সাফল্য পেতে অনুশীলনে ব্যস্ত বাংলাদেশ
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাফল্য পেতে হলে শুধু প্রতিভা নয়, কন্ডিশনের সঙ্গেও লড়াই জিততে হবে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ডারউইনে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে এখন পুরো মনোযোগ অনুশীলনে, যেখানে প্রতিটি সেশন যেন অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পরীক্ষার জন্য নিজেদের আরও শাণিত করে নেওয়ার মঞ্চ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হতে এখনও কয়েক দিন বাকি। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য লড়াই যেন শুরু হয়ে গেছে তারও আগে। সেই লড়াই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নয়, বরং অচেনা উইকেট, ভিন্ন আবহাওয়া আর কঠিন কন্ডিশনের সঙ্গে। আর সে কারণেই ডারউইনের অনুশীলন মাঠ এখন যেন টাইগারদের প্রথম যুদ্ধক্ষেত্র।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি কাটিয়ে আজ দ্বিতীয় দিনেও অনুশীলনে কোনো ছাড় দেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সকাল থেকেই চনমনে মেজাজে মাঠে হাজির হয়েছেন সবাই। নুশীলনের আগে কেউ সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায়, কেউ আবার মাঠের পাশে বসে বিশ্রামে। তবে কোচিং স্টাফের ডাক পড়তেই মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্য।
প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ক্রিকেটারদের একত্র করে পরিকল্পনার কথা বুঝিয়ে দেন। এরপর শুরু হয় দৌড়, ফিটনেস ড্রিল, ক্যাচিং অনুশীলন এবং দীর্ঘ সময়ের নেট সেশন। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে দৌড়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিদ হাসান তামিম। পরে নেটে দুজনের মুখোমুখি লড়াইও দেখা যায়, যেখানে তানজিদকে বল করেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। থ্রোয়ারদের অতিরিক্ত গতির বলও সামলাতে হয়েছে ব্যাটারদের। স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ এবং ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও ছিলেন অনুশীলনের কেন্দ্রবিন্দুতে। শুধু নির্দেশনাই নয়, আশরাফুল নিজেও বল হাতে নেমে ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন। সাদমান ইসলাম, মুশফিকুর রহিম, তাইজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদদেরও আলাদাভাবে কাজ করতে দেখা গেছে।
এই সফরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের বড় ভরসা তাসকিন আহমেদ। নাহিদ রানার অনুপস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। তাকে সহায়তা করবেন হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও মুশফিক হাসান। অন্যদিকে স্পিন বিভাগে আছেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের অভিজ্ঞতা।
১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট, আর দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকেতে। বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে অস্ট্রেলিয়া যেখানে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতা নিয়ে শীর্ষে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। কাগজে-কলমে ব্যবধান যতই বড় হোক, সেই ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যেই এখন ডারউইনের প্রতিটি অনুশীলন সেশনকে ম্যাচের মতো গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনও কয়েক দিন বাকি, কিন্তু প্রস্তুতির লড়াইয়ে এক মুহূর্তও নষ্ট করতে রাজি নয় টাইগাররা!
