ফিফার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর স্পেনের উদ্যাপন ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার আচরণ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। জড়িত খেলোয়াড় বা কোচরা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন; জরিমানা হতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরও।
কিন্তু এই তদন্তের খবর শুধু ম্যাচণ্ডপরবর্তী বিশৃঙ্খলার গল্প নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে; ফাইনালের সবচেয়ে বড় রাতে আর্জেন্টিনার কী হয়েছিল? বাংলাদেশের কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থক যে দলকে চেনেন; শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো, আবেগকে শক্তিতে পরিণত করা, মেসির এক ঝলকে ম্যাচ বদলে দেওয়া; সেই আর্জেন্টিনা কেন স্পেনের বিপক্ষে দেখা গেল না?
বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ বাঁশির পর স্পেনের খেলোয়াড়েরা যখন বিশ্বকাপ জয়ের উদ্?যাপনে ছুটছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠে বসে পড়েন বা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এরপর নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার নাম জড়িয়ে পড়ে উত্তেজনার ঘটনায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, পরে ঘটনাটি দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্কালোনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে এসেছে। বিবিসির ম্যাচণ্ডপরবর্তী বিশ্লেষণে অ্যালান শিয়ারার বলেন, হার কতটা কষ্টের তা বোঝা যায়, কিন্তু হারারও একটি পদ্ধতি আছে। জো হার্টও আর্জেন্টিনার আচরণকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, ফাইনালের হার শুধু ফলের কারণে নয়, আচরণের কারণেও আর্জেন্টিনাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এই আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবি বোঝা যাবে না। ফাইনালের আগেই আর্জেন্টিনা ছিল চাপের মধ্যে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ‘খধং গধষারহধং ংড়হ অৎমবহঃরহধং’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার ধরে উদ্?যাপন করেন। সেই রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও ফিফা আর্জেন্টিনার আচরণ পর্যালোচনা করছিল বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
এটি সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার একক কারণ; এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই। তবে বড় ফাইনালের আগে এমন বিতর্ক দলের চারপাশে বাড়তি আবেগ, চাপ ও মনোযোগ তৈরি করে। তার ওপর ছিল শিরোপা ধরে রাখার চাপ, মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, আর ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের মর্যাদা ধরে রাখার প্রত্যাশা।
