পেসত্রয়ীসহ পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

চোট, বিশ্রাম, বিরতি- সবকিছুর পালা শেষে অনেক দিন পর অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড।

সম্ভাব্য সেরাদের নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণা করেছে তারা। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স যেমন ফিরেছেন চোট কাটিয়ে, তেমনি আবার বল হাতে ছুটবেন জশ হেইজেলউড ও ন্যাথান লায়ন। চোট-জর্জর বোলিং আক্রমণে গত মৌসুমে অসাধারণ পারফর্ম করা মিচেল স্টার্ক তো আছেনই। দুই ম্যাচের জন্য মাত্র ১৩ জনকে রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। যেটির মানে, কোনো ম্যাচেই সেভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ বেছে নিচ্ছে না অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট।

টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের সঙ্গে তলানির দিকের দলের এই লড়াই শুরু হচ্ছে আগামী ১৩ অগাস্ট ডারউইন টেস্ট দিয়ে। পরের টেস্ট ম্যাকাইয়ে ২২ অগাস্ট থেকে।

এই সিরিজ দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের ব্যস্ততম সময়ও শুরু হবে এই সিরিজ দিয়েই, যেখানে ১১ মাসের মধ্যে খেলবে তারা ২০ টেস্ট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে ম্যাচ হবে ২১টি। অস্ট্রেলিয়ার সবশেষ টেস্ট খেলেছে গত জানুয়ারিতে অ্যাশেজের সিডনি টেস্ট। সেখানে চোটের কারণে ছিলেন না কামিন্স, হেইজেলউড ও লায়ন।

ওই টেস্টসহ অ্যাশেজে তিন টেস্ট খেলে দারুণ পারফর্ম করা মাইকেল নিসার দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাইরে চলে গেলেন মূল ক্রিকেটারররা ফেরায়। নিসারের সঙ্গে এই সিরিজের স্ট্যান্ড বাই তালিকায় রাখা হয়েছে সিডনিতে ওই টেস্টের স্কোয়াডে থাকা পেসার ব্রেন্ডান ডগেট ও অফ স্পিনার টড মার্ফিকে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি বললেন, মূল বোলিং আক্রমণকে একসঙ্গে ফিরে পেয়ে তারা রোমাঞ্চিত।

“প্যাট (কামিন্স), জশ (হেইজেলউড) এবং ন্যাথানের (লায়ন) প্রত্যাবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে এনএসপি (জাতীয় নির্বাচক প্যানেল)। তারা নিজ নিজ চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য গত কয়েক মাস ধরে ব্যক্তিগতভাবে এবং এসএসএসএম (স্পোর্টস সায়েন্স, স্পোর্টস মেডিসিন) দলের সাথে প্রচণ্ড কঠোর পরিশ্রম করেছে। যদিও এটি ১৩ সদস্যের একটি দল, এই ম্যাচগুলোর আগে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আমাদের ক্রিকেটাররা প্রস্তুত থাকবে ও সবাইকে পাওয়া যাবে।”

ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে টিকে গেছেন জেইক ওয়েদেরল্ড। তবে অ্যাশেজে ১০ ইনিংসে মাত্র একটি ফিফটি করা ওপেনারের জন্য বাংলাদেশ সিরিজ হবে একটি পরীক্ষা। ভালো করতে না পারলে হারাতে হতে পারে জায়গা। অ্যাশেজে কিছুটা সম্ভাবনার যে ঝলক দেখিয়েছেন ওয়েদেরল্ড, সেটিই সামনে ভালোভাবে দেখতে চান প্রধান নির্বাচক।

“ওই (অ্যাশেজ) সিরিজে এমন কিছু মুহূর্ত ছিল যেখানে জেইক এবং ট্র্যাভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দল হিসেবে তাদের খেলাটা আমাদের ভালো লেগেছিল। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও জেইক যখন তার সেরা ফর্মে ছিল, তখন তাকেও ওই সিরিজে দারুণ লাগছিল।

তাই আশা করি, আগের থেকে আমরা তার উন্নতি দেখতে পাব এবং টেস্ট পর্যায়ে সাফল্য পেতে কী প্রয়োজন, সে সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হবে।”

তিন নম্বরে টিকে গেছেন মার্নাস লাবুশেন। তবে গত সাত ইনিংসে ফিফটি করতে না পারা ও ৪০ ইনিংসের সেঞ্চুরি খরায় থাকা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের সামনেও সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। চারে যথারীতি স্টিভেন স্মিথ। সবশেষ টেস্টে পাঁচে খেলা উসমান খাওয়াজা এখন অবসরে। তবে সেখানে নতুন কাউকে নেওয়া হয়নি। সম্ভবত ক্যামেরন গ্রিনকে খেলানো হবে পাঁচে। সেক্ষেত্রে আরেক পেস বোলিং অলরাউন্ডার বাউ ওয়েবস্টারকেও দেখা যেতে পারে একাদশে।

ছয়ে অ্যালেক্স কেয়ারি, সাতে ওয়েবস্টার। এরপর কামিন্স, স্টার্ক, লায়ন ও হেইজেলউড। বাড়তি পেসার হিসেবে স্কোয়াডে থাকছেন স্কট বোল্যান্ড, বাড়তি কিপার-ব্যাটার জশ ইংলিস।