অস্ট্রেলিয়ায় যোগ্যতার ছাপ রাখতে চান শান্ত
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য এই টেস্ট সিরিজ শুধু দুটি ম্যাচের লড়াই নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাবনারও একটি পরীক্ষা! দীর্ঘ ২৩ বছর পর দেশটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই সিরিজের ফলাফলের পাশাপাশি মাঠের ক্রিকেট দিয়েই নিজেদের যোগ্যতার ছাপ রাখতে চান টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিশ্বাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ তৈরি হবে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু জয় নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াও। শান্ত একই সঙ্গে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের বাড়তে থাকা প্রত্যাশাকে ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের প্রতিও পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ভিন্ন এক দৃশ্যের জন্ম দেন শান্ত। প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হওয়ার আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি-অস্ট্রেলিয়া সফরে সংবাদমাধ্যমের প্রত্যাশা কী? একজন ‘ভালো খেলা’ বললে রসিকতা করে শান্ত বলেন, ‘আমি এমন কথা বললে পছন্দ হতো?’ পরে একজন সাংবাদিক ‘সম্মান নিয়ে ফিরতে চান’ মন্তব্যের কথা উল্লেখ করলে সেটিই যেন আলোচনার সুর নির্ধারণ করে দেয়।
সফরের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে কীভাবে আমরা ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করতে পারি। ওখানে যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই তারা আবার ভবিষ্যতে (খেলার জন্য) আমন্ত্রণ জানাবে।’
তবে লক্ষ্য যে শুধু সম্মান অর্জনেই সীমাবদ্ধ নয়, সেটিও স্পষ্ট করে দেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘প্রতিটা ম্যাচই জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ওদের কতটুকু কঠিন সময় দিতে পারি, এই জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা এমন দুইটা ম্যাচ খেলতে পারি, ভবিষ্যতে দেখা যাবে আরও বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’ বাংলাদেশের জন্য এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলবে দল। দুই দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। এমন বাস্তবতায় এই সফরে নেতৃত্ব দেওয়াকে সৌভাগ্য হিসেবেই দেখছেন শান্ত, ‘আমার মনে হয়, খুবই ভাগ্যবান অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের সঙ্গে টেস্ট খেলতে পারছি। গত ২৩ বছরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল, যদিও আমরা টেস্টে ভালো ক্রিকেট খেলিনি।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেস্টে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতির কারণে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে বলে মনে করেন শান্ত। এই পরিবর্তনকে দেশের ক্রিকেটের একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘একটা ভালো জিনিস যে আমাদের দর্শকেরা প্রতিটা সিরিজে অনেক প্রত্যাশা করে। তারা আশা করে আমরা প্রতিটা ম্যাচ জিতব, এটা একটা ইতিবাচক দিক। ২৩ বছর আগে হয়তো এই জিনিসটা ছিল না। আমি যদি অর্জনের কথা বলি তাহলে এটা একটা ভালো অর্জন যে এখন বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো দলের বিপক্ষে জেতার কথা চিন্তা করে।’ আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু ২২ আগস্ট. সাউথ ম্যাকায়েতে।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকেও অভিনন্দন জানান শান্ত। টি-টোয়েন্টিতে লিটনের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘লিটনকে অভিনন্দন। সে টি-টোয়েন্টি দলকে যেভাবে ভালো জায়গায় নিয়ে এসেছে, ওয়ানডে দলকেও ভালো জায়গায় নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস’ ওয়ানডে অধিনায়কত্ব নিয়ে নিজের নাম আলোচনায় এলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই বলেও জানান টেস্ট অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘তামিম ভাইয়ের সঙ্গে (অধিনায়কত্ব নিয়ে) আমার কথা হয়েছে, বিষয়টা পরিষ্কার ছিল। ম্যানেজমেন্ট দলের জন্য যেটা ভালো মনে করেছে, সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে।’
