অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট দল নিয়ে আশাবাদী সালাউদ্দিন

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট খেলার রোমাঞ্চ আর নাহিদ রানাকে না পাওয়ার আক্ষেপ, দেশের ক্রিকেটে দুটি স্রোতই এখন একসঙ্গে বহমান। কখনও কখনও তো নাহিদের জন্য হাহাকারের প্রবাহও বেশি তীব্র হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সালাউদ্দিনেরও সেই আক্ষেপ আছে। তবে সেখানেই পড়ে থাকতে চান না বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচ। জাতীয় দলের এই সদ্য সাবেক সিনিয়র সহকারী কোচের বিশ্বাস, মাথা খাটিয়ে বল করলে অন্য বোলাররাও ভালো করবেন অস্ট্রেলিয়ায়। নাহিদ অবশ্য এখন অস্ট্রেলিয়াতেই আছেন। তবে পার্থে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই দেশে ফিরে আসবেন তিনি। সেখানে তার সঙ্গে থাকা তাসকিন আহমেদ ডারউইনে যোগ দেবেন দলের সঙ্গে।

অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে চোটের কারণে নাহিদের ছিটকে পড়ার খবর পুরোনো। তবে দেশের ক্রিকেটে সেই আফসোসের হাওয়া বইছে এখনও প্রবলভাবেই। মিরপুরে গতকাল রোববার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সালাউদ্দিনও বললেন একই কথা। পাশাপাশি তিনি শোনালেন আশার কথাও। ‘সত্যি বলতে নাহিদ রানা থাকলে আমিও খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম যে, কবে দেখব নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের বাউন্সার মারছে। খেলার একটা উত্তেজনা নিয়ে আমি নিজেও অনেক রোমাঞ্চিত ছিলাম। যেহেতু হয়নি, এখন হাহুতাশ করে লাভ নেই। আমি মনে করি অন্য বোলার যারা আছে, তারা যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বল করতে পারে, তারাও অনেক ভালো করবে।’

নাহিদকে না পাওয়ার হতাশার মাঝেও একটি স্বস্তির খবর মিলেছে। চোটের কারণে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে শুরুতে লিটনকে কুমার দাসকে না রাখা হলেও পরে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুততায় উন্নতি করে তিনি দলে জায়গা করে নিয়েছেন। যদিও তার খেলা নিয়ে সংশয় পুরোপুরি কাটেনি। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সালাউদ্দিন বললেন, মোটামুটি খেলার মতো অবস্থায় থাকলেও লিটনকে নামিয়ে দেওয়া উচিত। ‘টেস্ট ম্যাচে হয়তো খুব হাই ইনটেনসিটিতে খেলা হয় না। একটা টেস্ট ম্যাচে হয়তো তিন রান বা চার রান খুব কম হয়, অনেক গতিতে দৌড়াতে হয় কম সময়ই। উইকেটকিপার হিসেবে তাকে হয়তো ৮০-৯০ বার স্প্রিন্ট টানতেও হবে না। সে যদি ব্যাটিংটা করতে পারে এবং রানিং বিটুউন দা উইকেটে মোটামুটি ভালো করে, আমার কাছে মনে হয়, সে যদি খেলার মতো অবস্থায় থাকে, তবে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে খেলানো যুক্তিযুক্ত হবে।’

গত ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে চোট পাওয়ার পর কোনো ধরনের ক্রিকেটেই আর খেলতে পারেননি লিটন। তবে সালাউদ্দিনের মতে, অভিজ্ঞতা নিয়েই ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি পুষিয়ে দিতে পারবেন ৫৪ টেস্ট খেলা ক্রিকেটার। ‘অভিজ্ঞতা আপনি কখনও ভুলবেন না। এটা স্মৃতিতে সবসময় থেকে যায়। হয়তো ওই মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটা খুব ভালো ব্যাপার যে সে আগেভাগে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, ওখানে গিয়ে মানিয়ে নিতে পারবে। কারণ, প্রায় ৪৫ দিন সে ম্যাচের ভেতরে নেই। সে যদি প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলতে পারে, তার জন্য অনেক ভালো হবে। তখন তার জন্য টেস্ট ম্যাচটা খেলা অনেক সহজ হয়ে যাবে। নাহলে সরাসরি টেস্ট ম্যাচে গেলে একটু অসুবিধা হতে পারে। তাই মানিয়ে নেওয়াটা তার দরকার।’

প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য লিটনের খেলার বাস্তব সম্ভাবনা সামান্যই। অস্ট্রেলিয়ায় তার পৌঁছানোর কথা আগামী মঙ্গলবার। ডারউইনে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি শুরু আগামী বৃহস্পতিবার। লিটন শেষ পর্যন্ত কোনো কারণে টেস্ট খেলতে না পারলে তার জায়গাটি নিতে পারেন জাকের আলি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত শুরুর পর পথ হারিয়ে তিনি দলে জায়গাও হারিয়েছিলেন। এবার দলে ফিরেছেন আবার। তার ওপর আগে থেকেই সালাউদ্দিনের ভরসা অগাধ। ঘরোয়া ক্রিকেটের সফল এই কোচ বললেন, বিপর্যয়ের মধ্যে লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার সামর্থ্য জাকেরকে দলে মূল্যবান করে তুলবে। ‘জাকেরের যে ক্যারেক্টার, মধ্যে সেই ক্যারেক্টারটা আমার মনে হয়, অনেক চাপের মধ্যে ছিল। তবে ক্রিকেটার হিসেবে, সে অনেক লড়াকু এবং মাঠে লড়াই করতে জানে। তার ভূমিকা সে ভালো জানে। বাংলাদেশের কিছু ব্যাটসম্যান আছে, যারা বোলারদের নিয়ে খেলতে পারে। আমাদের দেশে চার-পাঁচ উইকেট পড়ে গেলে সবারই বোলারদের নিয়ে খেলতে হয়। জাকেরের এই ভূমিকাটা খুব ভালোভাবে জানা আছে এবং সে অনেকবার এটা প্রমাণও করেছে। ওই অবস্থানে আমাদের ওরকম একজন ব্যাটসম্যান দরকার আছে। তার ভালো করার সুযোগ আছে এবং সে জানে, তার ভূমিকা অনুযায়ী তাকে কী করতে হবে।’

টেস্ট দল নিয়েও আশার কথা শোনালেন সালাউদ্দিন। শুধু অস্ট্রেলিয়া সফর নয়, পরের সিরিজগুলোতেও ভালো করে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ ওপরের দিকে জায়গা করে নিতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। ‘আমি টেস্ট দল নিয়ে সবসময় আশাবাদী। কারণ আমার কাছে মনে হয়, টেস্ট দল যারা খেলে তারা নিজেদের সম্পর্কে অনেক সচেতন এবং নিজেদের লক্ষ্য তারা ভালো করে জানে এবং অনেক গোছানো। এখানে ভালো না হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। তাদের ইচ্ছা বলেন এবং লক্ষ্য, তারা অনেক ভালো কিছু চিন্তা করে।

আমার মনে হয় বাইরের যে চারটি টেস্ট আছে, সেখান থেকে যদি আমরা কিছু ম্যাচ ভালো করতে পারি এবং দেশে বাকি চারটি ম্যাচ আছে, সেগুলো যদি জিতে যাই, তাহলে আমরা শীর্ষ এক, দুই বা তিনের মধ্যে থাকতে পারব।’ অস্ট্রেলিয়ার দুটি টেস্টের পর অক্টোবরে দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।

অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আছে আরও দুটি টেস্ট। আগামী মার্চে দেশের মাঠে দুটি টেস্ট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।