনাল্টি শুটআউটে জয়লাভ করে শেষ ১৬ নিশ্চিত করে ফারাওরা। সাম্প্রতিক ছয়টি ম্যাচে তাদের ঝুলিতে রয়েছে দুইটি জয়, তিনটি ড্র ও একটি পরাজয়। পরিসংখ্যানের নিরিখে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রভাবশালী। গত ছয় ম্যাচে তারা মোট ১৪টি গোল করেছে, যার বিপরীতে গোল?ছদ করেছে মাত্র দুইটি। তাদের প্রতি ম্যাচে গোল করার গড় ২ দশমিক ৩৩ এবং গোল হজমের গড় মাত্র ০ দশমিক ৩৩। অন্যদিকে মিশর তাদের শেষ ম্যাচে ৮টি গোল করার পাশাপাশি ৬টি গোল হজম করেছে, যা তাদের রক্ষণভাগের কিছুটা দুর্বলতা প্রকাশ করে। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত রেটিং ও দক্ষতার দিক থেকেও ল্যাটিন আমেরিকার দলটি অনেক এগিয়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের গতি যেকোনো রক্ষণব্যূহের জন্য বড় হুমকি। তবে মিশরীয়রা কাউন্টার অ্যাটাক ও গতিশীল ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন ডিফেন্সকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ এবং মিশরের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ ধরা হয়েছে, আর বাকি ২০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর।আটলান্টার এই ঐতিহাসিক মাঠে যে দলই জয়ী হবে তারা সরাসরি পৌঁছে যাবে শেষ আটে। আর পরাজিত দলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন এখানেই থমকে যাবে।
