বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ অনিশ্চিত নতুন সময় খুঁজছে দুই বোর্ড

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

দিন গুনছিল বাংলাদেশ। ২৮ আগস্ট ঢাকায় আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, শুবমান গিলদের ঘিরে ছয় ম্যাচের সিরিজ নিয়ে মাঠের বাইরের প্রস্তুতিও ধীরে ধীরে গতি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত তারিখ যত কাছে এসেছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে-এই মুহূর্তে মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি আবারও পিছিয়ে যাওয়ার পথেই। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য পুরোপুরি হতাশ হওয়ার মতো খবর নয়। সিরিজ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি; বরং নতুন একটি সময় খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় যেতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

ছয় ম্যাচের এই সিরিজটি মূলত হওয়ার কথা ছিল গত বছরের আগস্টে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তখন সেটি স্থগিত করা হয়। পরে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকায় নতুন করে চলতি বছরের আগস্টে সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। ২৮ আগস্ট থেকে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার সূচিও তৈরি হয়। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট।

দুই বোর্ডের আলোচনাতেও ইতিবাচক অগ্রগতি ছিল। স্কটল্যান্ডে আইসিসির সভায় এবং পরে দুবাইয়ে আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির বৈঠকের সময় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়েছে। সেখানে সফর নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের অনাগ্রহের কোনো ইঙ্গিতও ছিল না।

কিন্তু শেষ সিদ্ধান্তটি যে শুধু ক্রিকেট বোর্ডের হাতে নেই, সেটিই আবার সামনে এসেছে। বিসিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বোর্ড মূলত সরকারের অবস্থানের দিকে তাকিয়ে ছিল। একইভাবে বিসিবিও দুই দেশের সরকারের মধ্যকার আলোচনার ওপর নির্ভর করছিল।

এর মধ্যেই গত বুধবার নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ায় দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ক্রিকেটীয় আয়োজন নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, সেটিও অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। দুই বোর্ডও বুঝতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আগস্টে সিরিজ আয়োজন করা কঠিন।

সিরিজের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও সম্প্রচারসহ আনুষঙ্গিক কোনো প্রক্রিয়াই সেভাবে এগোয়নি! এতেই পরিস্থিতির বাস্তব চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে সাধারণত যে বাণিজ্যিক ও সম্প্রচার-সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়, এবার সেটি কার্যত থমকে ছিল।

এখন তাই প্রশ্ন ২৮ আগস্টের সিরিজ হবে কি না, সেটি নয়; বরং নতুন তারিখ কবে হতে পারে। বিসিবি সূত্র বলছে, দুই বোর্ড শিগগিরই নতুন সময় নিয়ে আলোচনা করতে পারে। ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারি সম্ভাব্য সময় হিসেবে সামনে আসছে। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সূচি এবং ভারতীয় দলের ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে সেটি। বিপিএলের কারণে ওই সময় জায়গা না পাওয়া গেলে সিরিজটি আরও পিছিয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সফর সূচির কোনো একটি সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজটি সমন্বয় করা হতে পারে। এমনকি একটি সিরিজ পিছিয়ে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সফর, সিরিজ কিংবা অন্য কোনো ক্রিকেটীয় আয়োজনের সম্ভাবনাও থাকছে। তাই আপাতত ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের দরজা বন্ধ হচ্ছে না, শুধু নির্ধারিত দরজাটি খুলছে না। ২৮ আগস্টের জন্য যে সূচি তৈরি হয়েছিল, সেটি হয়ত আবার ক্যালেন্ডার থেকে সরে যাবে। কিন্তু ছয় ম্যাচের সেই লড়াইকে ভবিষ্যতের কোনো এক সময়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাই থাকবে দুই বোর্ডের!