বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিং ফিফা জানাল ভিত্তিহীন

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ তুলে। ৪৮ দলের এই বড় আসরে ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলেও, শেষ পর্যন্ত সব অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করেছে ফিফা।

টুর্নামেন্টজুড়ে উত্তেজনা আর বিতর্ক থাকলেও, মাঠের ফুটবলের সততা অটুট রয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের বেটিং প্যাটার্ন, মাঠের ঘটনা ও সব ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ম্যাচেই সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম বা ফলাফল কারসাজির কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ফিফা।

এই তদন্তে যুক্ত ছিল এফবিআই, ইন্টারপোল, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর, কাউন্সিল অব ইউরোপ, ইন্টারন্যাশনাল বেটিং ইন্টেগ্রিটি অ্যাসোসিয়েশনসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিফার সিনিয়র ইন্টেগ্রিটি ম্যানেজার লিয়াম রিচ। তিনি বলেন, এই ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টগুলোতেও চালু থাকবে, এমনকি আগামী নারী বিশ্বকাপেও। তবে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ছাড়াও কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনা টুর্নামেন্টে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রেফারিং নিয়ে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তীব্র অভিযোগ তুলেছিল। আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর মিশরের কোচ হোসাম হাসান দাবি করেন, লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে ফিফা পক্ষপাতিত্ব করেছে। ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা এ অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

আরেকটি ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে যখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের একটি পোস্টে লাইক দেওয়া হয়। এ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়, কিন্তু ফিফার তদন্তে এটিকেও ম্যাচ ফিক্সিং বা বেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা যায়নি। এদিকে আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ফিফার দুটি আলাদা তদন্ত এখনো চলছে।

প্রথমটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর ‘লাস মালভিয়ানস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে। ফিফা দেখছে, এটি রাজনৈতিক বার্তা কি না। দ্বিতীয় তদন্ত স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পর সংঘর্ষ নিয়ে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এ ঘটনায় প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।