অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানের ২ ‘বিদ্রোহী’ ফুটবলার

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি নারী এশিয়ান কাপ চলাকালে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছিলেন ইরানের ফুটবলাররা।

পরে সেই অবস্থান বদলালেও টুর্নামেন্ট শেষে দেশে ফিরতে কয়েকজন ফুটবলার রাজি হননি। অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে তারা রাজনৈতিক আশ্রয় চান। পরবর্তীতে নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলে দু’জন বাদে ইরানে ফেরেন বাকিরা। সেই দুই ফুটবলার এবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

মার্চে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার এতদিন পর নাগরিকত্ব পাওয়া ইরানের দুই ‘বিদ্রোহী’ ফুটবলার হলেন- ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আগেরদিন অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী টনি বার্ক অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরে আয়োজিত এক নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

ওই অনুষ্ঠানে দুই ফুটবলারের বন্ধু-বান্ধব, ভক্ত ও ব্র্রিসবেনের স্থানীয় ইরানিয়ান বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। বিবৃতিতে রামেজানিসাদে বলেন, ‘সত্যি বলতে বুধবার ছিল আমার জন্য বিশেষ ও অবিস্মরণীয় একটি দিন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি খুব গর্বিত ও কৃতজ্ঞতাবোধ করছি। অস্ট্রেলিয়া আমাকে নিজের জীবন এবং ভবিষ্যত গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আগের চেয়েও অধিক মনে হচ্ছে আমি এখানেই মানিয়ে গেছি।’ তবে ইরানি শেকড় ও স্মৃতিগুলো সবসময়ই নিজ সত্তার অংশ হয়ে থাকবে বলে মনে করেন এই ইরানিয়ান।

নাগরিকত্ব পাওয়া আরেক ইরানি ফুটবলার পাসানদিদেহ বলেছেন, বুধবারটি ছিল তার জীবনের অন্যতম আনন্দঘন একটি দিন। আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে তিনও অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। তার মতে, নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, এই মুহূর্তটির গুরুত্ব ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) বার্কের কার্যালয়ের কাছে দুই নারী ফুটবলারের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়াটি কেন ত্বরান্বিত করা হয়েছিল সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চায়। তখন তারা জানায়, গোপনীয়তার কারণে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগ। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার শরণার্থী বিষয়ক শীর্ষ সংগঠন ‘রিফিউজি কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া’ জানিয়েছে, সাধারণত নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে শরণার্থীদের বৈধ ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় চার বছর বসবাস করতে হয়।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ফুটবল খেলার যোগ্যতা অর্জনে দেশটির আইন অনুসারে তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘উইমেনস এশিয়া কাপ’ থেকে বিদায়ের পর সাতজন ইরানি ফুটবলার ও কোচ দেশটির আশ্রয় প্রার্থনা করেন। পরে অবিশ্বাস্যভাবে মত পরিবর্তন করে ফিরে যান পাঁচজন। অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া বাকি দুজন ‘ব্রিসবেন রোর’ ফুটবল দলে যোগ দেন। এই দলটি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ‘এ-লিগ উইমেনস’-এ খেলে থাকে।