মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এমনকি মেসিকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শুধু মেসি নন, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে এবং রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরও টুর্নামেন্ট চলাকালে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া পুলিশের একটি নথির বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে বোমা হামলার হুমকি, খেলোয়াড়দের অনুসরণ করা, অনলাইনে হুমকি ও হয়রানিসহ একাধিক গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।
সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের আগে। ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, তিনি ডালাস স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে আরও দুজন রয়েছে এবং তাদের কাছে ‘নিজ হাতে তৈরি বোমা’ ও একটি এআর-১৫ রাইফেল রয়েছে। ওই ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করার হুমকি দেন। পুলিশের নথিতে বিশেষভাবে লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মেসিকে নিয়ে আরেকটি ভয়াবহ হুমকি আসে ৭ জুলাই আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচের সময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি লেখেন, তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকতে যাচ্ছেন এবং শরীরে চারটি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেবেন।
একই দিনে স্টেডিয়ামে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে বলেও পুলিশকে ফোন করে জানানো হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ চলাকালীন ও ম্যাচের পর স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং কে-৯ ইউনিটের সদস্যরা নিরাপত্তা অভিযানে অংশ নেন। বিশ্বকাপের সময় শুধু মেসিই নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েননি। পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হিউস্টনে রোনালদো যে হোটেলে ছিলেন, সেই আবাসনের তথ্য জানার চেষ্টা করায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কানাডায় আবার এক ভক্ত রোনালদোর সঙ্গে একই লিফটে ঢোকার চেষ্টা করেন। এসব ঘটনাও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকেও বিশ্বকাপে বর্ণবিদ্বেষমূলক ও বিদেশিবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার হতে হয়। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে উত্তপ্ত সংঘর্ষের পর তাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কটূক্তি করা হয়। এমনকি ৪ জুলাই ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর দেশটির কিছু সমর্থক এমবাপে কুশপুত্তলিকাও পোড়ান। আর্জেন্টিনা ও মিসরের বিতর্কিত রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচের পর তীব্র হয় রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের ওপর অনলাইন হয়রানি। পুলিশের নথি অনুযায়ী, মিসরের হারের পর তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারের বেশি বার্তা পাঠানো হয়।
এ ছাড়া অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সোরলথ ও তার স্ত্রীও হুমকির শিকার হন। ম্যাচে গোল করার একটি সুযোগ নষ্ট করার পর তাদের উদ্দেশে হুমকি দেওয়া হয়। কলম্বিয়ার জামিন্তন কাম্পাজ এবং ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ের বিরুদ্ধেও ম্যাচণ্ডসংক্রান্ত ঘটনায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশ্বকাপ চলাকালে এসব ঘটনা নজরদারিতে রাখে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশন সেন্টার (আইপিসিসি)।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই কেন্দ্র সন্ত্রাসবাদণ্ডসংক্রান্ত সতর্কতা, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে হুমকি, বিশৃঙ্খল সমর্থকদের কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করে।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বরাবরই বড় বিষয়। তবে মেসি, রোনালদো, এমবাপেসহ একাধিক তারকার বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ হুমকির ঘটনা টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
