স্বপ্ন হলো বাস্তব, অস্ট্রেলিয়ায় হাসানের ইতিহাস!
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

কখনও কখনও ক্রিকেটের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো শুরু হয় নিঃশব্দে! কোনো স্টেডিয়ামের গর্জনের মধ্যে নয়, বরং একজন ক্রিকেটারের নিজের সঙ্গে করা একান্ত কথোপকথনে। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে হাসান মাহমুদও তেমনই একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন-এই দেশে অন্তত দুবার পাঁচ উইকেট নিতে চান। ডারউইনে আজ প্রথম সুযোগেই সেই স্বপ্নের দরজা খুলে দিলেন বাংলাদেশের এই পেসার! মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ছয় উইকেট নিয়েছেন হাসান। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং তো বটেই, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারেরও সেরা বোলিং। তার দুর্দান্ত স্পেলের সামনে মাত্র ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো পেসার এর আগে টেস্টে পাঁচ উইকেট নিতে পারেননি। এমনকি তিন সংস্করণ মিলিয়েও এই কীর্তি ছিল অধরা। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন হাসান। শুধু পাঁচ নয়, প্রথম সুযোগেই ছয় উইকেট নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। হাসানের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন বাংলাদেশের দুজন। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় মোহাম্মদ রফিক নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ২০১৭ সালে মিরপুরে একই কীর্তি গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান, তাও দুইবার। এবার সেই তালিকায় নতুন নাম হাসান মাহমুদ। তবে দিনের শুরুতে হাসানের সামনে এমন একটি স্পেলের কোনো আভাসই ছিল না। প্রথম ঘণ্টায় উইকেট না পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া হয়ত ভেবেছিল, বাংলাদেশি পেসারদের সামলে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু হাসান ধৈর্য হারাননি। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে টানা বল করে জেক ওয়েদারল্যান্ডকে অপেক্ষায় রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ড্রাইভ করতে গিয়ে তাঁর বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। এরপর ট্রাভিস হেডের পালা। হাসানের অতিরিক্ত বাউন্স ও মুভমেন্টে বিভ্রান্ত হয়ে নিজের স্ট্যাম্পেই বল টেনে আনেন হেড। প্রথম স্পেলেই দুটি উইকেট নিয়ে হাসান শুরু করে দেন অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয়ের গল্প। এরপর তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন নিজেদের কাজে যোগ দেন। দুজনের দুটি করে উইকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। কোনো ব্যাটারই দীর্ঘ সময় উইকেটে দাঁড়িয়ে স্বস্তি এনে দিতে পারেননি। একদিকে হাসানের ধার, অন্যদিকে তাসকিন-ইবাদতের চাপ-অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ক্রমেই ছোট হতে থাকে। মধ্যাহ্নভোজনের পর ফিরে হাসান আবার আঘাত হানেন। প্যাট কামিন্সকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে তৃতীয় উইকেট নেন। পরের ওভারেই একইভাবে মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন চার উইকেট। এরপর চা বিরতির পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তাঁকে নতুন বল তুলে দেন। অপেক্ষার অবসান ঘটে দ্রুতই। হাসানের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন স্টিভ স্মিথ। পূর্ণ হয় তার ফাইফার। শেষ উইকেটটিও নিজের করে নেন হাসান। নাথান লায়নকে ফিরিয়ে ৫৫ রানে ছয় উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের নামটি স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেন এই পেসার। হাসানের এই সাফল্য আরও বিশেষ, কারণ প্রতিপক্ষের মাটিতে টেস্টে তার তিনটি ফাইফারই এসেছে তিনটি ভিন্ন দেশে। ভারত, পাকিস্তানের পর এবার অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে প্রতিপক্ষের মাটিতে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিতেও এখন তিনি এগিয়ে গেলেন।
