এক ম্যাচে বদলে গেল তিন দলের বিশ্বকাপ ভাগ্য
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

এক দলের জয়, আরেক দলের বিশ্বকাপ নিশ্চিত; বিপরীতে একই ফলাফল আরেক দলের জন্য খুলে দিল বাছাইপর্বের দরজা! বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের জয় তাই কেবল একটি ওয়ানডের ফল নয়, ২০২৭ বিশ্বকাপের সমীকরণে ছিল বড় এক বাঁক। রশিদ খানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আফগানিস্তান বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছে। আর সেই জয়ের পর নিশ্চিত হয়ে গেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আবারও পেরোতে হবে বাছাইপর্বের পথ।
বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার দৌড়ে শেষ পর্যন্ত তিন দলের হিসাবই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল-আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। র্যাংকিংয়ের অঙ্কে আফগানিস্তান ছিল সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে। ৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তারা ছিল আট নম্বরে। বাংলাদেশ ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে নবম, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে।
এই অবস্থায় আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে আফগানিস্তান যখন নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল, তখন বাংলাদেশের পথও পরিষ্কার হয়ে গেল। কারণ বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের কারণে সরাসরি খেলার হিসাবটি শীর্ষ নয় দল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটে থাকলেও জিম্বাবুয়ে নেই সেরা দশে। ফলে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশকে আর পেছনে ফেলার সুযোগ থাকছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
ক্যারিবীয়দের সামনে অবশ্য শেষ সুযোগ হিসেবে ছিল ভারতের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে। কিন্তু সেই দুই ম্যাচ জিতলেও বাংলাদেশের ৮৩ রেটিং পয়েন্ট টপকে যাওয়ার মতো অবস্থায় যেতে পারবে না তারা। ৩০ সেপ্টেম্বরের কাট-অফ ডেট পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ থাকলেও বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিটের দৌড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর কোনো গাণিতিক সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশের এই স্বস্তি অবশ্য এসেছে মাঠের বাইরের একটি ফলের সূত্র ধরে। বাংলাদেশের নিজেদের কোনো ম্যাচ খেলতে হয়নি, কোনো জয়-পরাজয়ের অপেক্ষাতেও থাকতে হয়নি। বেলফাস্টে আফগানিস্তানের জয়ই যেন বাংলাদেশের হয়ে শেষ অঙ্কটি কষে দিয়েছে।
আফগানিস্তানের জন্যও ম্যাচটি ছিল সহজ নয়। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আয়ারল্যান্ড ২০৬ রানে অলআউট হওয়ার পর রান তাড়ায় শুরুতে ভালো অবস্থায় ছিল না আফগানিস্তান। ১৫৪ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে তারা চাপে পড়ে যায়। তখনই দলের হাল ধরেন রশিদ খান। ৪৩ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করে তিনি শুধু ম্যাচের গতিপথ বদলাননি, নিশ্চিত করেছেন দলের বিশ্বকাপযাত্রাও। তার আগে বল হাতে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৩১ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় তাই রশিদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও হয়ে উঠেছে স্মরণীয়। আফগানিস্তানের এই সাফল্যের পেছনে অবশ্য সিরিজের আগের ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর আফগানিস্তান সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। সেই ধারাবাহিকতাতেই তৃতীয় ম্যাচের জয় তাদের এনে দেয় বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এটি যেন পুরোনো দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নামতে যাচ্ছে। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর একটি হয়েও মূল বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে না পারাটা তাদের ক্রিকেটের বর্তমান বাস্তবতাকেই সামনে আনছে। বিশ্বকাপের সরাসরি খেলার হিসাবের সময়সীমাও এবারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত র্যাংকিং বিবেচনায় নেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা এগিয়ে এনে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। ফলে সেপ্টেম্বরের বাংলাদেশ-ভারত এবং ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল নতুন সমীকরণ। কিন্তু আফগানিস্তানের জয় সেই অপেক্ষার প্রয়োজনটাই শেষ করে দিয়েছে বাংলাদেশের জন্য।
বাংলাদেশ-ভারত তিন ওয়ানডের সিরিজ হওয়ার কথা ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে সিরিজটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভারত সফরে প্রথম দুটি ওয়ানডে হওয়ার কথা ২৭ ও ৩০ সেপ্টেম্বর। শেষ ম্যাচটি আবার কাট-অফ ডেটের দিনই। কিন্তু সেই সিরিজের ফল আর বাংলাদেশের ভাগ্য বদলাতে পারবে না। ২০২৭ বিশ্বকাপের ছবিটা এখন অনেকটাই স্পষ্ট।
