এবার ‘নতুন কুঁড়ি প্যারা স্পোর্টস’

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশব্যাপী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস হয়েছে। যেখানে হাজার হাজার ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন। এবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি প্যারা স্পোর্টস’ নামে দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান প্যারা গেমস ট্রেনিং ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এমন ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য শুধু প্রতিযোগিতা নয়, সারা বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’

এ সময় যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব উল আলম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) দৌলতুজ্জামান খান, ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের (এনপিসি) সভাপতি নাসিরুল ইসলাম, মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মারুফ এবং যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেনসহ প্যারা ক্রীড়াবিদরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। সুযোগ হলে তিনি নিজেই ওই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই ‘নতুন কুঁড়ি প্যারা স্পোর্টস’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দেশের ৬৪ জেলার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক কার্যক্রম চাই না। দেশের প্রতিটি জেলায় থাকা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিভাবান ছেলে-মেয়েদের খুঁজে বের করে খেলাধুলার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনতে চাই। এশিয়ান প্যারা গেমস, প্যারা অলিম্পিকসহ বিভিন্ন আসরে যেন তারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’ মো. আমিনুল হক আরও বলেন, ‘বর্তমানে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ জনকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এশিয়ান প্যারা গেমস বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী নতুন ক্রীড়াবিদদেরও পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে সন্তানকে অনেক পরিবার লজ্জার কারণে আড়ালে রাখে, সেই সন্তানই একদিন অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস বা প্যারা গেমসে বাংলাদেশের জন্য পদক এনে দিতে পারে। তাই তাদের নিয়ে লজ্জা নয়, গর্ব করার সময় এসেছে।’ তিনি জানান, ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করে তাদের আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের একটাই প্রত্যাশা, আপনারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য পদক এনে দেবেন। সেই পদকই হবে দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।’

স্টেডিয়ামের পরিবেশ দেখে হতাশ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী : ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামের পরিবেশ দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় তিনি স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন এবং কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে বলেন, জাতীয় স্টেডিয়ামপাড়াকে আধুনিক, নিরাপদ ও ক্রীড়াবান্ধব স্পোর্টস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে দ্রুত অভিযান শুরু হবে। মাদক, ছিনতাই, অবৈধ দখল ও অনিয়ম দূর করতে আগামীকাল (আজ) থেকেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া অবকাঠামোগুলো কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ হারিয়েছে।