ডারউইনে সাফল্য
ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে শান্ত-হাসান
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

শান্ত-হাসানদের উত্থানে ডারউইনের জয় পেল নতুন মাত্রা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়! বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে ডারউইনের সেই দিনটি আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এবার সেই ঐতিহাসিক জয়ের প্রতিফলন দেখা গেল ব্যক্তিগত র্যাঙ্কিংয়েও। অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর পর আইসিসির হালনাগাদ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে একসঙ্গে উন্নতি করেছেন বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। সবচেয়ে বড় আলোচনায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ম্যাচসেরা হাসান মাহমুদ এবং তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান। ডারউইন টেস্টে শান্তর ব্যাট থেকে এসেছিল ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৬ রান দূরে থামলেও র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নয় ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা ২০তম অবস্থানে উঠেছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শীর্ষস্থান এখনো মুশফিকুর রহিমের দখলে। ১৮ নম্বরে থাকা মুশফিক শান্তর চেয়ে আট রেটিং পয়েন্ট এগিয়ে। শান্তর পাশাপাশি এগিয়েছেন মুমিনুল হকও। ডারউইনে ৪৯ ও অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংস খেলা বাঁহাতি এই ব্যাটার পাঁচ ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ৩১ নম্বরে। তিন ধাপ উন্নতি করে ৫৮ নম্বরে আছেন সাদমান ইসলাম। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে ৫৯ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন। বিপরীতে পাঁচ ধাপ পিছিয়ে লিটন দাস নেমে গেছেন ২৮ নম্বরে।
তবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর উত্থান তানজিদ হাসান তামিমের। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলেই প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছিলেন এই ওপেনার। ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি তাকে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে দিয়েছে ৮৪ ধাপ। এক লাফে ১৭২তম অবস্থান থেকে ৮৮ নম্বরে উঠে এসেছেন তানজিদ। ডারউইনে বাংলাদেশের ৪২৬ রানের ভিত গড়ে দেওয়া ইনিংসটির জন্য র্যাঙ্কিংয়েও যেন মিলেছে বড় পুরস্কার। বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের গল্পটাও বাংলাদেশের জন্য কম চমকপ্রদ নয়। ডারউইনে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া হাসান মাহমুদই সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রে। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ছয় উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিন উইকেট-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে হাসানের ভূমিকা ছিল সরাসরি নির্ধারক। সেই পারফরম্যান্সের প্রতিদান হিসেবে ২৬ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৩৮তম স্থানে উঠেছেন তিনি। তাঁর রেটিং এখন ৫০৩। মেহেদী হাসান মিরাজও বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ২৪ নম্বরে উঠেছেন। প্রথম ইনিংসে উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান তোলার পথ আটকে দিয়েছিলেন এই অফ স্পিনার। ম্যাচের মোড় ঘোরানো সেই স্পেলই তাঁকে র্যাঙ্কিংয়ে আরও ওপরে তুলেছে।
বাংলাদেশের আরেক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম অবশ্য আগের অবস্থানেই আছেন। ১১ নম্বরে থেকে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। তাসকিন আহমেদ এক ধাপ এগিয়ে ৪৯ নম্বরে এবং ইবাদত হোসেন চার ধাপ উন্নতি করে ৮২ নম্বরে উঠেছেন। অন্যদিকে ডারউইনে ব্যর্থতার মূল্য দিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেডকে। দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২২ ও ১৭ রান। ফলে তিন ধাপ পিছিয়ে টেস্ট ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারিয়ে চারে নেমে গেছেন তিনি। নতুন এক নম্বর ব্যাটার হয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক। তার সতীর্থ জো রুট উঠেছেন দুইয়ে, আর অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ আছেন তিনে। ব্রুক ও হেডের ব্যবধান অবশ্য খুব বেশি নয়-মাত্র ৩৩ রেটিং পয়েন্ট! ডারউইনের জয় শুধু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেই নতুন অধ্যায় লেখেনি, ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাতেও একাধিক ক্রিকেটারের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন দরজা।
