‘সেঞ্চুরিটা যেহেতু স্পেশাল বাবা-মায়ের জন্য দিতে চাই’

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম টেস্টেই ইতিহাস গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ডারউইনে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে তুলে নিয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরি। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংস দিয়ে ফিরলেও তার ব্যাটে বাংলাদেশ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় লিডের ভিত। দিন শেষে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল নতুন বল সামলে প্রথম সেশন পার করা। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণও শুরু থেকেই চাপ তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে তানজিদ ও নাজমুল হোসেন শান্ত সেই চাপ সামলে এগিয়ে যান।

শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করে নিজের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন করেন তানজিদ।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে তানজিদ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো একটা দিন পার করেছি আমরা। পরিকল্পনা ছিল প্রথম সেশনটা কীভাবে পার করা যায়। ওরাও অনেক ভালো বোলিং করেছে। আমাদের চেষ্টা ছিল বাড়তি কিছু না করা। দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট। সামনে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়নের মতো বোলার-তারপরও কোনো নির্দিষ্ট বোলারকে আলাদা করে লক্ষ্য করেননি তানজিদ। বরং বলের গুণাগুণ বুঝেই খেলার চেষ্টা করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘আমি কখনও বোলার দেখে খেলিনি। আমি চেষ্টা করেছি বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার।’

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটা তানজিদের কাছে বিশেষ হওয়ার কারণও আছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে, তাদেরই মাটিতে এসে পাওয়া এই অর্জন তিনি উৎসর্গ করেছেন বাবা-মাকে। তানজিদ বলেন, ‘সেঞ্চুরিটা যেহেতু স্পেশাল, আমি আমার বাবা-মায়ের জন্য এটা দিতে চাই।’

সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ডারউইনের গ্যালারি থেকে দারুণ অভিবাদন পেয়েছেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের এমন সম্মানও ছুঁয়ে গেছে তাকে। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির মুহূর্তে সেই অভিজ্ঞতাকে টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যের অংশ হিসেবেই দেখছেন তানজিদ। তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই খুব ভালো লাগার মুহূর্ত ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটাই হয়তো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য। আজ সেটা সত্যিই অনুভব করেছি।’