ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা থামিয়ে শেষ আটে নরওয়ে

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

ম্যাচ শুরুর আগে প্রশ্ন ছিল গত দুই দশকে যা পারেনি। এবার কি সে অসম্ভবকে সম্ভবে পরিনত করতে পারবে? কিন্তু নাহ! এবারও পারল না। ২০০২ সালের পর থেকে নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ মানেই বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি ব্রাজিলের। দুই দশক পরেও ব্যতিক্রম ঘটেনি সে তিক্ত অভিজ্ঞতার। শুরুতে পাওয়া পেনাল্টি কিংবা এন্দ্রিক- মার্তিনেল্লিদের পাওয়া সহজ সুযোগ, ভাগ্যটাও আজ ছিল সেলেসাওদের বিপক্ষে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন ব্রুনো গিমারায়েস। দ্বিতীয়ার্ধে গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলান্ডকে একা পেয়েও জাল খুঁজে নিতে পারলেন না এন্দ্রিক। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করার কড়া মাশুল গুণতে হলো ব্রাজিলকে। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। গোলপোস্টের নিচে নিলান্ডের দৃঢ়তার সঙ্গে শেষদিকে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের সুবাদে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় গত রোববার মধ্যরাতে নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে আরেকটি পেনাল্টি থেকে বদলি নামা নেইমারের লক্ষ্যভেদ কেবল সেলেসাওদের হারের ব্যবধানই কমায়।

সেলেসাওদের সামনে এমন এক পরিসংখ্যানগত জটিলতা দাঁড়িয়েছিল, যা তাদের বৈশ্বিক মর্যাদার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। কারণ নরওয়ের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসটা পুরোপুরি তাদের বিপক্ষে। এবারও সে অমীমাংসিত ধাঁধার সমাধান বের করতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। নরওয়ের সঙ্গে পাঁচবারের দেখায় এটি তাদের তৃতীয় হার, বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্বিতীয়। এর আগে ১৯৯৮ সালের আসরের গ্রুপ পর্বেও একই ব্যবধানে হেরেছিল তারা। দুই দলের বাকি দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। ১৯৯০ সালের পর এ প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়া ব্রাজিলের হেক্সা মিশন আরও একবার পড়ল মুখ থুবড়ে। অন্যদিকে, নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল নরওয়েজিয়ানরা। মাত্র ৩৪ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখলেও পাল্টা আক্রমণে গোলমুখে ভীতি ব্রাজিলই বেশি ছড়ায়। কিন্তু ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা ডুবিয়েছে তাদের। বিপরীতে, বলের দখল রেখে খেলা নরওয়ের অল্প সংখ্যক সুযোগ পেলেও তা দারুণভাবে কাজে লাগান হালান্ড। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে ৭ গোল নিয়ে যৌথভাবে এবারের আসরের গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠলেন তিনি।

ম্যাচে থিতু হওয়ার আগে তৃতীয় মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বল পাঠান প্যাট্রিক বার্গ। তবে নরওয়ের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ স্থায়ী হয় কিছুক্ষণ মাত্র। বার্গকে পাস দেয়া আলেক্সান্ডার সরলথ অফসাইডে থাকায় বাতিল হয় গোলটি। ব্রাজিলের সামনে লিড নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ আসে ডি-বক্সে মাথেউস কুনিয়াকে ক্রিস্টোফার আইয়ের ফেলে দিলে। শুরুতে আবেদনে সাড়া না দিলেও পরে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে ১৪তম মিনিটে গিমারায়েস স্পট-কিক থেকে হন ব্যর্থ।