যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ে আজ নাচছে পুরো বিশ্ব : ইরান
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বাগতিকদের স্বপ্নভঙ্গের পর শুধু বেলজিয়ামের সমর্থকরাই নয়, উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে পৃথিবীর আরেক প্রান্তের অন্য একটি দেশ, ইরান। বেলজিয়ামের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই পরাজয়ের পর তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপজুড়ে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার রেশ টেনে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, ‘আজ রাজনীতির অপমানজনক পরাজয় উদযাপন করে পুরো বিশ্ব নাচছে।’ এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি সরাসরি খোঁচা হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ছিল স্পষ্ট। তিন ম্যাচেই ড্র করে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল ইরান। তবে দলটির দাবি, টুর্নামেন্টজুড়ে তারা স্বাগতিক দেশের কাছ থেকে ন্যায্য আচরণ পায়নি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিদায় নেওয়ার পরও সেই ক্ষোভ ভুলতে পারেনি ইরান। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়কে তারা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের ফল নয়, বরং ‘রাজনীতির পরাজয়’ হিসেবে তুলে ধরেছে।
ইরানের ক্ষোভের বড় কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের একটি মন্তব্য। ইরানের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি খুব খুশি যে ইরান বিদায় নিয়েছে এবং তারা আর ফিরছে না। তাদের ভিসা বাতিল করে দেশে পাঠাতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। হয়তো একটা-দুটো গানও গেয়েছি, এমনকি আনন্দে নেচেছিও।’ তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। মুলিনের মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মিথ্যা ও বৈরী আচরণের সঙ্গে ইরানিরা বহুদিন ধরেই পরিচিত। তাই এ ধরনের মন্তব্যে আমাদের কেউ বিস্মিত নয়।’ আরও বলা হয়, ‘এই বক্তব্য প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক আইন কিংবা বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের স্বাগতিক দেশের যে দায়িত্ব থাকা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তার মধ্যে তার কোনো প্রতিফলন নেই। একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ্যে একটি দলের বিদায় উদযাপন করছেন- এটি আমাদের নয়, বরং তারই পরিচয় বহন করে।’
বিশ্বকাপে ‘অমানবিক আচরণের’ অভিযোগ
বিশ্বকাপ চলাকালীন নিজেদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ইরান। ফেডারেশনের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাদের নির্ধারিত ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ ১১ জন কর্মকর্তা ও স্টাফকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে তারা। ইরানের ভাষ্য, এসব সিদ্ধান্ত খেলাধুলার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
বালোগুন বিতর্কেও নতুন আগুন
দুই দেশের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার কথা ছিল তার; কিন্তু শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। ফিফা শেষ পর্যন্ত বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত রাখে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বেলজিয়ামেরও কটাক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ের পর বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রাও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। চতুর্থ গোলের পর তারা মাঠেই ট্রাম্পের বহুল আলোচিত নাচের ভঙ্গি নকল করে উদযাপন করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে তিন স্বাগতিক দেশই বিদায় নিল শেষ ষোলোতেই। এর আগে কানাডা ও মেক্সিকোও একই পর্ব থেকে ছিটকে যায়। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে টুর্নামেন্টের বাকি অংশে কোনো স্বাগতিক দল আর নেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যর্থতার পর প্রধান কোচ মওরিসিও পোচেত্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
