বীরের বেশে দেশে ফিরল স্পেন
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয়েছিল উৎসব! হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি, চোখে স্বপ্নপূরণের আনন্দ আর মুখে বিজয়ের হাসি-স্পেনের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস যেন বলে দিচ্ছিল, ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। সেই উদযাপন এবার পৌঁছে গেছে নিজ দেশে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বহনকারী বিমান মাদ্রিদে অবতরণ করতেই নতুন করে শুরু হয়েছে উৎসব, যার অপেক্ষায় ছিল পুরো স্পেন। গতকাল সোমবার বিমানবন্দরে নামার আগেই অধিনায়ক রদ্রি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন।
সেই দৃশ্য যেন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে লাখো সমর্থকের হৃদয়ে। বিমান থেকে নেমে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, রদ্রি, পাউ কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়াসহ দলের অন্য সদস্যরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান বিশ্বজয়ের প্রতীক সেই ট্রফি নিয়ে। ১৬ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিরোপা ঘরে ফেরায় তাদের হাসিতে ছিল গর্ব, স্বস্তি আর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের অনুভূতি।
মাদ্রিদজুড়ে এখন উৎসবের প্রস্তুতি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ছাদখোলা বাসে বিজয় শোভাযাত্রার আগে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে সংবর্ধনা জানাবেন। রাজকীয় এই আয়োজন স্পষ্ট করে দিচ্ছে, স্পেনের কাছে এটি শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়; বরং জাতীয় গৌরবের উপলক্ষ। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল লামিনে ইয়ামালের পরিবারের সঙ্গে উদযাপন। মাঠেই ছোট ভাই কেইনকে নিয়ে ট্রফি হাতে দৌড়েছেন এই তরুণ তারকা। কখনো ভাইয়ের কোলে লাফিয়ে উঠেছেন কেইন, কখনো নিজেই হাতে নিয়েছেন বিশ্বকাপ ট্রফি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সেই মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইয়ামাল, গাভি, কুবারসি ও কুকুরেয়াদের সঙ্গে ছোট্ট কেইনের ফুটবল খেলাও হয়ে উঠেছে বিশ্বজয়ের অন্যতম হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য। তবে আনন্দের এই আবহে নেমে এসেছে বেদনার ছায়াও। বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপন চলাকালে স্পেনের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ফোয়ারার কাঠামো ধসে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। যে রাতে পুরো দেশ আনন্দে মেতেছিল, সেই রাতই একটি পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে গভীর শোকের। বিশ্বজয়ের উৎসবের মাঝেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে!
ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। কিন্তু ট্রফি জয়ের পরের ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিল, ফুটবল শুধু মাঠের ৯০ বা ১২০ মিনিটের গল্প নয়। এটি মানুষের আবেগ, পরিবারের আনন্দ, একটি জাতির গর্ব এবং কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত বেদনারও নাম। ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘরে ফেরা তাই শুধু ট্রফি নিয়ে ফেরার গল্প নয়। এটি এমন এক দেশের গল্প, যেখানে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে উৎসব করছে, রাজপ্রাসাদ প্রস্তুত বিজয়ীদের বরণে, আর একই সময়ে একটি দুর্ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে-সবচেয়ে বড় আনন্দের মধ্যেও জীবন কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়।
