শরীফুলকে নিয়ে স্বস্তি
বদলাবে কী বাংলাদেশের পেস পরিকল্পনা
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই টেস্টের সিরিজ শুরু হওয়ার আগে পেস আক্রমণে ধাক্কা এসেছিল শরীফুল ইসলামকে নিয়ে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে প্রথম টেস্টের দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। তার ওপর নাহিদ রানার চোটও বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। কিন্তু শরীফুলকে ঘিরে এখন গল্পটা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। চোট থেকে ফেরার প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত উন্নতি করছেন তিনি। ২৯ জুলাই থেকে নিয়মিত বোলিং শুরু করেছেন। ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে ওয়ার্কলোড। বোলিংয়ের ইনটেনসিটিও এখন শতভাগ। কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে না। ফলে প্রথম টেস্টে না হলেও দ্বিতীয় টেস্টে শরীফুলকে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। শরীফুলের জন্য এখন মূল পরীক্ষা শুধুই ‘ফিটনেস টেস্ট’ নয়। বরং টেস্ট ম্যাচের চাপ নেওয়ার মতো বোলিং ওয়ার্কলোড তিনি সামলাতে পারছেন কি না, সেটিই হয়ে উঠেছে আসল প্রশ্ন।
এই জায়গাটিই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির, আবার সতর্কতারও। বিসিবির ফিজিও মুজাদ্দেদ আলফা সানির বক্তব্য অনুযায়ী, চাইলে শরীফুল এখনই সাধারণ ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন। কিন্তু শুধু ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করলেই একজন পেসারকে পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচে নামিয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যেখানে একজন পেসারকে দীর্ঘ স্পেলে বারবার সর্বোচ্চ বা তার কাছাকাছি গতিতে বোলিং করতে হতে পারে।
সেখানেই ‘ওয়ার্কলোড’ শব্দটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একজন পেসারের চোট থেকে ফেরার ক্ষেত্রে শরীরের ব্যথা চলে যাওয়া বা দৌড়াতে পারার সক্ষমতা ফিরে পাওয়া একটি ধাপ মাত্র। ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়ার শেষ ধাপ হলো বোলিংয়ের পরিমাণ ও তীব্রতা ধীরে ধীরে সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেখানে ম্যাচের বাস্তব চাপ সামলানো সম্ভব। শরীফুল এখন সেই জায়গাতেই পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তার বোলিং ওয়ার্কলোড সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর কথা। জাতীয় দলের ফিজিওর তৈরি করা পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে তিনি টেস্ট খেলার উপযোগী বোলিংয়ের পরিমাণে পৌঁছাতে পারেন।
